মাছের ভাণ্ডার চলনবিল এখন মধুভাণ্ডার
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৫৬ পিএম
সরিষা ক্ষেতের মনমাতানো সৌন্দর্য মুগ্ধ করে শিশুদের।
সরিষা ফুলের সমারোহে নয়নাভিরাম এখন চলনবিল। নাটোরের গুরুদাসপুরসহ চলনবিলাঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সরিষা ফুলের সমারোহ। দুচোখ যেদিকে যায় শুধু হলুদ আর সবুজ ধানের সমারোহ। যেন এক টুকরো মিনি বাংলাদেশ। গাঢ় সবুজের বুকে হলুদের ছিটা।
চলনবিলের বিভিন্ন মাঠ পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, চলনবিলের মাঠজুড়ে এখন সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে। যে দিকে তাকানো যায় চারদিকে শুধুই হলুদের সমারোহ। দেখে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। প্রকৃতির এ মনোরম দৃশ্য দেখে যে কোনো মানুষই মুগ্ধ না হয়ে পারে না। হলুদ ফুলের সুসজ্জিত মাঠে ভ্রমর পাখা মেলেছে উড়ছে। ভ্রমরের গুঞ্জনে কৃষকের মন আন্দলিত। একদিকে সরিষার এই ফুল থেকে প্রতি বছর মধু সংগ্রহ করে লাভবান হচ্ছেন ভ্রাম্যমাণ মৌচাষীরা। অন্যদিকে ফলনও বেশি হয় পরাগায়ণের ফলে। তাই এবারও মৌচাষিরা আসতে ভুলেননি চলনবিলে। এখন তারা মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
[caption id="attachment_190306" align="aligncenter" width="700"]
সরিষা ক্ষেতের মনমাতানো সৌন্দর্য অবলকন করছে দুই শিশু[/caption]
শুধু তাই নয় সরিষা ফুলের এই নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে ছুটে আসছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থেকে ভ্রমণ পিপাসু মানুষগুলো। প্রতিদিনই বাড়ছে পর্যটকের ভিড়। বর্ষায় পানিতে ডুবে টইটুম্বুর থাকে এই চলনবিল, আর শুকনো মৌসুমে মাঠজুড়ে ফুটে থাকে সরিষা ফুল আর বোরো ধানের সবুজের সমারোহ যেন এক টুকরো বাংলাদেশ । মাঝখানে গাড়ো সবুজের বুকে হলুদের ছিটা। এই সৌন্দর্য খুব কাছ থেকে দেখার জন্য দুরদুরান্ত থেকে ছুটে আসে ছোট বড় নানা বয়সের ভ্রমণ পিপাসুরা।
কাজের ফাঁকে ক্লান্তি দুর করতেই এশিয়ার এই সর্ব বৃহৎ বিলে ছুটে আসেন তারা। চলনবিলের সরিষা ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা তানিশা তানহা, মৌমিতা, রাহাতারা, আবতা হোসেন ও টুম্পা জানায়, বর্ষা মৌসুমে একবার এসেছিলাম পানির সৌন্দর্য দেখতে। শুকনো মৌসুমে সরিষা ফুলের হলুদে মেতে থাকা সৌন্দর্যের কথা শুনেই আবার চলে আসলাম। তবে অনেক ভালো লেগেছে। সময় পেলে পুরো চলনবিলটাই ঘুরে দেখার ইচ্ছা ছিল। কিন্ত মন না চাইলেও সময়ের টানে ফিরে যেতে হচ্ছে।
গুরুদাসপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তমাল হোসেন বলেন, চলনবিল বছর জুরেই তার চিরচেনা নানা রূপ আর সৌর্ন্দয্য দিয়ে বিভিন্ন সময় নানা ভাবে বিভিন্ন রূপে পর্যটকদের কাছে টানে। চলনবিলের এই নয়নাভিরাম দৃশ্য না দেখলে চলনবিলের অপার সৌন্দর্যটাই যেন অধরা থেকে যায়।
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিলশা গ্রামের অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, চলনবিলে রাস্তা, ঘাট, ব্রিজসহ সব কিছুতেই বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে।জীবনের শেষ ইচ্ছা চলনবিলে একটা পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা। যেন দূরদূরান্ত থেকে ভ্রমন পিপাসু পর্যটকরা আরাম আয়েশ ও বিশ্রাম করে ভালোভাবে চলনবিলের অবারিত সৌন্দর্য্যকে খুব কাছ থেকে দুচোখ ভরে উপভোগ করতে পারে।
