×

চট্টগ্রাম

প্রত্যন্ত এলাকায় ত্রাণের জন্য হাহাকার বানভাসিদের

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৪, ০৩:১৪ পিএম

প্রত্যন্ত এলাকায় ত্রাণের জন্য হাহাকার বানভাসিদের

নোয়াখালীতে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নোয়াখালীতে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। জেলার মূল সড়কের আশপাশে সহযোগিতা পেলেও প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতে পৌঁছায়নি ত্রাণ সহায়তা। ফলে সেখানে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকট। স্বাস্থ্য ঝুঁকির শঙ্কায় রয়েছে ক্ষুধার্ত অধিকাংশ শিশু। ফলে অধিকাংশ জায়গায় দেখা দিয়েছে ত্রাণের জন্য হাহাকার।

সরেজমিনে নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, জেলার নয়টি উপজেলার মধ্যে আটটিতেই বন্যার পানি বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে জেলার সেনবাগ, বেগমগঞ্জ, সদর, সোনাইমুড়ী ও চাটখিল উপজেলার বন্যার পানি। এসব উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকাগুলোয় সরকারি-বেসরকারি কোনো ত্রাণই এখন পর্যন্ত পৌঁছায়নি। ফলে বন্যার্ত মানুষ সীমাহীন কষ্টে দিন যাপন করছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালীর ৮ উপজেলার ৮৭ ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ২০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। ১ হাজার ১৬৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন দুই লাখ ১৬ হাজার মানুষ। তাদের মধ্যে নগদ ৪৫ লাখ টাকা, ৮৮২ টন চাল, ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৫ লাখ টাকার শিশু খাদ্য ও ৫ লাখ টাকার গো খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।

বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জয় কৃষ্ণরামপুর গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয় নিয়েছেন বিধবা হোসনে আরা। তিনি বলেন, এখানে থাকার মতো, ঘুমাইবার মতো অবস্থা নেই। আল্লাহ আমাদের এভাবে রাখছে। একটা কাপড় একটা জামা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আইসি। আমার সামর্থ্য নাই ঘরবাড়ি করার। ছেলেরাও গরিব। কিচ্ছু করতে পারবে না তারা।

বন্যা না কমলে সব শেষ হয়ে যাবে উল্লেখ করে বৃদ্ধা শাহ আলম বলেন, এত পানি আমি ৭০ সালেও দেখি নাই। ২০২৪ সালে পানি আর পানি। আমাদের ঘরবাড়ি সব ডুবে গেছে। যদি বন্যা না কমে, আমাদের ঘর বাড়ি সব উল্টে যাবে।

জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রথমে আমাদের খাবারের একটু সমস্যা ছিল। এখন আমরা পর্যাপ্ত শুকনো খাবার পাচ্ছি। এছাড়া বিভিন্ন সংস্থা আসছে, ব্যক্তিগতভাবে অনেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসছে। তাছাড়া সরকারিভাবে নগদ ৪৫ লাখ টাকা, ৮৮২ টন চাল, ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৫ লাখ টাকার শিশু খাদ্য ও ৫ লাখ টাকার গো খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। আমাদের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত আছে।বেগমগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান বলেন, আমাদের প্রতিটা ইউনিয়নে সচিবদের সঙ্গে ছাত্রদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা দুর্গত এলাকাগুলোতে সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে।

এছাড়াও অনেকে ব্যক্তিগতভাবে এসে ত্রাণ দিয়ে যাচ্ছেন। সেই হিসাবগুলো আমাদের কাছে নেই। তবে যারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, আমরা প্রতিটা ইউনিয়ন অনুযায়ী তা বন্ধন করছি। তাছাড়া যদি কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করলে সেগুলো আমরা লিখে রাখছি। পরে সেসব এলাকায় খাদ্য সরবরাহ করছি।

টাইমলাইন: ভারতের ঢলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ

তনু হত্যা মামলা সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ

‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ যেন ঢাকার ‘ক্যাসিনো সিটি’

‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ যেন ঢাকার ‘ক্যাসিনো সিটি’ পরিচালনায় সম্রাটের ক্যাসিনো পার্টনার কাশেম

এক তরুণের কোমরে ৩ পিস্তল, গ্রেপ্তার করল পুলিশ

এক তরুণের কোমরে ৩ পিস্তল, গ্রেপ্তার করল পুলিশ

অনুমোদনহীন খাদ্য উৎপাদন, দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

অনুমোদনহীন খাদ্য উৎপাদন, দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App