মধ্যনগরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, আতঙ্কে মানুষ
মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৪, ০৩:৪৩ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা কয়েকদিনের অতি ভারি বর্ষণে সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে দ্রুত বাড়ছে নদী ও হাওরের পানি।
মঙ্গলবার (১৮ জুন) ভোর রাত থেকে ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের ফলে বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। উপজেলার মধ্যনগর-মহিষখলা সড়কের ৭০ভাগ পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে সারা উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে।
পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ, চামরদানী ও মধ্যনগর ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রাম। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাঁচা ঘর-বাড়ি ও গ্রামীণ কাঁচা সড়ক। পাহাড়ি ঢলের স্রোতের ধাক্কায় বংশীকুন্ডা বাজার থেকে নোয়াবন্দ সড়ক সহ নব-নির্মিত ৪-৫টি কাঁচা সড়ক বিলীন হয়ে গেছে।
বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে উপজেলার চাপাইতি বাজার, বংশীকুন্ডা বাজারসহ বেশ কয়েকটি হাট-বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পড়েছেন সারা উপজেলার বাসিন্দারা। ছোট ডিঙি, নৌকা ও ট্রলারে চলাচল করছে মানুষ।
আরো পড়ুন: পানির নিচে সিলেট, কোরবানি দিতে পারেননি অনেকে
উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান মিয়া বলেন, 'লক্ষণ ভালো না, বিভিন্ন গ্রামে মানুষের বাড়িঘরে বন্যার পানি ঢুকছে। পানি বাড়ছে। মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।'
উপজেলার বংশীকুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা অমিত হাসান বলেন, গতকাল রাত থেকেই পানি বাড়ছে। সকালে বাড়ির উঠানে পানি উঠেছে। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হবে বলে মনে হচ্ছে।
চামরদানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর খসরু বলেন, 'পানি বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ। অনেকের বাড়িতে পানি। রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। বাইরে প্রচণ্ড বৃষ্টি। মানুষ যাবে কোথায়।’
উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মধ্যনগরের সোমেশ্বরী ও উব্দাখালী নদীর পানি সকালে ৭ দশমিক ২৩ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার ওপরে। গত ২৪ ঘণ্টায় এসব নদ-নদীতে ৩১ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানিয়েছে, আগামী দুইদিন বন্যার পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও) ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব মো. আব্দুল মোত্তালেব সরকার জানান, বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। উপজেলার সকল ফ্লাড শেল্টার কাম স্কুল বন্যার্তদের আশ্রয়ের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় শুকনা খাবার ও উদ্ধারকাজের জন্য নৌকার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেনি।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার ভোরের কাগজকে বলেন,ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। উজান থেকে ঢল নামলেই মূলত মধ্যনগরসহ সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে নদ-নদী ও হাওরে পানি বাড়ে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল কমলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। আগামী দুই দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে।
