কুমিল্লার মেঘনা
বেদীতে ফুল দেওয়া নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের হাতাহাতি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
ছবি: সিসিটিভি ভিডিও থেকে সংগৃহীত
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শহীদ বেদীতে ফুল দেওয়া কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমে মেঘনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রমিজ উদ্দিন লন্ডনী ও থানা যুবদলের সভাপতি আতাউর রহমান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আজহারুল হক শাহীন ও যুবদলের সাবেক সভাপতি জালাল আহমেদ জামানের নেতৃত্বে অপর একটি গ্রুপ ফুল দিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর উপজেলা চত্বরে অবস্থানকালে সেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি জালাল আহমেদ জামান বলেন, ফুল দেওয়া শেষে রমিজ উদ্দিন লন্ডনী ও আতাউর রহমান ভূঁইয়ার সঙ্গে কুশল বিনিময় করতে গেলে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় তাকে ‘গুপ্ত জামাতের লোক’ বলে মন্তব্য করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এরপর উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
এদিকে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আজহারুল হক শাহীন বলেন, দলে সমন্বয় ও নির্দেশনার স্পষ্টতা নেই। দীর্ঘদিন ধরে আমি দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলাম এবং ২৪ জুলাইয়ের আন্দোলনে কারাবরণও করেছি। এখন হঠাৎ করে কিছু নতুন মুখ নেতৃত্বের দাবি করছেন। কেউ কেউ আবার বলছেন, তাঁদেরকে নাকি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পক্ষ থেকে ফুল দিতে বলা হয়েছে, কিন্তু এ বিষয়ে আমি পরিষ্কার কোনো নির্দেশনা পাইনি। বিষয়টি দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী আক্তার বলেন, বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির একটি ঘটনা ঘটেছে বলে আমি জানতে পেরেছি। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
