রাশিয়ান মডেল মনিকা
আমি চলে গেলে এদেশে কোনো ফরেনার মেয়ে আসবে না
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আপনারা মেয়েদের ওপর পানি ফেলেন দেশে! এখানে কোনো ফরেনার মেয়ে আসবে না আমি চলে গেলে বলে মন্তব্য করেছে রুশ বংশোদ্ভূত মডেল মনিকা কবির।
সাম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে এক বৃদ্ধ পথচারীকে মারধরের ঘটনার পর সাধারণ মানুষের প্রতি চরম ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি।
ওই ঘটনার জেরে প্রকাশ্যে তাকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং আদালতে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
এক মুঠোবার্তায় নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে মনিকা কবির বলেন, ‘আপনারা মেয়েদের ওপর পানি ফেলেন দেশে! এখানে কোনো ফরেনার মেয়ে আসবে না আমি চলে গেলে, আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি। আমি বাংলাদেশকে অনেক অনেক... বাংলাদেশ আমাকে কষ্ট দিলে আমিও দিব বাংলাদেশকে কষ্ট। এভাবে চলবে না, আমি আপনাদের দেশের জন্য অনেক কিছু করেছি। আমি আপনাদের দেশের কালচারকে আমার দেশে রিপ্রেজেন্ট করেছি।’
গত মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় টিকটক ভিডিও ধারণ করছিলেন রুশ বংশোদ্ভূত মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সার মনিকা কবির। ভিডিও ধারণকালে এক বৃদ্ধ পথচারীর ব্যাগের কোনা অসাবধানতাবশত মনিকার গায়ে লাগলে তিনি মেজাজ হারান। অভিযোগ ওঠে, মনিকা ওই বৃদ্ধকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বৃদ্ধের ব্যাগটি ছুড়ে মেরে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, মনিকা নিজেই এই লাঞ্ছনার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরই প্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ), ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সাজ্জাদ আল ইসলাম বাদী হয়ে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মনিকা কবিরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
রাশিয়ায় জন্ম নেওয়া এবং মস্কোতে বেড়ে ওঠা এই মডেলের প্রকৃত নাম মারিয়া ভ্যালিরিয়েভনা, যাকে পারিবারিকভাবে ‘মনিশকা’ নামে ডাকা হয়। তার মা রুশ নাগরিক ম্যারিয়া গোজেন এবং বাবা একজন ভারতীয় চামড়া ব্যবসায়ী। বাবার ব্যবসায়িক সূত্রে ২০১২ সালে প্রথম বাংলাদেশে আসা মনিকার খোলামেলা পোশাক ও যত্রতত্র চলাফেরা নিয়ে আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা বিতর্ক ছিল। সাম্প্রতিক এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর সেই বিতর্ক ও জনরোষ এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে।
