×

স্বাস্থ্য

‘লাল মাংস’ শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৪, ১১:২৮ এএম

‘লাল মাংস’ শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর

ছবি: সংগৃহীত

কয়েকদিন পরই মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব ঈদুল আযহা। এ সময় মুসলিমরা পশু (গরু, ছাগল, দুম্বা) কোরবানির মাধ্যমে স্রষ্টাকে খুশি করার চেষ্টা করেন। ফলে এ সময় খাদ্য তালিকায় ‘রেড মিট’ বা লাল মাংস খাওয়ার পরিমাণও বেড়ে যায়। এ লাল মাংস স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর বা হৃদরোগীরা কী পরিমাণ খেতে পারবেন জেনে নিন সে খবর।

রেড মিট খাওয়ার পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন:

১. রেড মিটে প্রচুর এলডিএল কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড থাকায় রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

২. স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকায় রক্তনালিতে ব্লক সৃষ্টি করে, যার কারণে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হতে পারে।

৩. অতিরিক্ত রেড মিট খেলে বদহজম হতে পারে, গ্যাস্ট্রিক ও আলসারের সমস্যা বেড়ে যায়।

৪. টাইপ-টু ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

৫. বৃহদান্ত্র, ক্ষুদ্রান্ত, পাকস্থলি, কোলন, প্রোস্টেট ও স্তন ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

৬. আর্থাইটিস ও কিডনির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৭. শরীরে ক্ষতিকর ইউরিক এসিডের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারে।

৮. শরীরে ফ্যাট জমে ওজন বেড়ে যেতে পারে।

আরো পড়ুন:কাঁঠাল কেন খাবেন?

রেড মিট বা লাল মাংস সাধারণত গরুর মাংসে পাওয়া যায়। লাল মাংসে সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ বেশি থাকার কারণে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এটি গ্রহণে পেটের নাড়ির ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি থাকে। এ মাংস পাকস্থলী, অগ্নাশয়, খাদ্যনালি ও অন্ত্রের ক্যানসার সৃষ্টি করে। তবে লাল মাংস বা গরুর মাংস প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদানে পূর্ণ। এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন বা লোহা পাওয়া যায়, যা গর্ভবতী, বাড়ন্ত শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করে। এ লোহা বা আয়রন সহজে অন্ত্রে শোষিত হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি১২ আছে, যা রক্ত তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

এ মাংসে প্রচুর পরিমাণে উন্নতমানের প্রোটিন পাওয়া যায় যা দেহ গঠনে সাহায্য করে। গরুর মাংসে প্রচুর পরিমাণে জিংক নামক মিনারেল বা খনিজ পদার্থ থাকে, যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। চর্বি ছাড়া গরুর মাংসে অর্থাৎ লিনকাট মাংসে যেহেতু চর্বির পরিমাণ অনেক কম থাকে ও প্রচুর প্রোটিন থাকে, তাই তিন আউন্স চর্বি ছাড়া মাংসে মাত্র ১৮০ ক্যালরি শক্তি থাকে এবং এতে ১০টিরও বেশি জরুরি খাদ্য উপাদান থাকে।

তবে, যারা বেশি বেশি লাল মাংস, মিষ্টি জাতীয় খাবার ও ফ্রেন্স ফ্রাই বা আলু ভাজা খান তাদের হৃদরোগ, ক্যানসার ও অন্য কিছু কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। গরুর মাংস কেনার সময় মাংসের প্রাইম লেবেল দেখে কিনতে হবে। সিলেক্ট গ্রেডে অর্থাৎ লিনকাট মাংসে চর্বির মাত্রা কম থাকে। তাছাড়া গরু পালনের সময় শস্যদানা বেশি খাওয়ানো হলে সেসব গরুর মাংসে চর্বি বেশি থাকে। অন্যদিকে যেসব গরু পালনের সময় বিভিন্ন ধরনের ঘাস বেশি খাওয়ানো হয়, সেগুলোর মাংসে চর্বি কম থাকে ও বেশি পরিমাণে হৃদবান্ধব ‘ওমেগা-৩’ অসম্পৃক্ত চর্বি বেশি থাকে।

কম চর্বিযুক্ত রেড মিট শিশু, কিশোর, তরুণ ও গর্ভবতী নারীর জন্য পুষ্টিকর খাবার। তবে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রেডমিট রাখা যাবে না। সপ্তাহে একদিন বা দুদিনের বেশি এবং একসঙ্গে ২-৩ ছোট টুকরার বেশি রেডমিট খাওয়া যাবে না। একজন সুস্থ ব্যক্তি একদিনে ৮৫ গ্রাম রেডমিট গ্রহণ করতে পারেন কোনো সমস্যা ছাড়াই। এবং মাংস চর্বিমুক্ত হলে ১০০ গ্রামও খেতে পারবেন।

যারা ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছেন, তাদের রেড মিট  পরিহার করা উচিৎ। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুসরণ করতে হবে।

রেড মিট রান্না করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সঠিক পদ্ধতিতে রান্না করলে গুরুতর রোগের ঝুঁকি কমে যাবে। মাংস পুড়িয়ে বা অতিরিক্ত তেল-মশলা দিয়ে অনেকক্ষণ ধরে রান্না করা হলে সেটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বারবার গরম করা মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য একদমই ভালো না। এগুলো হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাকে ক্রমশ বাড়িয়ে তোলে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App