×

বরিশাল

এসএসসি পরীক্ষা

প্রবেশপত্র বিতরণে ‘রমরমা বাণিজ্য’

Icon

কামরুল হাসান রুবেল, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম

প্রবেশপত্র বিতরণে ‘রমরমা বাণিজ্য’

ছবি: সংগৃহীত

প্রবেশপত্র হাতে পাওয়ার কথা পরীক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তির হলেও পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে তা হয়ে উঠেছে বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ। বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী প্রবেশপত্র বিতরণে কোনো ফি নেই। তবুও উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসায় নানা অজুহাতে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, ফরম পূরণের সময়ই বোর্ড নির্ধারিত পরীক্ষা ফি, কেন্দ্র ফি ও ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি আদায় করা হয়েছে। তখন অতিরিক্ত টাকাও নেওয়া হয়েছিল। এরপরও প্রবেশপত্র নিতে গিয়ে ‘কেন্দ্র খরচ’, ‘পরিচালনা ব্যয়’, ‘শিক্ষকদের যাতায়াত খরচ’সহ বিভিন্ন খাত দেখিয়ে আবারও টাকা নেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৌডুবি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রবেশপত্র বিতরণে ১১০০ টাকা, রাঙ্গাবালী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০০০ টাকা, ছোটবাইশদিয়া ফজলুল করিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০০০ টাকা, কাছিয়াবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০০০ টাকা, টুঙ্গিবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১২০০ টাকা, চরমোন্তাজ আব্দুল ছত্তার স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১০০০ টাকা এবং রাঙ্গাবালী হামিদিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় ১০০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও প্রায় একইভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তবে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০০ থেকে ২০০ টাকা কম নেওয়া হয়েছে।

কাছিয়াবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল বশার বলেন, “আগে কেন্দ্র ছিল একটি। এখন কারিগরিসহ কেন্দ্র হয়েছে ছয়টি। কেন্দ্র খরচের জন্য কেন্দ্র সচিবদের মিটিংয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে এক হাজার এবং অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৮০০ টাকা। আমরা সেভাবেই আদায় করেছি। এক টাকাও বেশি নেইনি।”

ছোটবাইশদিয়া ফজলুল করিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব সাজেদা বেগম বলেন, “আমরা ফরম পূরণের সময় কেন্দ্র ফি নেইনি, এখন নিচ্ছি। এখন এডমিটের টাকা নিচ্ছি, ওটা কেন্দ্রের খরচ। নিয়মিতদের কাছ থেকে এক হাজার এবং অনিয়মিতদের কাছ থেকে ৮০০ টাকা।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার ১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৭৩৪ জন, ১১টি মাদ্রাসা থেকে ৫৩০ জন এবং তিনটি ভকেশনাল শাখা থেকে ৯৬ জনসহ মোট ১ হাজার ৩৬০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। হিসাব অনুযায়ী, প্রতিজনের কাছ থেকে সর্বনিম্ন ৮০০ টাকা করে আদায় করা হলেও মোট অর্থ দাঁড়ায় প্রায় ১০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। এই অর্থ কোথায় যাচ্ছে এবং কারা পাচ্ছেন—এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরম পূরণের সময়ই কেন্দ্র ফি আদায় করা হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই কেন্দ্র ফি’র নামেই প্রবেশপত্র বিতরণের সময় আবারও অর্থ নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের একাডেমিক সুপারভাইজার অনাদি কুমার বাহাদুর বলেন, “অনেক প্রতিষ্ঠান হয়তো ফরম পূরণের সময় খরচ হয়ে যাবে ভেবে কেন্দ্র ফি নেয়নি। তারা এখন কেন্দ্র ফি নিচ্ছে। তবে প্রবেশপত্র বিতরণের সময় টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।”

তবে পরীক্ষার্থীরা বলছেন, “তারা ফরম পূরণের সময়ই কেন্দ্র ফিসহ নির্ধারিত টাকার চেয়েও অতিরিক্ত টাকা দিয়েছিলেন।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গাবালীর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পটুয়াখালী সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মু. আকরাম হোসেন খান বলেন, “দুর্গম এলাকা হিসেবে রাঙ্গাবালীতে কেন্দ্র পরিচালনা ব্যয় কিছুটা বেশি হয়। কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মিটিং হয়েছিল। তখন তারা বলেছেন, ‘কেন্দ্র পরিচালনা ফি ৫০০-৫৫০ টাকা, এতে হয় না।’ তবে এত বেশি টাকা নেওয়ার কথা নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ম্যানহোলে মিলল মানুষের মাথার খুলি-বুকের পাঁজরের কঙ্কাল

ম্যানহোলে মিলল মানুষের মাথার খুলি-বুকের পাঁজরের কঙ্কাল

টেটা যুদ্ধের ঘটনায় ৭০ জনকে আসামি করে মামলা

টেটা যুদ্ধের ঘটনায় ৭০ জনকে আসামি করে মামলা

বিএনপি-ছাত্রদলের সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ

ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দন্দ্ব বিএনপি-ছাত্রদলের সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ

পুলিশে ওপর হামলা, হাতকড়া পরা আসামি ছিনতাই

পুলিশে ওপর হামলা, হাতকড়া পরা আসামি ছিনতাই

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App