×

অপরাধ

নৃশংসতায় জনমনে আতংক

Icon

হরলাল রায় সাগর

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০১:৩০ পিএম

নৃশংসতায় জনমনে আতংক

ছবি : সংগৃহীত

সাত মাসের গর্ভবতী নারী। পাশবিকতায় প্রসব করেছেন ভ্রূণ। শ্বাসরোধে হত্যার পরে সন্তানসহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মাটিচাপা দেয়া হয়। মাটির নিচে বস্তার এক অংশ কুকুর কামড়াচ্ছিল। মাটির ওপরে বের হয়ে থাকে নারীর চুল। দুর্গন্ধে এলাকার লোকজন খুঁজতে গিয়ে সন্ধান পায় লাশের। গত ২০ এপ্রিল সন্ধ্যায় মাটি খুঁড়ে মা ও নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এই পৈশাচিক ঘটনাটি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া গ্রামের নির্জন এলাকা লৌহজং নদীর পাড়ের। পরিচয় না পাওয়ায় তাদের বেওয়ারিশ হিসেবে মির্জাপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। তবে মৃত্যু রহস্য এখনো উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। নিষ্ঠুর এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় প্রশ্নবিদ্ধ করেছে মানুষের বিবেককে।

মির্জাপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন রবিবার ভোরের কাগজকে বলেন, ময়নাতদন্তে ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসক। প্রায় সাত-আট মাসের গর্ভবতী ছিলেন তিনি। মরদেহ দেখে ধারণা হচ্ছে, নির্যাতনে মৃত্যুর সময় ওই নারী প্রসব করেছেন। তার পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

যশোরের বেনাপোল থানার সীমান্তবর্তী বড়আঁচড়া গ্রামের রাস্তার পাশের ধানক্ষেত থেকে ইউনুস আলী (৪৮) নামে এক ব্যক্তির লাশ ২৩ এপ্রিল উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হতে পারে। ইউনুস বেনাপোল থেকে আমদানি করা মালামালবাহী ট্রাকগুলোর সঙ্গে থেকে সেগুলো নিরাপদে পৌঁছে দেয়ার (এসকর্ট) কাজ করতেন। এসব তথ্য জানেিয়ছেন বেনাপোল বন্দর থানার ওসি আশরাফ হোসেন।

গুপ্ত রোমহর্ষক হত্যার একটি ঘটনা ঘটেছে বরিশাল নগরীতে। ২০২৫ সালের ২৬-২৮ জানুয়ারি, তিন দিনে বরিশাল নগরীর কাশীপুরের উত্তর ইছাকাঠি এলাকার হাতেম মীরার দিঘি ও পাশের ডাস্টবিন থেকে এক নারীর হাত, পা, শরীর ও কলিজার সাতটি টুকরো উদ্ধার করে পুলিশ। এগুলো আলাদাভাবে পলিথিনে মোড়ানো ছিল। তবে মাথা পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর আলামত গোপন করতে দেহের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন করে পুকুর, দিঘি ও ডাস্টবিনে ফেলা হয়েছে। মাথার অংশ পাওয়া গেলে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা যেত। 

২০২৫ সালের ১৬ মে। জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের বান্দের পাড়ে পাটক্ষেত থেকে পরিচয়হীন ৩৫ বছরের এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই নারীর লাশ বস্ত্রহীন ছিল এবং মুখমণ্ডল ছিল পোড়ানো। বকশীগঞ্জ থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ সেই সময় জানিয়েছিলেন, মুখ পুড়িয়ে দেয়ায় এলাকার কেউ তাকে চিনতে পারেনি। তার লাশ বস্ত্রহীন পাওয়া গেছে। তার পরিচয় শনাক্তের জন্য পিবিআইকে জানানো হয়েছে। 

