গাজীপুরে সশস্ত্র দস্যুদের লুটপাট: জিম্মি করে মারধরের ঘটনা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ০১:০১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক যুবক ও তার আত্মীয় গুরুতর আহত হয়েছেন এবং নগদ অর্থ লুটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর বাবা ঘটনার পর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর মহানগরের সদর থানার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের জাঙ্গালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আজাহার মিয়া (৪৮) তার ছেলে তারিকুল ইসলাম হৃদয় (২০) ও ফুফাতো ভাগ্নে আব্দুল হালিমের (৩৯) ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
আরো পড়ুন: রেড ক্রিসেন্টের তথ্য: ইরানে হামলায় ২০১ নিহত, ৭৪৭ আহত
আরো পড়ুন: অডিট বিভাগে জনবল নিচ্ছে ইবনে সিনা ট্রাস্ট
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তারা আজাহার মিয়ার ছেলে হৃদয়ের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে শত্রুতা পোষণ করে।
গতকাল রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে হৃদয় ও তার আত্মীয় আব্দুল হালিম মোবাইল ফোন কেনার উদ্দেশ্যে বাংলাবাজার এলাকায় যাচ্ছিলেন। তারা বাংলাবাজার সেন্ট্রাল হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে।
এ সময় আসামিরা দেশীয় অস্ত্র-দা, চাপাতি ও লোহার রড নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় হৃদয় ও আব্দুল হালিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং তারা গুরুতর জখম হন।
এজাহারে আরও বলা হয়, প্রধান অভিযুক্তদের একজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে আব্দুল হালিমের মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে প্রতিরোধ করেন। এতে তার হাতে গুরুতর কাটা জখম হয়। অপরদিকে, অন্য আসামিরা লোহার রড দিয়ে হৃদয়ের পায়ে আঘাত করে।
হামলার এক পর্যায়ে আসামিরা আব্দুল হালিমের কাছে থাকা একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ব্যাগে একটি সমবায় সমিতির সংগ্রহকৃত প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার টাকা ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে এবং যাওয়ার সময় তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
পরবর্তীতে স্বজনরা আহতদের উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, আহতদের চিকিৎসা ও পারিবারিক পরামর্শের কারণে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
