×

অর্থনীতি

ধনী ও অবৈধ টাকার মালিকদের রক্ষার বাজেট

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৪, ০৮:১৫ পিএম

ধনী ও অবৈধ টাকার মালিকদের রক্ষার বাজেট

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভা প্রধান তাসলিমা আখতার ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ২০২৪-২৫ সালে সরকারের ঘোষিত ৫৩ তম বাজেট ‘সুখী সমৃদ্ধ উন্নত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে অঙ্গীকার’ করেছে। কিন্তু এই সুখের ভাগিদার পোশাক শ্রমিকসহ শ্রমজীবী মেহনতি ও নিম্ন আয়ের মানুষের সুযোগ থাকবে না বলে তারা শঙ্কা প্রকাশ করেন।

তারা বলেন, ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেটে প্রশ্নাতীত ছাড় অবৈধ সম্পদের মালিক ব্যাক্তি-গোষ্ঠী-প্রতিষ্ঠান ও পাচারকারীদের দিয়েছে প্রস্তাবিত বাজেট। সাধারণভাবে বৈধ আয়কারীদের সবোচ্চ কর ২৫% থেকে বাড়িয়ে ৩০% করা হয়েছে। অন্যদিকে অবৈধ সম্পদ বা কালো টাকা সাদা করতে কর প্রস্তাব করা হয়েছে মাত্র ১৫%। ফলে নিয়মিত বৈধ করদাতাদের উপর চাপ বাড়বে। অবৈধ সম্পদের মালিক ও গোষ্ঠী এই সরকারের ছত্র ছায়ায় গড়ে উঠছে এবং তাদের রক্ষা করার জন্যই এই সমস্ত আয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন তারা। ২০২৪-২৫ এর বাজেট ‘অবৈধ সম্পদ আরোহনকারী তোষন ও রক্ষার’ বাজেট হিসাবে স্পষ্ট হয়েছে। এই বাজেট জনগণের স্বস্তির নয় বরং অবৈধ সম্পদ আরোহনকারীদের স্বস্তি ও দায়মুক্তির পথ প্রশস্ত করেছে- বলেন নেতৃবৃন্দরা।

নেতৃবৃন্দরা আরো বলেন, রপ্তানী আয়ের শীর্ষখাতের কারিগর পোশাক শ্রমিকসহ শ্রমজীবীদের জীবন যাত্রায় স্বস্তি আনতে কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ দেখা যায়নি বাজেটে। মূল্যস্ফীতির নিষ্ঠুরতার থেকে মুক্তি দিতে পোশাক শ্রমিক ও শ্রমজীবীদের জন্য রেশনিং ও শ্রমখাতে বরাদ্দ দাবি শ্রমিক সংগঠন থেকে উঠলেও সেটি এই বাজেটে তা লক্ষ্য করা যায়নি। নেতৃবৃন্দ বলেন, কৌশলে দ্রব্যমূল্যর দাম বাড়ানো ও কমানো হয়েছে। এই কৌশলে ভোগান্তির শিকার হবে সাধারণ মানুষ। এলপিজি গ্যাস ও সিএনজি গ্যাসের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের খাদ্য খরচ বাড়বে বাড়বে পরিবহন খরচ। এছাড়া চিকিত্‌সা সরঞ্জামের আমদানী দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ শ্রমজীবিরা চিকিত্‌সা সুযোগ থেকে আরো দুরে সরবে। একদিকে শ্রমজীবিদের জন্য প্রয়োজনীয় হাসপাতাল ও কমমূল্যে মানসম্মত চিকিত্‌সার সুযোগ নেই তার উপর চিকিত্‌তসা সরঞ্জাম এর দাম বাড়লে তার প্রভাবে শ্রমিকদের চিকিত্‌সা  বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে।

আরো পড়ুন: খেলাপি ঋণ ব্যাংক খাতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ

নেতৃবৃন্দরা আরো বলেন, সামাজিক সুরক্ষাখাত থেকে পোশাক শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষের সুবিধা বৃদ্ধির দাবি করলেও এবারো তার কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। এ যাবত যে ১ কোটি ফ্যামেলী কার্ড বিতরণ করা হয়েছে তা কাকে করা হয় জনগণের কাছে কোনো সুস্পষ্ট হিসাব নাই। যতদুর জানা যায় ফ্যামিলী কার্ড ক্ষমতাসীন সরকারের দলীয় আয়োজনে বন্টন করা হয়। এবারের বাজেটে খুব সামান্য ফ্যামিলী কার্ড বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও এখনো তা স্পষ্ট না। আগামীতে সামজিক সুরক্ষাখাতে পোশাক শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষরা রেশন, চিকিৎসা, আবাসন ও কম মূল্যে সব নিয়মিত দ্রব্য কিনতে পারবেন কি না সেটি বাজেটে ধোঁয়াশা আছে। কৌশলে দ্রব্যমূল্যর দাম কমানো-বাড়ানো হয়েছে যাতে শেষ পর্যন্ত শ্রমজীবী মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবার আশঙ্কাই সামনে আসছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, পুরো বাজেট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে দ্রুত আরো বিস্তারিত বাজেট প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কর্মসূচি করবেন তারা।

তারা আরো বলেন, পরোক্ষ কর ভ্যাটের উপর বাজেটের বড় অংশ নির্ভর করে। যে পরোক্ষ কর সাধারণ জনগণ দেয়। অথচ তাদের জীবন মান উন্নয়নে বাজেটে ভূমিকা অস্পষ্ট। তারা আরো বলেন, গত ৫ বছরের বাজেট গবেষকরা দেখিয়েছেন প্রায় ৬৫ ভাগ বাজেট আয় আসে পরোক্ষ কর থেকে। ফলে এবারো সরকারের ঘাটতি বাজেট ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকার দায় ভার টানতে ঘাটতির বোঝা দিন শেষে সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষের কাঁধেই চেপে বসবে। নেতৃবৃন্দরা অবৈধ আয় নিয়ন্ত্রণ এবং পোশাক শ্রমিকসহ শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের উপর করের চাপ (পরোক্ষ) কমানোর দাবি জানান। একইসঙ্গে তারা অধিক আয়ের ব্যাক্তিদের কর ছাড় নয় বরং তাদের আয় ও ব্যাবসার মুনাফার উপর প্রত্যক্ষ কর কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ বাজেটে পোশাক শ্রমিকসহ শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও সামাজিক সুরক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরির দাবি জানান।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App