এভাবে একের পর এক গুপ্তহত্যার শিকার হচ্ছে মানুষ। যেন ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। যে কেউ যেকোনো মুহূর্তে গুপ্তহত্যার শিকার হতে পারে, এমন আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু গুপ্তহত্যাই নয়; আছে প্রকাশ্যে নৃশংসতাও। হত্যা করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, লাশের ওপর পৈশাচিক নৃত্য করছে একশ্রেণির মানুষ। পোশাক কারখানার কর্মী দীপু দাস ও নুরুল পাগলার দরবারে বর্বরতার উল্লাসের দৃশ্য ভোলেনি মানুষ। পৈশাচিকতা, বর্বরতা, নৃশংসতা, নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা, অমানবিকতা, পাশবিকতা ও বীভৎসতা যে বিশেষণই দেয়া হোক না কেন, সব ছাড়িয়ে গেছে এসব হত্যাকাণ্ডে। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে (২০২৪ -২০২৫) এই গুপ্ত বা নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতার মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। পৃষ্ঠপোষক মব সন্ত্রাসে নাড়িয়ে দিয়েছে মানবতার ভীতকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব নিষ্ঠুরতার ঘটনা ছড়িয়ে পড়ায় দেশের মানুষ তো বটেই, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের বিবেককে ক্ষত-বিক্ষত করেছে। এসব ঘটনায় আতঙ্কিত করে তুলেছে দেশের মানুষকে। এমন বীভৎস হত্যাকাণ্ডে খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও হতবিহ্বল। তারা বলছেন, কারোর সঙ্গে শত্রুতা থাকার পরও কাউকে এত বীভৎসভাবে হত্যা করা সম্ভব না।

কিন্তু এসব নৃশংস ঘটনার রহস্য খুব কমই উদঘাটন করতে পারছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। বেশিরভাগ অপরাধী থাকে আড়ালে, যারা শনাক্ত হয় তাদের মধ্যে খুব কমই ধরা পড়ে। 

অপরাধ বিশ্লেষক, সমাজবিজ্ঞানী ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে মানবিক গুণাবলি জাগ্রত হচ্ছে না। সহনশীলতার ঘাটতি রয়েছে প্রচণ্ডভাবে। পরমত সহিষ্ণুতা নেই। সর্বোপরি দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি, অপরাধের বিচার দ্রুত না হওয়া, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হওয়া এবং ক্ষমতার দুর্বৃত্তায়নের কারণে একশ্রেণির মানুষের মধ্যে সংগঠিত অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। একটি গোষ্ঠীর মাঝে বিকৃত মানসিকতার জন্ম দিচ্ছে। কিশোর-তরুণদের একটি পক্ষও ভয়ানক অপরাধে জড়াচ্ছে। এজন্য বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থাকেও দায়ী করেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক ভোরের কাগজকে বলেন, মোটা দাগে বলতে গেলে দেশের জনগোষ্ঠীর একটা অংশ দিনদিন অপরাধপ্রবণ হয়ে পড়ছে। এর সঙ্গে সহনশীলতার ঘাটতি রয়েছে। সমাজ, সংস্কৃতি ও মনুষ্যত্ববোধের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। কোনো কারণে ওই ব্যক্তির প্রতি ক্ষুব্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে এই কাজগুলো করছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা বা পারিবারিক সম্মানের জায়গা, অর্থাৎ ক্ষমতার বলয়ে থাকলে যা খুশি তাই করে। নিজেই বিচার করার সংকল্প করছে। তাদের সামাজিক সুস্থতা ও মানসিক পরিপক্বতা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু এই প্রশ্নের চেয়েও বড় হচ্ছে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, সব নাগরিককে যার যার অবস্থান থেকে আইনের দৃষ্টিতে সমানভাবে বিচার করা। কিন্তু এই সংস্কৃতি আমাদের দেশে এখনো তৈরি হয়নি। এর খেসারত আমরা নানাজনে নানাভাবে দিচ্ছি। তিনি বলেন, প্রভাব থাকলে অপরাধ করলে কিছু হয় না, তার সংস্কৃতি চালু রয়েছে। ক্ষমতার কারণে অসহনশীলতা বেড়ে যায়। আর এ কারণেই অপরাধপ্রবণ হচ্ছে একটি শ্রেণি। দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তৌহিদুল হক বলেন, এই শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে স্বপ্ন নেই। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাপকভাবে মানবিক গুণাবলি তৈরি করছে না। মনুষ্যত্বের সংস্কৃতি জাগ্রত করছে না। 

