প্রকৌশলীকে বাঁশ নিয়ে ধাওয়া, সেই ঠিকাদারের ম্যানেজার গ্রেপ্তার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
ছবি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে প্রকৌশলী বাঁশ নিয়ে ধাওয়ার ঘটনায় ঠিকাদারের ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় নিম্নমানের সড়ক নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এলজিইডির এক প্রকৌশলীকে মারধর ও বাঁশ নিয়ে ধাওয়া করার ঘটনায় ঠিকাদারের ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ঠিকাদার লোকমান হোসেন ও তার গাড়িচালকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যবস্থাপকের নাম ফোরকান মিয়া। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ভুক্তভোগী এলজিইডির নবীনগরের উপসহকারী প্রকৌশলী মির্জা তরিকুল ইসলাম সোমবার সন্ধ্যায় নবীনগর থানায় মামলা করেন। মামলায় ঠিকাদার লোকমান হোসেন (৫০), তার গাড়ির চালক বিল্লাল হোসেন (৫৫) এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, নবীনগরের মেরকুটা বাজার থেকে শিবপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ পায় রাজশাহীর মেসার্স বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। প্রায় ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই সড়কের কাজ করছিলেন ঠিকাদার লোকমান হোসেন। তবে কাজের নিম্নমান নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ ওঠে এবং এলাকাবাসী কাজ বন্ধের দাবিও জানান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে এলজিইডির প্রকৌশলীদের একটি দল সড়কটি পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়মের প্রমাণ পায়। এ সময় ঠিকাদার লোকমান তাদের সরকারি কাজে বাধা দেন এবং নিম্নমানের কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তিনি ও তার সহযোগীরা উপসহকারী প্রকৌশলী মির্জা তরিকুল ইসলামকে লাঠি দিয়ে পায়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন এবং ইট ছুড়ে মারেন। সহকর্মীরা এগিয়ে এলে তাদেরও হুমকি দিয়ে ধাওয়া করা হয়।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, ঠিকাদার লোকমান হোসেন প্রকৌশলীকে গালিগালাজ করছেন এবং একপর্যায়ে বাঁশ নিয়ে ধাওয়া করলে প্রকৌশলী দৌড়ে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলীল বলেন, “সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়ম ধরা পড়ে এবং কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়। কিন্তু ঠিকাদার অফিসকে না জানিয়ে রাতেই কাজ চালিয়ে যান। পরে পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে তা ভেঙে নতুন করে করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সোমবার পরিদর্শনে গেলে ঠিকাদার ও তার লোকজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে মারধর করেন।”
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “উপসহকারী প্রকৌশলীকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঠিকাদারের ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
