মৃত্যুর জন্য যাকে দায়ী করে গেছেন লাইভে এসে আত্মহত্যা করা গৃহবধূ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ০৭:৫৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহীর পুঠিয়ায় রহিমা আক্তার রেমি (২৪) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে চারঘাট থানা পুলিশ। এর আগে তিনি ফেসবুকে তিনটি ভিডিও পোস্ট করে তার হতাশা ও আত্মহত্যার কথা জানান। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ওই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন।
মঙ্গলবার (১৮ জুন) সকালে চারঘাট পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মিয়াপুরের ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠালে ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যায় দাফন সম্পন্ন হয়।
নিহত রেমি পুঠিয়া উপজেলার নিমতলা মন্ডল পাড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের মেয়ে এবং কাঁঠালবাড়িয়া এলাকার সায়েম আক্তার সাগরের স্ত্রী। ৮ বছর আগে পুঠিয়া উপজেলার কাঁঠালবাড়ীয়া গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে সাইম আক্তার সাগরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
পুলিশ জানায়, আত্মহত্যা করার আগে রেমি ২৩ মিনিট, ১২ মিনিট ও ৫ মিনিট সময়কালের ৩টি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন।
সাগরের চাকরির সুবাদে রাজশাহী জেলার চারঘাট বাজারের কাছে ফকির মিলিটারির মোড়ে আলী আজমের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তিনি। সেখানে তাদের বেডরুমের বেলকনির সঙ্গে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস নেয় রেমি। এর আগে রেমি ফেসবুক লাইভে এসে তাদের পারিবারিক কলহের কথা তুলে ধরেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুর রহিম চারঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
আরো পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে স্বামী-স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা
রেমি তার পোস্ট করা ভিডিওতে বলেন, আমি একটি বই লিখতে শুরু করেছিলাম। বইয়ের নাম রাখতে চেয়েছিলাম সুইসাইড। বই লেখা শেষ না করতেই আমি নিজেই সুইসাইড হয়ে গেলাম। বাবা-মা খারাপ হলে কিন্তু সন্তানরা খারাপ হয় না। এসব কথা শুনতে শুনতে বোর হয়ে গেছি। জীবন দিয়ে প্রমাণ করে দিতে চাই।
স্বামীর উদ্দেশে রেমি বলেন, তুমি সন্তানের বাবা-মায়ের দায়িত্ব পালন করবে। আমি তোমাদের দু’জনকে খুব ভালোবাসি। তোমার যখন চাকরি ছিলো না, বেকার ছিলে, তখন আমি তোমাকে ছেড়ে যাইনি। এখন তোমার চাকরি হয়েছে। যে নতুন জীবনসঙ্গী হবে তাকে সময় দিও।
রেমির বাবা লিখিতভাবে পুলিশকে জানায়, ঈদের দিন আমার মেয়ে ও জামাই আমার বাড়িতে এসে খাওয়া-দাওয়া করে দুপুরের পর বাড়ি ফিরে যায়। এরপর আমি শুনতে পাই আমার মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে পারিবারিক মনোমালিন্য হয়। পরে আমার জামাই ও মেয়ে চারঘাট ভাড়া বাসায় চলে যায়। পরদিন ভোরবেলা আমার জামাই আমার ছেলের কাছে ফোন দিয়ে ওই খবর দেয়।
চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান বলেন, রহিমা আক্তারের বাবার সঙ্গে তার মায়ের ডিভোর্স হলে বাবা নতুন করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এতে একা হয়ে পড়েন রহিমা আক্তার রেমি। এ নিয়ে কটু কথা শুনতে শুনতে তিনি বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন। এর আগেও বেশ কয়েকবার তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
ওসি আরো বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে ফেসবুকে ৩টি ভিডিও পোস্ট করেন। পারিবারিক জীবন, স্বপ্ন ও চাওয়া-পাওয়া নিয়ে তার দুঃখের কথা বলেন। বাবা-মাকে নিয়ে অনেক কথাও বলেছেন তিনি। রাতের শেষ ভাগে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।’