অপরাধ প্রবণতা বাড়ার জন্য জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিৎ করতে না পারাকে দায়ী করেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মুহাম্মদ নুরুল হুদা। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, অপরাধীদের ধরা হয় না, শনাক্ত করা হয় না। আদালতে নেয়া হয় না, চার্জশিট দেয়া হয় না, শাস্তি দৃশ্যমান হয় না- এজন্য অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। এছাড়া বিদ্যমান রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থাপনার কারণেও অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি। 

বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সালমা আলী ভোররের কাগজকে বলেন, সংগঠিতভাবে অপরাধীরা অপরাধ ঘটাচ্ছে। পারিপার্শিক বৈরি পরিবেশ থেকে বিকৃত রুচির জন্ম দিচ্ছে তারা। এসব অপরাধীরা কোনো রাজনৈতিক দল ও শাসকগোষ্ঠীর আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে থাকে। ক্ষমতার প্রভাবে বিকৃত অপরাধ ঘটিয়ে পার পেয়ে যায় তারা। বর্তমানে এর একটি বড় গোষ্ঠী তরুণরা। এছাড়া দেশের বিচারহীনতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি অপরাধ প্রবণতাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এই মানবাধীকারকর্মীর মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত, প্রসিকিউশন ও বিচারকদের সমন্বয়ে দ্রুত বিচার (প্রতিটি কার্য দিবসে) নিশ্চিত করা গেলে অপরাধ কমে যাবে।

কয়েকটি খণ্ডিত চিত্র 

নিশ্চয়ই ময়মনসিংহের ভালুকার পোশাক কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসের কথা মনে আছে। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দীপুকে নিয়ে প্রকাশ্যে উল্লাসে মেতেছিল কিছু উগ্রবাদী মানুষ। তাকে গার্মেন্টস থেকে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজকের একটি গাছে ঝুলিয়ে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল। বীভৎস এই ঘটনায় মানবতার ভীত কাঁপিয়ে দিয়েছিল দেশ ছাপিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এ হত্যাকাণ্ডে তার ভাই অপু চন্দ্র দাস অজ্ঞাতপরিচয় ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। ইতোমধ্যে মূল হোতা একটি মসজিদের ইমাম ইয়াছিন আরাফাতসহ বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়ে জেলে রয়েছেন। 

এর কিছুদিন আগে ৫ আগস্ট রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলার দরবারে উপজেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির ব্যানারে একদল লোক হামলা চালায়। শরিয়ত পরিপন্থিভাবে দাফনের অভিযোগ তুলে নুরাল পাগলার লাশ কবর থেকে তুলে এনে আগুনে পোড়ানো হয়। হামলায় দরবারের খাদেম রাসেল মোল্লার মৃত্যু হয়। সংঘর্ষে পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহতও হয়। এ ঘটনায়ও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর রাজধানীর হাইকোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের কাছে দুটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে রংপুরের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের ২৬ টুকরো করা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সঙ্গে সঙ্গেই এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে পুলিশ ও র‌্যাব। একদিন পরেই পুলিশ ও র‌্যাব জানায়, পাওনা টাকাকেন্দ্রিক বিরোধের জেরে আশরাফুলের বন্ধু জরেজ মিয়া ও তার বান্ধবী শামীমা মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। শামীমার সঙ্গে দুই বন্ধুরই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। 

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের বড়উদাস গ্রামের আব্দুল হাই জোয়াদ্দারের মেয়ে দুই সন্তানের জননী লিমা খাতুনকে (২৩) কে বা কারা মোবাইল ফোনে রাতে ডেকে নিয়ে যায়। নিখোঁজের ১৫ ঘণ্টা পর গত ১ এপ্রিল তার বিবস্ত্র লাশ মেলে পাশের একটি ঘাসক্ষেতে। তাকে ধর্ষণের পর গলায় রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশ ও পরিবারের। পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হাটগোপালপুর গ্রামের সুজন মিয়ার স্ত্রী লিমা বাবার বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন। 

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় গত ১৪ এপ্রিলের ঘটনা। বাঙ্গরা বাজার থানার রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের বি চাপিতলা গ্রামের দক্ষিণ মাঠ থেকে এরশাদ মিয়া (৩২) নামের এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এরশাদ ওই গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে। বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি আব্দুল কাদের জানান, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। 

