১৭ বছর পর জুতা পায়ে দিলেন বিএনপি নেতা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহ কিংবা মাঘ মাসের কনকনে শীত—সবকিছুকে উপেক্ষা করে দীর্ঘ ১৭ বছর খালি পায়ে কাটিয়েছেন সুরুজ পাঠান। দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, এমনকি দলীয় সকল কার্যক্রমও করেছেন খালি পায়েই। প্রতিজ্ঞা রক্ষায় দীর্ঘ ১৭ বছর খালি পায়ে থাকার খবর এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনায়।
তবে দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবারও বিএনপি ক্ষমতায় আসায় সুরুজ পাঠান আবার পায়ে জুতা পরেছেন। নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুরা ইউনিয়নের ইয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি। তিনি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
তিনি পেশায় গ্রাম্য ধান-চাল ব্যবসায়ী এবং মৃত কাদির পাঠানের ছেলে। সুরুজ পাঠানের এই অটল রাজনৈতিক বিশ্বাসের গল্প এখন কলমাকান্দার মানুষের মুখে মুখে। ২০০৮ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত খালি পায়ে চষে বেড়িয়েছেন পুরো উপজেলা। এমনকি আশপাশের জেলা শহরগুলোতেও গিয়েছেন খালি পায়েই।
জুতা না পরার প্রতিজ্ঞার বিষয়ে সুরুজ পাঠান বলেন, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়া শেষে আসরের নামাজের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয়দের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। সে সময় ভিড়ের মধ্যে তার পায়ের একটি জুতা কাদায় আটকে খুলে যায়। অনেক চেষ্টা করেও সেটি আর তুলতে পারেননি। ক্ষোভ ও অভিমানে অপর জুতাটিও তিনি সেখানেই ফেলে আসেন। এরপর তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, যতদিন তার দল বিএনপি ক্ষমতায় না আসবে, ততদিন তিনি আর জুতা পায়ে দেবেন না।
দীর্ঘ ১৭ বছর রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে খালি পায়েই ব্যবসা ও দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন সুরুজ পাঠান। সম্প্রতি দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দল ক্ষমতায় আসার পর তার সেই দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হয়। গত বুধবার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ভূইয়া ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মিলে তাকে নতুন জুতা পরিয়ে দেন।
