×

সারাদেশ

ইবিতে র‌্যাগিং

অপরাধ প্রমাণিত হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রিতা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৪, ০১:০৪ পিএম

অপরাধ প্রমাণিত হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রিতা

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলে এক নবীন ছাত্রকে র‌্যাগিং ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে। গত এপ্রিল মাসে কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। তদন্তে র‌্যাগিংয়ের সত্যতা পাওয়ায় শাস্তির সুপারিশও করা হয়। তবে প্রতিবেদন জমা দেয়ার ৩ সপ্তাহ পার হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

এদিকে রবিবার (১৯ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখন পর্যন্ত ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সভা না হওয়ায় এই সিন্ডিকেট সভায় র‌্যাগিংয়ের ঘটনাটি যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে সূত্র।

জানা গেছে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলের ১৩৬ নম্বর কক্ষে (গণরুম) এক নবীন ছাত্রকে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠে। ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ওইদিন লালন শাহ হলের ১৩৬ নম্বর কক্ষে ভুক্তভোগীকে ডাকেন শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাবর্ষের মুদাচ্ছির খান কাফী ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের মোহাম্মদ সাগর। এ সময় তাদের সাথে ছিলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের একই সেশনের উজ্জ্বল হোসেন। 

নির্যাতনের সময় উলঙ্গ করে বেঞ্চের উপর দাঁড় করিয়ে রাখা, বারংবার রড দিয়ে আঘাত, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও নাকে খত দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। ওইদিন রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দফায় দফায় তার উপর নির্যাতন চালানো হয় এবং ভয় দেখিয়ে বার বার বেড-পত্র বাইরে ফেলে দেয় বলে জানায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। 

পরে ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে ১৩ ফেব্রুয়ারি পৃথকভাবে তদন্ত কমিটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট হল কর্তৃপক্ষ। 

কমিটি গঠনের দেড় মাস পর এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি। এছাড়া কাজ শুরুর দুই মাস পর ২২ এপ্রিল প্রতিবেদন জমা দেয় হল প্রশাসন কর্তৃক গঠিত কমিটি। দুই কমিটির প্রতিবেদনেই ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায় বলে জানায় সূত্র। এছাড়া জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে বলেও জানা যায়। কিন্তু এরপরেও এ বিষয়ে এখন অবধি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় গুরুতর অভিযুক্ত হলেন- মুদাচ্ছির খান কাফি ও মোহাম্মদ সাগর। এছাড়া উজ্জ্বল হোসেনের কম সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়ন ইবি সংসদের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, গত তিন মাস আগে এই র‌্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটে। তবে এখন পর্যন্ত বিশ্বিবদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি, যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. দেবাশীষ শর্মা বলেন, গত ঈদের ছুটির আগেই আমরা ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দিয়েছি। সিদ্ধান্তের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, প্রতিবেদন সাধারণত রেজিস্ট্রারের নিকট জমা দেয়া হয়। সেখান থেকে উপাচার্যের অনুমতিতে ছাত্র-শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত হয়ে আমার কাছে আসে। প্রতিবেদন আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, এটি মূলত ছাত্র-শৃঙ্খলা কমিটি হয়ে পরবর্তীতে সিন্ডিকেটে আসবে। এখানে একটু মিসটেক হয়েছে তাই দেরি হয়েছে। আমি বিষয়টি নিয়ে সবজায়গায় দ্রুত সমাধানের জন্য বলেছি। আশা করি শীঘ্রই এর সমাধান হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App