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের জায়গীর গ্রামের রুহুল আমিন ঘরামী (৫৫) নামের এক কৃষক নিখোঁজ হন। ১০ দিন পরে গত ২৩ মার্চ ধানক্ষেত থেকে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। 

ফরিদপুর সদরের গেরদা ইউনিয়নের বাখুন্ডা রেল স্টেশনসংলগ্ন কলা বাগান থেকে সাতদিন ধরে নিখোঁজ থাকা মেয়ে শিশুশ্রেণির শিক্ষার্থীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয় ৩০ এপ্রিল। উপুড় করা অবস্থায় পড়ে থাকা শিশুটির পরনে কোনো পোশাক ছিল না। পরনের সালোয়ার দিয়ে শিশুটির মুখ বাঁধা ছিল। পরিবারের অভিযোগ, তাকে ধর্ষণের পরে হত্যা করা হয়।  এ ঘটনায় চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। 

বগুড়া সদরের বেকারি ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলামের রক্তাক্ত লাশ একটি ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ গত বছরের ৪ নভেম্বর। তিনি সদর উপজেলার নুনগোলা ইউনিয়নের হাজরাদিঘী তালুকদারপাড়ায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন। আগের দিন রাত ১০টার দিকে একটি ফোনকল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন জহুরুল। পুলিশের ধারণা, ধারালো কোনো অস্ত্রের সাহায্যে তাকে হত্যা করা হতে পারে। রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের শিরবির গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল আছিয়া খাতুন (৭০) নামে এক বৃদ্ধার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আছিয়া খাতুন ওই এলাকার মৃত আব্দুল আজিজের মেয়ে। আছিয়া খাতুনের স্বামীও জীবিত নেই। সংসার জীবনে তিনি নিঃসন্তান বলে জানা গেছে।

ওই বছরের ২৫ এপ্রিল। শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের ডাকপাড়া এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদসংলগ্ন চরে গুচ্ছগ্রামের পাশে একটি মরিচক্ষেত থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় খালেদা বেগম (৩৮) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। খালেদা পার্শ্ববর্তী কুলুরচর ব্যাপারীপাড়া গ্রামের কাজল মিয়ার স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী। এর দুই দিন আগে তিনি নিখোঁজ হন। পুলিশ ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করার সন্দেহ করলেও এখনো রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। 

গত বছরের ২৪ আগস্ট বুড়িগঙ্গা নদী থেকে দুই নারী, এক শিশু ও এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মীরেরবাগ কোল্ডস্টোরেজ এলাকার তীর থেকে ভাসমান অবস্থায় এক নারী ও এক ছেলেশিশুর লাশ উদ্ধার করে সদরঘাট নৌথানা পুলিশ। নারীর বয়স আনুমানিক ৩০ বছর ও শিশুটির বয়স তিন থেকে চার বছর। ওই নারীর গলায় কালো কাপড় প্যাঁচানো ছিল ও শিশুটির লাশও ওড়না দিয়ে প্যাঁচানো ছিল। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কালিন্দী ইউনিয়নের মাদারীপুর ঘাট এলাকা থেকে আরো এক তরুণ ও এক তরুণীর হাত বাঁধা লাশ উদ্ধার করে বরিশুর নৌপুলিশ। মরদেহগুলো যাতে ভেসে না ওঠে, সেজন্য ৫০ কেজি ওজনের চালের বস্তার সঙ্গে হাত বেঁধে নদীতে ফেলা হয়েছিল। মরদেহগুলো পচে যাওয়ার কারণে ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানায় পুলিশ।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চিকনদন্ডী ইউনিয়নের ছড়ারকুল বালুরটালে রেললাইন থেকে কিছুটা দূরে জঙ্গল থেকে ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি অজ্ঞাত (১৯) অর্ধগলিত এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তরুণীর মুখ পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তখন লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা থানার উপপরিদর্শক উনোমং মারমা বলেন, ওই তরুণীকে এমনভাবে পোড়ানো হয়েছে যে, তার চেহারাটাও বোঝা সম্ভব নয়। ধারণা করা হচ্ছে, ২ থেকে ৩ দিন আগে হয়তো তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তার পরের দিন পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের আজিমপুর এলাকার বিল থেকে বেল্ট দিয়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে সময় পটিয়া থানার ওসি আবু জায়েদ নাজমুন নুর বলেন, ধারণা করা হচ্ছে এ ব্যক্তিকে অন্য কোনো স্থানে হত্যা করে এখানে লাশ ফেলে দেয়া হয়েছে।

