দ্য হিন্দুকে মির্জা ফখরুল
বহুমাত্রিক সহযোগিতায় ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক এগোতে চায় বিএনপি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : সংগৃহীত
ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক কোনো একটি ইস্যুতে আটকে থাকা উচিত নয়, বরং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরো সম্প্রসারিত হওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি মনে করে শেখ হাসিনা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত এবং তাকে বিচারের মুখোমুখি করার জনদাবি রয়েছে। তিনি বলেন, ভারত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠালে তা ইতিবাচক হবে। তবে তাকে ফেরত না পাঠালেও দুই দেশের বাণিজ্য ও বৃহত্তর সম্পর্ক উন্নয়নের পথে তা বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো দ্রুত এগিয়ে নেয়া এবং ভারতের সঙ্গে উন্নয়ন অংশীদারত্ব জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে যে আইনি প্রক্রিয়া চলছে, তা অব্যাহত থাকবে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭৫ সালের আগস্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর তার দুই মেয়ে শেখ রেহানা ও শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছিলেন। সেই সময়ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ভারত সফর করেছিলেন। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই ঢাকায় সফরে এসেছিলেন। পরে ১৯৮০ সালের জানুয়ারিতে জিয়াউর রহমান দিল্লি সফর করে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি এসব উদাহরণকে রাষ্ট্রনায়কোচিত দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে উল্লেখ করেন।
আরো পড়ুন : বাংলাদেশে ১৮ মাস পর আজ দায়িত্ব নিচ্ছে নির্বাচিত সরকার
দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন, ফারাক্কার পানিবণ্টন এবং সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ইস্যু আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের কথা বলা বাস্তবসম্মত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতো তিনিও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, প্রতিশোধ ও সহিংসতার মনোভাব সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। ২০২৪ সালের আগস্টের সহিংস অভ্যুত্থানের পর জাতীয় পর্যায়ে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি এবং এ প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নাম উল্লেখ করেন।
বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচিকে তিনি এমন একটি সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেন, যা বাণিজ্য, ব্যবসা, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ডিজিটাল অবকাঠামোর মতো ক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ কাজের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। প্রযুক্তি শিক্ষায় ভারতের সক্ষমতা এবং বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণের দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
