কাঁকড়া ধরতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবকের পা বিচ্ছিন্ন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার নাফ নদীর শূন্যরেখায় মাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা যুবকের ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পালংখালী সীমান্তের চর চাকমাকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত যুবকের নাম মো. ইউনুছ (২৫)। তিনি বালুখালী আশ্রয়শিবির (ক্যাম্প-১৯)-এর ডি-২ ব্লকের বাসিন্দা সবুল আহমদের ছেলে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় জেলেদের সূত্রে জানা যায়, ইউনুছ কাঁকড়া ধরতে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। বিস্ফোরণে আহত হলে স্থানীয় জেলেরা তাকে উদ্ধার করে উখিয়ার এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা প্রতিরোধে প্রায় দুই বছর ধরে সীমান্তবর্তী চর ও নাফ নদীর বিভিন্ন এলাকায় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি শত শত স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এসব মাইন বিস্ফোরণে আহতের সংখ্যা বেড়েছে, যাদের বেশির ভাগই রোহিঙ্গা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রোহিঙ্গা নেতারা জানান, সম্প্রতি উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয়শিবিরগুলোতে খাদ্যসহায়তা কমে যাওয়ায় অনেক রোহিঙ্গা পরিবার জীবিকার তাগিদে নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যাচ্ছে। এতে মাইন বিস্ফোরণের ঝুঁকিও বাড়ছে।
আরো পড়ুন : চট্টগ্রাম বন্দরে ডিজেল-জেট ফুয়েল নিয়ে ভিড়ল ৩ জাহাজ
এর আগে ১০ এপ্রিল একই উপজেলার বালুখালী সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদীর শূন্যরেখার নারিকেলবাগান এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. সাদেক নামের আরেক রোহিঙ্গা আহত হন। তিনি বালুখালী আশ্রয়শিবির (ক্যাম্প-১০)-এর এফ-১৩ ব্লকের বাসিন্দা বশির আহমদের ছেলে।
এছাড়া ২৯ মার্চ উখিয়া সীমান্তে আরেকটি বিস্ফোরণে আবদুল হাকিম (১৫) নামের এক কিশোরের ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়। তিনি বালুখালী আশ্রয়শিবির (ক্যাম্প-১৯)-এর বাসিন্দা মো. ইব্রাহিমের ছেলে। এর কয়েক দিন আগে পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তে একই ধরনের ঘটনায় শহীদুল ইসলাম (২৫) নামের আরেক রোহিঙ্গা গুরুতর আহত হন। তার একটি পায়ের গোড়ালিও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
