অযত্ন, অবহেলায় খেলার অনুপযোগী সদরপুর স্টেডিয়াম
সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনের প্রাণকেন্দ্র সদরপুর স্টেডিয়াম এখন অযত্ন, অবহেলা আর নোংরা পরিবেশের চরম শিখরে পৌঁছেছে। গ্যালারিতে বাঁশের স্তূপ, বড় বড় ঘাস ও আগাছা, যত্রতত্র ময়লার স্তূপ আর দুর্গন্ধে মাঠের পরিবেশ এখন বিষিয়ে উঠেছে। এমনকি ২০২৪ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক কর্তৃক স্থাপিত একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তরটিও এখন ময়লার স্তূপের নিচে চাপা পড়েছে।
স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের দাবি, দ্রুত এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সদরপুরের তরুণ প্রজন্মের জন্য সুস্থ খেলার পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
আজ শনিবার (৯ মে) সকালে সরেজমিনে স্টেডিয়াম এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক হতাশাজনক চিত্র। স্টেডিয়ামের একাংশ এখন খোলা শৌচাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যার তীব্র দুর্গন্ধে সাধারণ মানুষের পক্ষে সেখানে দাঁড়ানোই দায়। মাঠের ভেতরে অবৈধ ঝুপড়ি দোকান এবং অপরিকল্পিত পানির কলের কারণে মাঠের বড় একটি অংশ কর্দমাক্ত ও খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাজারের সঙ্গে সীমানা প্রাচীর না থাকায় পথচারী ও ব্যবসায়ীরা অনায়াসেই মাঠে ঢুকে পরিবেশ নষ্ট করছেন।
গত শুক্রবার স্টেডিয়ামে একটি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেই লক্ষ্যে সকাল ১০টায় সদরপুর খেলোয়াড় কল্যাণ কমিটির সদস্য মাহফুজুল হক ও তার সঙ্গীরা নিজেরাই কাঁচি ও পরিষ্কার সরঞ্জাম নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন আবর্জনা পরিষ্কার করতে। মাহফুজুল হক বলেন, "খেলার পরিবেশ ফেরাতে আমরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়েছি, কিন্তু প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এটি দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব নয়।"
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ইমারত হোসেন শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, "এই মাঠটি ছিল আমাদের আনন্দের জায়গা। কিন্তু এখন যে অনাচার চলছে, তাতে মাঠটির অস্তিত্বই সংকটে। সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই ঐতিহ্য রক্ষা করা যাবে না।" ফুটবল খেলোয়াড় ফাইজুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বাজারের লোকজনের অবাধ যাতায়াত আর কাদা পানির কারণে আমাদের নিয়মিত অনুশীলন ব্যাহত হচ্ছে।"
এ বিষয়ে নবগঠিত সদরপুর খেলোয়াড় কল্যাণ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক একেএম আবু সাঈদ আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমরা স্টেডিয়ামের এই বেহাল দশা সম্পর্কে অবগত। বাজার ঘেঁষে একটি সীমানা প্রাচীর ও প্রবেশ গেট নির্মাণের পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই পাস হয়েছে। এই স্টেডিয়ামের আধুনিকায়ন ও হারানো গৌরব ফেরাতে আমরা বদ্ধপরিকর।"
