×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

সারাদেশ

সুন্দরগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল, বাড়ছে নদী ভাঙ্গন

Icon

হাবিবুর রহমান হবি, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৪, ০৮:২১ পিএম

সুন্দরগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল, বাড়ছে নদী ভাঙ্গন

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা খেয়াঘাট। ছবি: ভোরের কাগজ

ভারি বর্ষণ এবং উজান থেকে আসা ঢলে উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। পানি কখনো বাড়ছে আবার কখনো কমছে। কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সুন্দরগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার নিচে রয়েছে। চর অঞ্চলের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ডুবে গেছে। পানি বন্দি অবস্থায় রয়েছে দেড় হাজার পরিবার। বিভিন্ন পয়েন্টে অব্যাহত ভাঙনে তোষাপাটসহ নানাবিধ ফসলি জমি বিলিন হচ্ছে নদীগর্ভে। 

গত ১৫ দিনের ব্যবধানে উপজেলা কাপাসিয়া, হরিপুর, শ্রীপুর ও চন্ডিপুর ইউনিয়নে তিন শতাধিক বিঘা ফসলি জমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চর অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নৌকা ছাড়া এক চর হতে অন্য চরে যাওয়া আসা করা সম্ভব হচ্ছে না। 

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী। প্রতিবছর তিস্তায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বা বন্যা আসলেই শুরু হয় নদী ভাঙন। চলতে থাকে বছর ব্যাপী। নদী পাড়ের মানুষের দাবি, স্বাধীনতা পরবর্তী দীর্ঘ দিনেও স্থায়ী ভাবে নদী ভাঙন রোধ, ড্রেজিং, নদী খনন, ও সংস্কারের উদ্যোগ আজ গ্রহন করেনি সরকার। যার কারনে প্রতি বছর পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি, হাজারও একর ফসলি জমি বিলিন হচ্ছে নদীগর্ভে।

কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটি কাপাসিয়া গ্রামের আনছার আলী জানান, হঠাৎ করে গত ১৫দিন ধরে তিস্তার পানি বাড়তে থাকায় নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে তার ৩ বিঘা জমির তোষাপাটসহ নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে শতাধিক বিঘা ফসলি জমি। তিনি আরো বলেন, নদীতে পানি বাড়লে এবং বন্যা আসলে তিস্তার চর অঞ্চলের মানুষের কষ্টের সীমা থাকে না। অথচ দেখার কেউ নাই। সামান্য ত্রাণ বিতরণ করে দায় এড়িয়ে যান সবাই।

আরো পড়ুন: থানচিতে পর্যটকদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল

বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও চর অঞ্চলের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি বিলিন হচ্ছে নদীগর্ভে।

হরিপুর লখিয়ার পাড়া গ্রামের সোলেমান মিয়া বলেন, প্রতিবছর নদীর ভাঙনে বসতবাড়ি, আবাদী জমি বিলিন হচ্ছে নদীগর্ভে। একজন চরবাসিকে মৌসুমে কমপক্ষে ৩ হতে ৪ বার ঘরবাড়ি সরাতে হচ্ছে। কিন্তু আজও স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধের কোনো ব্যবস্থা হচ্ছে না।

তারাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলামের দাবি নদী খনন, ড্রেজিং, স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধকল্পে বহুবার চাহিদা প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু আজও কোনো ব্যবস্থা সরকারের পক্ষ হতে নেয়া হয়নি। শুধুমাত্র ভাঙন রোধে প্রাথমিকভাবে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হচ্ছে। স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকানো না হলে চরবাসির দুঃখ কোনোদিনও দূর হবে না। ভাঙনে প্রতিবছর পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি এবং হাজারও একর ফসলি বিলিন হচ্ছে নদীগর্ভে। তিনি জানান তার ইউনিয়নে ২০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রাশিদুল কবির জানান, কাপাসিয়া ও হরিপুর ইউনিয়নের কয়েকটি চরে তিস্তার ভাঙনে তোষাপাটসহ অন্যান্য ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলিন হচ্ছে ডুবে গেছে ফসলি জমি। এতে করে কৃষকদের ক্ষতি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরুপন করা হয়নি। 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ওয়ালিফ মন্ডল জানান, তারাপুর, বেলকা, চন্ডিপুর, কাপাসিয়া ও হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন নদীভাঙন শুরু হয়েছে এবং ডুবে গেছে চর অঞ্চলের বসতবাড়ি। বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে ইতোমধ্যে দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তালিকা পাঠানো হয়েছে বরাদ্দ পেলে বিতরণ করা হবে।

অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, তিস্তা নদীর তীরবর্তী এলাকা পরিদর্শন করেছি। ইতোমধ্যে ১শত ২২ পরিবারের বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। 

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App