৬ থেকে ৫ বছর বয়সীদের হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সের শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীন। তিনি বলেন, ‘এই বয়সের শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। তারা আগে এই টিকা নিয়ে থাকলেও তাদের আমরা আবার বুস্টার টিকার আওতায় আনছি।’
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনসচেতনতা বাড়াতে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গুজব প্রতিরোধে গণমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ প্রতিরোধযোগ্য রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
ইউনিসেফের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক মুহম্মদ হিরুজ্জামান, এনডিসি। কর্মশালায় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক অংশ নেন। এতে হামের বর্তমান পরিস্থিতি, সংক্রমণের ঝুঁকি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে মুহম্মদ হিরুজ্জামান বলেন, দেশে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে এবং এতে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, “আজকের শিশুরাই আগামী দিনের সুনাগরিক—তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।” এ সময় তিনি গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল তথ্য প্রচারের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজারের (ডাব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক আইভিডি কো-অর্ডিনেটর ড. বিনোদ কুমার বুড়া বলেন, বাংলাদেশ সরকারের দ্রুত পদক্ষেপে হামের প্রাদুর্ভাব অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তিনি টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা তুলে ধরে সবাইকে টিকাদানে উৎসাহিত করেন।
ইউনিসেফের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা হামের বিষয়ে নির্ভুল ও যাচাইকৃত তথ্য প্রচারের অঙ্গীকার করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। বিশেষজ্ঞরা এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
