বাঞ্ছারামপুরে ভেজাল তেল কারখানায় অভিযান
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
ছবি : ভোরের কাগজ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ভেজাল তেল উৎপাদন ও বাজারজাতের অভিযোগে একটি কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ ভেজাল তেলসহ নানা সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে “এ আর এগ্রো ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেড” নামের প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে কয়েক ড্রাম ভেজাল তেল জব্দ, কয়েক হাজার নকল লেবেল পুড়িয়ে ধ্বংস এবং বোতলজাতকরণের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছলিমাবাদ গ্রামের কালু মেম্বারের ছেলে আবদুল আজিজ ও আতিকুর রহমানের মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে পামওয়েলকে সয়াবিন তেল হিসেবে বোতলজাত করে বাজারজাত করছিল। পাশাপাশি “মদিনা সরিষার তেল” নামে নকল লোগো ব্যবহার করে সরিষার তেল বিক্রি করে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল।
আরো পড়ুন : বনানীর বহুতল ভবনে আগুন
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৫০ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে কারখানায় মজুদ থাকা বিপুল পরিমাণ তেল, প্যাকেটজাত পণ্য এবং নকল লেবেল জব্দ করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কয়েক হাজার ভেজাল লেবেল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। জব্দকৃত তেল স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় দিয়ে পামওয়েল হিসেবে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া বোতলজাতকরণের বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও জব্দ করে নিয়ে যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
স্থানীয় এক ভুক্তভোগী বলেন, আমরা আসল সরিষার তেল মনে করে কিনতাম। এখন বুঝতে পারছি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। দোষীদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে নিম্নমানের পামওয়েলকে সয়াবিন তেল হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছিল, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম-লোগো নকল করে বাজারজাত করা গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
