রাজধানীতে নতুন উত্তেজনা
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:৫৭ এএম
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীতে ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। রাজনীতিতে দেখা দিয়েছে নতুন উত্তেজনা। নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। প্রধান দুই দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন কারা? দুই দল থেকে শেষ মুহূর্তে কারা পাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন? কাউন্সিলর পদ নিয়েও একই অবস্থা। দলীয় মনোনয়ন, নাকি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা? কোন পথে হাঁটবে রাজনৈতিক দলগুলো? ভোটগ্রহণ কি অবাধ ও সুষ্ঠু হবে? ভোটাররা কি নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন? রাজনীতিবিদ, বিশ্লেষকদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকরাও এমন নানা প্রশ্নের উত্তর খোঁজছেন। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী বছরের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। মেয়র ও কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ৩১ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই হবে দুই জানুয়ারি। প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ জানুয়ারি। ভোট উৎসব হবে আগামী ৩০ জানুয়ারি।
প্রায় পাঁচ বছর পর আসন্ন ঢাকা মহানগর দুই সিটি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দল, মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীসহ সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানান প্রত্যাশা। দুই সিটিতেই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চায় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। ভোটের মাঠ ছাড়বে না রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি। নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে জাতীয় পার্টি। এদিকে পুরো নির্বাচনটিই ইভিএমে হবে জানিয়ে নিরপেক্ষ ভোট হবে বলে ভোটারদের আশ্বস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বহুদিন পর সিটি নির্বাচনের হাওয়ায় ভাসছে তিলোত্তমা ঢাকা। নির্বাচনী জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ের একাধিক প্রার্থী। জাতীয় পার্টিও এককভাবে প্রার্থী দেবে। মেয়র প্রার্থী নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি হাইকমান্ডের মধ্যে চলছে নানামুখী হিসাব-নিকাশ। প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরের দৌড়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের ৬ থেকে ১০ জন প্রার্থী। তবে কাউন্সিল পদে দল থেকে প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছেনি আওয়ামী লীগ। এ ব্যাপারে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য
কর্নেল ফারুক খান বলেন, কাউন্সিল পদে দল থেকে প্রার্থী দেয়া হবে, সমর্থন করা হবে নাকি কাউন্সিল পদ উন্মুক্ত থাকবে- এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় বিষয়টি চ‚ড়ান্ত হবে। নির্বাচনের প্রস্তুতির ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা মাঠেই ছিলাম। সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীদের কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত দক্ষ, যোগ্য, স্বচ্ছ ইমেজের প্রার্থীকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়া হবে।
এদিকে প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রকাশ্যে-পরোক্ষভাবে অন্তত ৫ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন বিএনপির। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সচল রাখার জন্যই সিটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে দলটি। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ভোট ছাড়া নেতৃত্বের পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই আমরা এই প্রক্রিয়াকে সচল রাখার জন্যই সিটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। বাংলাদেশে ভোট এবং নির্বাচন দুটোই কলঙ্কিত। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের নামে কী হয়েছে তা শুধু দেশের মানুষ নয়, বিশ্ববাসী জানে। কিন্তু আমরা চাই বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা ফিরে আসুক। এ জন্যই এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। কতটা সফল হবো জানি না। তবে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভ‚মিকা আশা করছি।
অন্যদিকে ভোট দেয়া নিয়ে ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা কাজ করছে। তবে কাউন্সিলদের মাঠে দেখে তারা আশাবাদী। অবশ্য ভোটারদের শঙ্কিত না হওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ইসি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা জানিয়েছেন, এবার দুই সিটির পুরো ভোটই হবে ইভিএমে। তিনি বলেন, সবাই ভোটকেন্দ্রে আসুন ভোট নিরপেক্ষ হবে। সব দলকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নির্বাচন হয়েছিল। নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন ঢাকা দক্ষিণে সাঈদ খোকন ও ঢাকা উত্তরে আনিসুল হক। ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তরে উপনির্বাচনে মেয়র হন আতিকুল ইসলাম।
