মেঘনায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চরমে
মো. ইব্রাহীম খলিল মোল্লা, মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অদুদ মুন্সি ও তাঁর অনুসারীরা, অপর পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক আহ্বায়ক রমিজ উদ্দীন লন্ডনী।
এদিকে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে দুই গ্রুপ আলাদা আলাদাভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করে এবং একে অপরকে অভিযুক্ত করে বক্তব্য দেয়। এ সময় উভয় পক্ষই পরস্পরকে অবৈধ বলে অভিযোগ তোলে। তবে এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে মেঘনার রাজনীতিতে বিভাজন আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করেন তৃণমূলের স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা।
সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর উপজেলা হাইওয়ে রাস্তার সামনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দাবিতে দলের দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। প্রথমে কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার অনুসারীরা সেখানে অবস্থান নেন। পরে মেঘনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর নেতৃত্বে তাঁর সমর্থকেরা সেখানে অবস্থান নিলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হন।
অপরদিকে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক রমিজ উদ্দীন লন্ডনী ও সদস্য সচিব আজহারুল হক শাহীনের মধ্যে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এর মধ্য দিয়ে দ্বন্দ্বটি আবারও প্রকাশ্যে আসে।
অন্যদিকে অদুদ মুন্সি ও তাঁর সমর্থকেরা বলেন, তাঁদের কমিটিই বৈধ, এতে কোনো সন্দেহ নেই এবং তাঁরা দলের সিদ্ধান্ত মেনে সব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন রাষ্ট্রীয় কোনো অনুষ্ঠানে তাঁদের কমিটিকে দাওয়াত দেয় না বলে অভিযোগ করেন তারা। উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক রমিজ উদ্দীন লন্ডনী বলেন, মেঘনায় বিএনপির কোনো বৈধ কমিটি নেই; যদি কমিটি থেকে থাকে, তবে তার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে হবে।
দাওয়াতের বিষয় মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার বলেন, দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব সম্পর্কে আমার জানা নেই। এই সংসদীয় এলাকার মাননীয় সংসদ সদস্য আমাকে যে নির্দেশনা দেন আমি সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করি।
