ডিএমপি কমিশনারের আত্মীয় পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
অভিযুক্ত মুস্তাফিজুর রহমান সিকদার ওরফে মুস্তাক
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ- ডিএমপি’র কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর আত্মীয় পরিচয়ে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতারণার মাধ্যমে অসংখ্যা মানুষের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মুস্তাফিজুর রহমান সিকদার ওরফে মুস্তাক। সে নিজেকে ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাদের খালাতো ভাই হিসেবে পরিচয় দেয় বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতারক মুস্তাফিজুর রহমান সিকদারের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের ধাওড়া গ্রামে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মুস্তাফিজ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল এবং ওই সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল হাইয়ের প্রতিপক্ষ নায়েব জোয়ার্দার গ্রুপের হয়ে রাজনীতি করতো।
২০২২ সালের গঠিত কমিটিকে শৈলকুপা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যও ছিল মুস্তাফিজ।
শৈলকুপা থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে মুস্তাফিজের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের এপ্রিলে নায়েব জোয়ার্দার গ্রুপের হয়ে থানায় হামলা করার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার একটি মামলাসহ একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরেই মুস্তাফিজ অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মতোই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় এবং ঢাকা চলে আসে। ঢাকায় আসার পরপরই সে তার নিয়মিত প্রতারণা ব্যবসায় নেমে পড়ে, এবং ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর নিকটাত্মীয় পরিচয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে বদলি, তদবির, ব্যবসা ইত্যাদির কারণ দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়।
বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন নিয়োগ, বদলি, পোস্টিং ইত্যাদির আশ্বাসে প্রশাসনেরই বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার টাকা সুকৌশলে হাতিয়ে নেয় মুস্তাফিজ।
২০২৫ সালে ঢাকার ধানমন্ডি জোনের একটি থানা থেকে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের বাসায় হানা দিয়ে কোটি টাকা চাঁদা চাওয়ার কারণে বরখাস্ত পুলিশের এক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে জানা যায় যে, ডিএমপি কমিশনারের খালাতো ভাই পরিচয় দিয়ে মুস্তাফিজ ওই ওসিকে চাকরি ফিরিয়ে দেয়ার আশ্বাসে তার কাছ থেকে কয়েক দফায় প্রায় চল্লিশ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে, একপর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। ওই ওসির চাকরি ফিরে পাওয়া দূরের কথা, তার বিরুদ্ধে এখন বিভাগীয় মামলা চলমান।
মুস্তাফিজের শিকার হওয়া উত্তরা জোনের অন্তর্ভূক্ত আরেকটি থানার ওসি’র কথা জানা যায় অনুসন্ধানে- যে ওসি মুস্তাফিজের তদবিরে ঢাকায় পোস্টিং পাওয়ার পর এতটাই দুর্নীতি-অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছিলো যে, পুলিশ কর্তৃপক্ষ তাকে একপর্যায়ে বান্দরবানের একটি থানায় শাস্তিমূলকভাবে তাৎক্ষণিক-বদলি করতে বাধ্য হয়।
পুলিশের কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পর্যায়ে বদলি প্রক্রিয়া চলমান থাকাকালে, পছন্দের থানায় পোস্টিং পাওয়ার জন্য মুস্তাফিজকে তিন দফায় তিনি ৮ লাখ টাকা দিলেও কোনো কাজ হয়নি। উপরন্তু সেই টাকা ফেরত চাইলে মুস্তাফিজ তাকে ডিএমপি কমিশনারের কাছে অভিযোগ করে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেন।
মুস্তাফিজুর রহমান সিকদার ওরফে মুস্তাক সম্পর্কে জানকে চাইলে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, মুস্তাকের বিরুদ্ধে ওই থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ২০২৪ সালের এপ্রিলে শৈলকুপা থানায় সদলবলে হামলার একটি মামলায় সে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী। পুলিশ তাকে খুঁজছে বলেও জানান ওসি হুমায়ুন।
এ বিষয়ে মুস্তাফিজের নাম্বারে বারবার ফোন করলেও সে ফোন রিসিভ করেনি।
