পটুয়াখালীতে রাখাইনদের ২৪০ বছর পুর্তি সভা অনুষ্ঠিত
আনোয়ার হোসেন আনু, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) থেকে
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
ছবি: কাগজ প্রতিবেদক
এই প্রথম বারের মত পটুয়াখালীতে আদিবাসী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রাখাইন সম্প্রদায়ের আগমনের ২৪০ বছর পুর্তি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ ) বিকেলে কুয়াকাটার আমখোলাপাড়ায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ম্রাচেত্তনা সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ও রাখাইন কমিউনিটি অফ ওয়াজুয়ান সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত সভায় পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটা পৌরসভা, মহিপুর থানা, রাঙ্গাবালী উপজেলা ও কলাপাড়া উপজেলার রাখাইনরা অংশগ্রহণ করেন। আদিবাসী রাখাইন জনগোষ্ঠী এই প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন উদ্যোগ নেয়। এখন থেকে প্রতিবছর এ অনুষ্ঠান উদযাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
পটুয়াখালী জেলা বৌদ্ধ বিহার সমিতির সভাপতি ও অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির সভাপতি মং খেহান এর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় অন্যন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশন সভাপতি মংলাচিন, রাখাইন সমাজ কল্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক মংতেন, আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মংম্যা প্রমুখ।
জানাগেছে, আজ থেকে ২৪০ বছর আগে জাতিগত দন্দের কারণে আরাকান রাজ্য থেকে বিতাড়িত হয়ে আদিবাসী রাখাইন জনগোষ্ঠী পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার সমুদ্র উপকূলে এসে নিরাপদ আশ্রয় নেয়।
১৭৮৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর তৎকালীন বর্মা রাজা কর্তৃক বিতারিত হয়। ১৭৮৫ সালের প্রথম দিকে ৫০টি নৌকা যোগে ১৫০ টি পরিবার উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিয়ে পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় এসে বসবাস শুরু করে।
আদিবাসী রাখাইন নেতৃবৃন্দ বলেন, আরাকান থেকে বর্ম রাজার পৈশাচিক নির্যাতনের ফলে প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ জনপদ পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার তালতলী, কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলার সমুদ্র ঘেষা অরন্য ভূমিতে এসে আশ্রয় নেয়। এর থেকে এখানেই তারা স্থায়ীভাবে থেকে যান।
এক সময় ৫০ হাজার রাখাইন জনগোষ্ঠী থাকলেও কালের বিবর্তনে সে সংখ্যা এখন ৫ হাজারে নেমে এসেছে। রাখাইরা এখন অস্তিত্ব সংকটে। রাখাইন সংস্কৃতি, ইতিহাস ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে।
এমন অবস্থায় তারা তারা তাদের নতুন প্রজন্মকে আদি ঐতিহ্য সংস্কৃতি ইতিহাস স্বরণ করিয়ে দিতেই বর্ষপূর্তি উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছি।