একই দিনে হাটহাজারী উপজেলার নাজিরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর থেকে ক্ষতবিক্ষত অজ্ঞাতনামা এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটি ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাওয়ায় চেহারা চেনা যাচ্ছে না বলে জানান নাজিরহাট হাইওয়ে থানার ওসি শাহাবুদ্দিন।

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার মালঞ্চ এলাকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে পলিথিনে মোড়ানো তিনটি কার্টন থেকে মাথাবিহীন একটি খণ্ডিত মরদেহ এবং মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মেদিনীমণ্ডল এলাকার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে একটি পরিত্যক্ত কার্টন থেকে মাথাসহ আরো কিছু দেহের অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। কুকুর কার্টনগুলো নিয়ে টানাটানি করছিল। এই দুটি স্থানে পাওয়া দেহাবশেষ একই ব্যক্তির বলে ধারণা করছে পুলিশ। ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল ওই লাশ উদ্ধার করা হয়। 

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইন সে সময় জানান, মৃত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ বছর, গায়ের রং শ্যামবর্ণ। ওই ব্যক্তিকে অন্য কোথাও হত্যা করে মরদেহ টুকরো করে দুই জায়গায় ফেলে রাখা হয়। ঘটনার পেছনের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানায় পুলিশ।

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার ৫ দিন পরে ২৬ এপ্রিল রাজমিনা বেগম (২২) নামে এক তরুণীর গলিত মরদেহ রামপাশা ইউনিয়নের কাউপুর গ্রামের জঙ্গলের একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রামের কৃষক রশিদ আলীর মেয়ে রাজমিনা। ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত করছে বলে ওসি গাজী মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন।

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের প্রেম ব্রিজ এলাকার জঙ্গলের পাশ থেকে কামরুজ্জামান (২৫) নামে এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল। তিনি শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিকে নগর ইউনিয়নের সরদারকান্দি গ্রামের দাদন চোকদারের ছেলে।

ওই বছরের ২৯ আগস্ট। ফরিদপুরে সড়কের পাশের জঙ্গলে ফেলে রাখা অজ্ঞাত এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহটির হাত-পা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় ছিল। পুলিশের ধারণা, সাত-আট দিন আগে মরদেহটি ফেলে রাখা হয়েছে। যুবকের পরনে কালো কোট ও কালো প্যান্ট রয়েছে। 

হত্যার পর লাশের সঙ্গে বসবাসের মতো ঘটনাও রয়েছে। কেরানীগঞ্জে কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগের বাসায় শিক্ষার্থী জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪) ও তার মা রোকেয়া রহমানকে (৩২) হত্যার পর ঘরের মধ্যে লাশ রেখে ২১ দিন ছিলেন শিক্ষিকা মীম আক্তার। ২৪ বছরের মীম ও তার ছোট বোন নুসরাত জাহান মা-মেয়েকে হত্যা করে নিজেদের ফ্ল্যাটে রুমের খাটের নিচে মায়ের লাশ ও বাথরুমের ফলস ছাদের ভেতর মেয়ের লাশ লুকিয়ে রাখে। গত ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিক্ষিকা মীম আক্তার ও বোন নুসরাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। এইএসসি পাশ মীম প্রাইভেট পড়াতেন। কোনো জব করতেন না। মীম একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা উত্তোলন করেন, এর গ্যারান্টার ছিলেন রোকেয়া রহমান। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডায় মা-মেয়েকে হত্যা করে মীম।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে জরুরি নির্দেশনা

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে জরুরি নির্দেশনা

তেল ট্যাংকারে হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজে আক্রমণ চালানো হবে

আইআরজিসি তেল ট্যাংকারে হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজে আক্রমণ চালানো হবে

তুরস্কে গেলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

তুরস্কে গেলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

হাম: মৃত ৩৫২ শিশুর পরিবারকে ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে রিট

হাম: মৃত ৩৫২ শিশুর পরিবারকে ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে রিট

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App