অসহ্য গরমে কী খাবেন, কী খাবেন না
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
দেশজুড়ে বাড়তে থাকা তাপমাত্রা ও তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন। প্রচণ্ড রোদ, অতিরিক্ত ঘাম ও গরমে অনেকেই ক্লান্তি, পানিশূন্যতা এবং নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। এমন পরিস্থিতিতে সুস্থ থাকতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং কিছু খাবার বেছে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের মতে, গরমের সময় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করার বিষয়ে। এজন্য পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। প্রয়োজন হলে ওরস্যালাইনও খাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় রোদে অবস্থান না করা, হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরা, ছাতা ব্যবহার এবং সানগ্লাস পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দুপুরের তীব্র রোদ এড়িয়ে চলাই ভালো।
খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গরমে অনেকের হজমশক্তি কিছুটা কমে যায়। তাই ভারী, অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। বাসায় তৈরি হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। নিরাপদ থাকতে রাস্তার খাবার কম খাওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
পানীয় হিসেবে চিনি মেশানো কোমল পানীয় বা কৃত্রিম পানীয়ের বদলে স্বাভাবিক পানি পান করাই উত্তম। এছাড়া লেবু-পুদিনার শরবত, বেলের শরবত, ঘোল ও ডাবের পানি শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়ক। কাঁচা আমের শরবতও গরমে উপকারী বলে মনে করা হয়, যা হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
গরমে পানিযুক্ত মৌসুমি সবজি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পটল, লাউ, ঝিঙা ও চিচিঙ্গার মতো সবজি শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং সহজে হজম হয়। তেতো খাবারের মধ্যে করলা বা নিমপাতা সংক্রমণ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলের মধ্যে তরমুজ, আঙুরসহ রসালো ফল খাওয়া উপকারী।
এ সময়ের উপকারী খাবারের তালিকায় রয়েছে পান্তা ভাত ও টকদই। পান্তা ভাত শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে এবং পানির ঘাটতি পূরণে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে টকদই শরীরকে শীতল রাখার পাশাপাশি শক্তি জোগায়। সকালের নাশতা বা দুপুরের খাবারে এটি রাখা যেতে পারে।
তবে গরমে কিছু খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ফাইবারযুক্ত কিছু খাবার যেমন ওটস বা কিনোয়া অনেকের হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এর পরিবর্তে ভাত, চিঁড়া বা সাবুর মতো সহজপাচ্য খাবার বেছে নেওয়া ভালো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমে সুস্থ থাকতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং রোদ থেকে সুরক্ষিত থাকাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
