×

সারাদেশ

উপজেলা নির্বাচন

আনসার ভিডিপিতে জনবল নিয়োগে কোটি টাকার দুর্নীতি

Icon

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৪, ১০:২৮ পিএম

আনসার ভিডিপিতে জনবল নিয়োগে কোটি টাকার দুর্নীতি

ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন বা পূজাতে আনসার ভিডিপি সদস্য (সাধারণ জনবল অঙ্গীভ’ত) নিয়োগে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন আনসার ভিডিপির যশোরের সার্কেল এ্যাডজুট্যান্ট মহব্বত আলী মোড়ল। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাচনে দায়িত্বপালন করা আনসার সদস্য হিসেবে সাধারণ জনবল নিয়োগে জেলাব্যাপী ব্যাপক ঘুষ লেনদেনের অভিযোগটি খতিয়ে দেখার সময় খোদ আনসার কর্মকর্তারাই এই অভিযোগ করেন।

তারা জানিয়েছেন, শুধু সার্কেল এ্যাডজুট্যান্ট (সিএ) মহব্বত আলী মোড়লের কারণেই সাধারণ জনবল নিয়োগে এই দুর্নীতি বর্তমানে বিভিন্ন উপজেলায় একটি অলিখিত আইন।

যশোরে কর্মরত আনসার ভিডিপির বিভিন্ন কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নির্বাচনে ছয় দিনের কাজে আনসার ভিডিপি হিসেবে (সাধারণ জনবল) প্রত্যেকে ছয় হাজার চারশ পঞ্চাশ টাকা (ভ্যাট বাদে ছয় হাজার দুইশত পঞ্চাশ টাকা) পাবেন। সরকারি এ টাকা বিকাশের মাধ্যমে তাদের কাছে পৌঁছে যাবে।

আরো পড়ুন:প্রেমের টানে ৩ মেয়েকে নিয়ে ঘর ছাড়লেন গৃহবধূ

সূত্র জানায়, পূজা বা নির্বাচনে সরকারিভাবে নিরাপত্তার জন্য আনসার ভিডিপি হিসেবে সরকারি ভাতাভোগীদের বাইরে প্রয়োজনে সাধারণ জনবল নিয়োগের বিধান রয়েছে। সেক্ষেত্রে উপজেলা প্লাটুনের সদস্যদের বাইরে নিয়োগ পেতে ওই সকল সদস্যকে অবশ্যই ট্রেনিংপ্রাপ্ত হতে হবে। ট্রেনিংপ্রাপ্ত সাধারণ জনবল জেলা যাচাই বাছাই কমিটি এবং উপজেলা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এই নিয়োগ পেয়ে থাকেন।

তারা জেলা বা জেলার বাইরে (প্রয়োজন অনসারে) যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। তবে ট্রেনিং ছাড়া কেউ এই দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। কিন্তু সদস্য সমাপ্ত নির্বাচনে ট্রেনিং ছাড়াও অনেক সাধারণকে আনসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রমাণ পাওয়া যায়। এই ধরনের সদস্য মনিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়ন ভিডিপি কমান্ডার কালাম সিএ মহব্বত আলী মোড়লের মাধ্যমে সরবরাহ করে থাকেন।

বিষয়টি ভিডিপি কমান্ডার কালামও নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া আরো অনেক ভিডিপি কমান্ডার এই কাজে সিএ মহব্বত আলীকে সাহায্য করে নিজেও দুর্নীতি করে থাকেন।

সূত্র আরো জানায়, অভয়নগর উপজেলা নির্বাচনে ঝিকরগাছার একজন হকার (যার কোনো ট্রেনিং নেই) ভোটের নিরাপত্তার কাজে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরকম অনেককে খুঁজে পাওয়া যায় যাদের প্রকৃতপক্ষে কোনো ট্রেনিং নেই।

এ বিষয়ে আনসার ভিডিপির একাধিক কর্মকর্তা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বোঝেন তো, অনেকের অনুরোধ রাখতেই ট্রেনিং ছাড়া লোকবল নিতে হয়। তবে সূত্র বলছে, সদ্য সমাপ্ত উপজেলা নির্বাচনে সিএ মহব্বত আলী একাই মনিরামপুর উপজেলায় ১০টি দল (প্রতি দলে ১২ জন), অভয়নগরে ৭টি, বাঘারপাড়ায় ৭টি, ঝিকরগাছায় ৫টি এবং চৌগাছায় ৬টি দল সরবরাহ করেছেন। দল প্রতি তিনি আট হাজার বা তারও বেশি টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এছাড়া প্রায় প্রতি উপজেলা থেকে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নিয়ে মহব্বত আলীকে দিতে হয়েছে।

এছাড়াও সাধারণ জনবলের মাথা প্রতি একশত টাকা হিসেবে প্রায় ১৪ লাখ টাকা অন্য একজন বড় কর্তাকে দিতে হয়েছে বলেও কর্মকর্তারা দাবি করেন।

এবিষয়ে মুঠোফোনে সার্কেল এ্যাডজুট্যান্ট মহব্বত আলী মোড়ল বলেন, আমি আপনার সাথে দেখা করে কথা বলতে চাই। তবে জেলা কমান্ড্যান্ট সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, আমরা নিয়ম মেনে যাচাই বাছাই কমিটির মাধ্যমে সাধারণ জনবল নিয়োগ দিয়েছি। তাহলে সিএ মহব্বত আলী যেসকল তালিকা দিয়েছেন সেটির যাচাই বাছাই কে করেছে? আর মাথা প্রতি একশত টাকা করে কোন কর্মকর্তা নিচ্ছেন? প্রশ্নগুলোর কোনো সদুত্তোর দিতে পারেননি তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App