জঙ্গল ছলিমপুর
অভিযান ঠেকাতে ভেঙে ফেলেছে কালভার্ট, ব্যবহার হচ্ছে ড্রোন
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
ছবি: কাগজ প্রতিবেদক
সন্ত্রাসীদের ধরতে চট্টগ্রামের জঙ্গল ছলিমপুরে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর তিন হাজারের বেশি সদস্য কয়েকটি ভাগে ভোর থেকে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। আর সন্ত্রাসীরাও এ অভিযান বধাগ্রস্ত করতে জঙ্গল ছলিমপুরে চলাচলের রাস্তার একটি খালের ওপর কালভার্ট ভেঙে দিয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন।
সোমবার (৯মার্চ ) বেলা ১২টার দিকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি যৌথভাবে 'কর্মপরিকল্পনা' তৈরি করে অভিযান পরিচালনা করছে।
অভিযানে কয়েকজনকেও আটক করার তথ্য দিয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান বলেন, “জঙ্গল ছলিমপুরে বড় এলাকা হওয়ায় সেখানে বিভিন্ন ভাগে অভিযান চালানো হচ্ছে। পুরো অভিযান শেষ হলে বোঝা যাবে কী উদ্ধার হয়েছে।”
অভিযানে সেনাবাহিনী
অভিযান পরিচালনার সময় সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁজোয়া যানও রাখা হয়েছে বায়েজিদ লিঙ্ক রোড এলাকায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান বাধা দিতে ছিন্নমূলের পর আলী নগরের শুরুতে একটি বড় ট্রাক আড়াআড়ি করে রেখে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিআইজি নাজমুল হাসান।
“কিছু দূরে খালের ওপর কালভার্ট ভেঙে দেওয়া হয়েছে যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো গাড়ি প্রবেশ করতে না পারে। খালে ইটবালি সিমেন্ট দিয়ে ভড়াট করে গাড়ি প্রবেশ করানো হয়েছে।”
সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি ওই এলাকায় গত ১৯ জানুয়ারি অভিযানে গিয়ে স্থানীয়দের হামলায় নিহত হন র্যাব-৭ এর সদস্য নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া।
ওইসময় র্যাব-৭ এর পক্ষ থেকে বলা হয়, সেদিন বিকাল সোয়া ৪টার দিকে জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় ‘অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী’ গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালানো হয়। “এসময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ জন দুষ্কৃতকারী র্যাব সদস্যদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।” নিহতের জানাযায় এসে র্যাব প্রধান এ কে এম শহীদুর রহমান জঙ্গল ছলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
অপরাধীদের দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্য
প্রশাসনিক কাঠামোতে জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান সীতাকুণ্ড উপজেলার আওতায় হলেও ওই এলাকায় প্রবেশ করতে হয় চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার বাংলাবাজার এলাকা দিয়ে। বায়েজিদ লিঙ্ক রোড দিয়ে ভাটিয়ারি যাওয়ার পথে ডান দিকে জঙ্গল ছলিমপুর।
খাস জমির ৩ হাজার ১০০ একর জুড়ে অবস্থান জঙ্গল ছলিমপুরের। টিলা কেটে গড়ে তোলা এ ঝুঁকিপূর্ণ বসতি পরিণত হয়েছে অপরাধীদের ‘দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্যে’।
২০২২ সালে এ খাস জমি দখলমুক্ত করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, স্পোর্টস ভিলেজ, ক্রিকেট স্টেডিয়াম, আইকনিক মসজিদ, ইকো পার্কসহ বিভিন্ন স্থাপনা করার পরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার। তখন উচ্ছেদ অভিযানে বারেবারে বাধার মুখে পড়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। টানা উচ্ছেদ অভিযানে সেখানে ‘পাহাড় ব্যবস্থাপনা ক্যাম্প ও চেকপোস্ট’ বসিয়েছিল জেলা প্রশাসন।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সেখানে আবারও ‘স্থানীয় সন্ত্রাসীদের’ তৎপরতা বেড়ে যায়। কয়েকবার সংঘর্ষ ও খুনোখুনি ঘটনা ঘটে। ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর ভোরে জঙ্গল সলিমপুরের আলিনগর এলাকায় ইয়াছিন ও রোকন-গফুর বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। তখন গুলিবিদ্ধ হয়ে রোকন বাহিনীর এক সদস্য নিহত হন। আহত হন বেশ কয়েকজন।
এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে সাংবাদিকরা সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু স্থানীয়দের হামলার শিকার হন দুই সাংবাদিক। এরপর গত ১৯ জানুয়ারি অভিযানে গিয়ে নিহত হয় র্যাব সদস্য মোতালেব।
