×

শিক্ষা

ঢাবিতে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, আহত ৫

Icon

ঢাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৪, ১০:২৩ পিএম

ঢাবিতে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, আহত ৫

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মসজিদে রমজান বিষয়ক ধর্মীয় আলোচনার জের ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একদল শিক্ষার্থীর ওপর ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত আহত হয়েছেন পাঁচজন শিক্ষার্থী। 

বুধবার (১৩ মার্চ) দুপুরে জোহরের নামাজের পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাফ কোয়ার্টার বঙ্গবন্ধু টাওয়ারের ফটকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। 

হামলায় শাহবাগ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তাওহিদুল সুজন নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি ছাত্রলীগের মহানগর দক্ষিণ শাখার সাধারণ সম্পাদক সজল কুন্ডুর অনুসারী বলে জানা গেছে।  

ছাত্রলীগের এই হামলায় আহত হয়েছেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রেজোয়ান আহমেদ রিফাত, শাহীনুর আলম রাসেল, সাকিব আজাদ তূর্য, রাফিদ হাসান সাফওয়ান ও ফাহিম দস্তগীর। 

আহত ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, রমজান উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু টাওয়ারের নিচতলায় মসজিদে 'প্রোডাক্টিভ রামাদান' শীর্ষক আলোচনা করছিলেন আইন অনুষদের ১০-১২ জন শিক্ষার্থী। পরে ছাত্রলীগের কয়েকজন ও বঙ্গবন্ধু টাওয়ার কল্যাণ সমিতির সভাপতি সিরাজুল হক তাদের এভাবে আলোচনার অনুমতি নেই উল্লেখ করে চলে যেতে বলেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন তাওহিদুল সুজন। সেখান থেকে বের হওয়ার সময় টাওয়ার ফটকের সামনে মোটরসাইকেল থেকে কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালান। এতে অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন।  

আরো পড়ুন: জাবিতে গণ-ইফতার করে শিক্ষার্থীদের নীরব প্রতিবাদ

ঘটনায় আহত রেজোয়ান আহমেদ রিফাত বলেন, আমি গত ১০ তারিখে হংকং থেকে আন্তর্জাতিক মুটকোট প্রতিযোগিতা থেকে এসেছি। আইন বিভাগের ওখানে নামাজের তেমন জায়গা না থাকায় আমরা বঙ্গবন্ধু টাওয়ারের মসজিদে নামাজ পড়ি। জোহরের নামাজের পরে বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি আয়োজন ছিলো। পরে সেটি করতে দেবে না বলে জানানো হয়। যখন আমরা বের হতে যাই তখন আমাদের ওপর হামলা হয়। এখন আবার দেখতে পারছি আমাদের 'শিবির ট্যাগ' দেয়া হচ্ছে। আমাদের ওপর মারাও হলো আবার আমাদেরকেই ট্যাগ দেয়া হচ্ছে। 

মারামারির দুটি ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠি-সোঁটা দিয়ে ফটকের সামনে মারধর করার চিত্র। তবে কারা মারছে, তা স্পষ্ট বোঝা যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তাওহিদুল সুজনকে ফোন দেয়া হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। 

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু টাওয়ার কল্যাণ সমিতির সভাপতি সিরাজুল হক বলেন, আমরা তাদেরকে মসজিদে প্রোগ্রাম করতে দেইনি। পরে একপর্যায়ে তারা মসজিদ থেকে বের হয়ে চলে যায়।

এদিকে মসজিদে এই আয়োজনটি শিবিরের নেতাকর্মীরা করেছে এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি তাদের বাঁধা প্রদান করেন এমন উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত। 

আরো পড়ুন: বিশ্ববিদ্যালয় আইন লঙ্ঘন করে বেরোবিতে বিভাগীয় প্রধান নিয়োগ

হামলার ঘটনায় ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের ইন্ধন আছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তানভীর হাসান সৈকত বলেন, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার একটি আবাসিক এলাকা। সেখানে শিক্ষার্থীদের কীসের প্রোগ্রাম থাকে! তাদের তো আইন বিভাগে অনেক ক্লাসরুম আছে, আইন বিভাগে নামাজের জায়গা আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ আছে- সেগুলোতে না গিয়ে এখানে কেন? সে-ই মসজিদ থেকে তাদের বাঁধা দিলে এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু টাওয়ারের মানুষদের সঙ্গে তারা বাকবিতণ্ডা বাঁধিয়ে দেয়। 

গত কয়েকদিন থেকে শিবিরের ছেলেপেলেরা নামে-বেনামে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সেটি আর করতে দেয়া হবে না উল্লেখ করে সৈকত আরো বলেন, আমরা আজকে থেকে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকবো।

সার্বিক বিষয়ে ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাকসুদুর রহমান বলেন, এরকম একটি ঘটনা শুনেছি। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) আমরা বিষয়টি দেখবো, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেবো।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App