দ্বিতীয় দফায় আইভীর জামিন নামঞ্জুর
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন আবেদন দ্বিতীয় দফায় নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
এর আগে গত ৫ মার্চ নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা খাতুন একই মামলায় আইভীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন জানান, মামলার এজাহারে ডাক্তার আইভীর নাম উল্লেখ ছিল না। তিনি যুক্তি দেন যে এজাহারকারী অয়ন ওসমান ও আজমেরী ওসমানকে চিনতে পারলে আইভী সেখানে উপস্থিত থাকলে তাকেও চিনতে পারতেন এবং তার নাম উল্লেখ করতেন। আইনজীবী আরও অভিযোগ করেন যে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মনগড়াভাবে এবং হয়রানির উদ্দেশ্যে আইভীকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছেন। তিনি জানান, আদালত জামিন নামঞ্জুর করায় তারা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
উল্লেখ্য, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এই মামলায় ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীকে শোন অ্যারেস্টের আবেদন করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৩০ জুন কৃষক ওয়াজেদ আলী বাদী হয়ে ইন্টিরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মন্ডলকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই চিটাগাং রোড এলাকার ডাচ-বাংলা ব্যাংকের নিচতলায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যেখানে ব্যাংকের ইন্টিরিয়র ডেকোরেশনের কাজে নিয়োজিত সেলিম মণ্ডলসহ তিন শ্রমিক আগুনে পুড়ে মারা যান।
এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী ফতুল্লা থানায় করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা এবং পারভেজ হত্যা মামলায় এবং সদর মডেল থানায় দায়ের করা হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলায় জামিন পেয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৯ মে ভোর রাতে শহরের দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটির থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত বছরের নভেম্বর মাসে হাইকোর্ট ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীকে পাঁচটি মামলায় জামিন দিয়েছিলেন, তবে পরবর্তীতে আপিল বিভাগে তা স্থগিত হয়ে যায়। এরপর ১৮ নভেম্বর তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা ও সদর থানায় দায়ের করা আরও পাঁচটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল।
