গভর্নর
বাংলাদেশের কাছে বিদ্যুতের ৮০ কোটি ডলার পায় আদানি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৪, ১১:২৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের কাছে ৮০ কোটি ডলার (৮০০ মিলিয়ন) পায় ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠী আদানি। মূলত গোষ্ঠীটির বিদ্যুৎ উৎপাদক কোম্পানি ‘আদানি পাওয়ার’ এই অর্থ পায়। ঝাড়খন্ডের গোড্ডায় অবস্থিত আদানির কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে যে বিদ্যুৎ পাঠানো হয়, সেই প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই অর্থ পায়।
মার্কিন সম্প্রচার মাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য নিযুক্ত গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, ‘আমরা যদি তাদের এই অর্থ পরিশোধ না করি, তারা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেবে।’ তবে এই বিষয়ে জানতে চাইলে আদানি গ্রুপের মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভ্যন্তরীণ আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী আদানি পাওয়ারের এখন পর্যন্ত সরবরাহ লাইন কাটার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে অর্থ না প্রদান করা হলে ঋণদাতা ও কয়লা সরবরাহকারীদের চাপের মুখে পড়তে পারে আদানি গ্রুপ। তারা জানিয়েছেন, এই সমস্যা সমাধানে আদানি পাওয়ার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে।
আরো পড়ুন: পাঁচ শীর্ষ ব্যবসায়ীর অবৈধ সম্পদের খোঁজে এনবিআর
ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোতে ক্রমেই নিজেদের জায়গা বিস্তার করছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত আদানি গ্রুপ। বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানে গোষ্ঠীটি নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চায়। কিন্তু অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে বিলম্বের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোষ্ঠীটির জন্য অর্থনৈতিক ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।
এর আগে ২০২২ সালে গৌতম আদানি একটি টুইট শেয়ার করেছিলেন। সেই টুইটে গোড্ডা পাওয়ার প্ল্যান্টের যাত্রা শুরুর কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন সম্পর্কেও আলোকপাত করা হয়। পরে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে গোড্ডা পাওয়ার প্ল্যান্ট উৎপাদন শুরু করে।
আদানি পাওয়ার ছাড়াও এনটিপিসি লিমিটেড এবং পিটিসি ইন্ডিয়া লিমিটেডসহ ভারতের কয়েকটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। সেই সংস্থাগুলোরও বাংলাদেশের কাছে কোনো অনাদায়ি বকেয়া আছে কি না সে সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
আরো পড়ুন: নগদের গ্রাহকদের উদ্দেশে যা বললেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারত চলে যাওয়ার পর দায়িত্ব গ্রহণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। অর্থনৈতিক কারণে নতুন সরকারের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, সামগ্রিক বকেয়া ২০০ কোটি ডলার। যার মধ্যে আছে এয়ারলাইনসের বকেয়া। যা অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।
৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। যা দিয়ে প্রায় তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। অন্তর্বর্তী সরকার এই অর্থনৈতিক অসুবিধাগুলো কাটিয়ে উঠতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রতিশ্রুত ৪৭০ কোটি ডলারের বাইরেও আরো ঋণ নেয়ার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, আমাদের বার্তাটি পরিষ্কার, আমাদের অর্থের প্রয়োজন। আমরা সব বকেয়া পরিশোধ করতে চাই।
