মেঘনায় সন্ধ্যা নামলেই বসে মাদকের আসর: গ্রেফতার করলেও চলে তদবির
মো. ইব্রাহীম খলিল মোল্লা, মেঘনা (কুমিল্লা) থেকে
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নদীবেষ্টিত শান্ত জনপদ হিসেবে পরিচিত কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা। কিন্তু সেই নীরবতার আড়ালে অলিগলি পেরিয়ে ক্রমেই বিস্তার লাভ করছে মাদকের বিষাক্ত ছোবল। সন্ধ্যা নামলেই কিছু এলাকায় বসে মাদকের আসর। অভিভাবকদের চোখে শঙ্কা, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করা হলেও অপরাধীদের ছাড়াতে চলে শক্ত তদবির। এমনটায় জানিয়েছে মেঘনা থানা পুলিশের একজন কর্মকর্তা।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালের দিকে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলতে গিয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুদীপ্ত শাহীন অভিযোগ করে বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক নির্মূল ও চুরি প্রতিরোধে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালিয়ে আসছি। কিন্তু মাদক, জুয়া বা চুরির আসামি গ্রেপ্তার করলে কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মীর পক্ষ থেকে তদবির আসে। আসামিকে না ছাড়লে আমার কিংবা থানার অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করা হয়। এমনকি আকার–ইঙ্গিতে বদলির হুমকিও দেওয়া হয়। এছাড়াও এই থানায় মাদক ও চুরির আসামি ধরতে গিয়ে অনেকের কাছেই আমরা অপ্রিয় হয়ে উঠি। আজকে আপাতত কারও নাম উল্লেখ করছি না। তবে ভবিষ্যতে যদি কেউ অপরাধীদের পক্ষে তদবির করেন, তাহলে সাংবাদিকদের মাধ্যমে নাম প্রকাশ করা হবে।”
মেঘনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও যুগ্ম আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনী বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উচিত প্রকাশ্যে নাম উল্লেখ করা। এ ধরনের তদবির কারা করছেন, তা জনগণের সামনে তুলে ধরা। তিনিও জানতে চান, কারা এসব প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন। অন্যথায় নাম প্রকাশ না করলে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, “মাদক ও অপরাধ দমনে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করে আসছি। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত চাপকে গুরুত্ব দেওয়া হবে না। পুলিশ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। কেউ অপরাধ করলে তার পরিচয় নয়, অপরাধই আমাদের নিকট বিবেচ্য হবে।”
