সালমান এফ রহমানকে কত বছর রিমান্ডে থাকতে হবে, জানালো ডিবি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৪, ০৫:৫৬ পিএম
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা এবং সাবেক সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান।
গত ৫ আগস্ট প্রচণ্ড জনরোষে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির অনেক নেতা-মন্ত্রীরা গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া দলটির রথী-মহারথীদের এই মুহূর্তে রিমান্ডে নিয়ে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। ডিবি পুলিশের রিমান্ডে তারা দিচ্ছেন চাঞ্চল্যকর নানা তথ্যও। জেরার মুখে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান। রিমান্ডে তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি কর্মকর্তারা।
রিমান্ডে সালমান এফ রহমান ডিবি কর্মকর্তাদের বলেছেন, আমাকে ছেড়ে দিন। আমাকে আটকে রাখলে, আমার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৮০ হাজার লোক বেতন পাবে না। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে যে ঋণ নেয়া হয়েছে সেই ঋণের কিস্তি দিতে পারব না। এতে দেশেরই ক্ষতি হবে। তাই আমাকে ছেড়ে দিন। আমি দেশ ঠিক করে দেব।
এসময় ডিবি কর্মকর্তা বলেন, আপনি দেশ ঠিক করলে এখানেই করুন। কোর্টে গিয়ে কথা বলুন। কিন্তু আপনাকে ছাড়া হবে না। একের পর এক মামলায় কমপক্ষে এক বছর আপনাকে রিমান্ডে থাকতে হবে।
সালমান এফ রহমান বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় ২ বছর জেল খেটেছি। সুতরাং সমস্যা হবে না। আমাকে জেলে রাখলে দেশের ক্ষতি হবে। কারণ আমার নানা প্রতিষ্ঠানে অনেক কর্মী আছে। তারা বেতন পাবে না। ব্যাংক থেকে যেসব টাকা ঋণ নিয়েছি সেগুলো পরিশোধ হবে না।
সালমান এফ রহমানের কাছে ডিবি জানতে চায়, গত নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সরকারের পতন ঠেকিয়ে দেয়?
উত্তরে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আমরা আমেরিকার পক্ষেই আছি, এটা আমরা ভারতের মাধ্যমে আমেরিকাকে বোঝাতে পেরেছিলাম। আমরা তাদেরকে আরো বুঝিয়েছিলাম বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। তখন আমাদের এবং ভারতের কথায় আমেরিকা কনভিন্স হয়েছিল। না হলে তখনই আমাদের পতন হয়ে যেত।
গত ১৩ আগস্ট নিউমার্কেট থানায় দায়ের হওয়া হকার শাহজাহান আলী হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে তার রিমান্ড চলছে।
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরপর থেকে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও মন্ত্রীদের নামে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলা হচ্ছে। এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা। আদালত গ্রেপ্তারকৃতদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডও দিয়েছেন। বর্তমানে তারা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে রয়েছেন। সেখানেই তারা আওয়ামী লীগের শাসন আমলের বিভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন।
এই মুহূর্তে যারা ডিবি হেফাজতে রিমান্ডে আছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান।
এছাড়াও সাবেক এমপি সাদেক খান, জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মোহাম্মদ সোহায়েল, সাবেক ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক সিনিয়র সচিব শাহ কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত প্রমুখ।
আরো পড়ুন : শেখ মুজিবকে দেশের সম্পদ না বানানো বড় ভুল ছিল
আরো পড়ুন : রিমান্ডে শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন আনিসুল
আরো পড়ুন : রিমান্ডে আরেক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করলেন জিয়াউল আহসান
