×

জাতীয়

আছে আইন, মেলে না সুফল

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:৩৮ এএম

আছে আইন, মেলে না সুফল
বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের সচেতনতা বাড়লেও নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে তাদের সচেতনতা যেন সে রকম বাড়ছে না। দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও অশিক্ষাসহ নানা কারণে নির্যাতিত হচ্ছেন নারীরা। যৌতুক, বাল্যবিয়ে, বহুবিবাহ, তালাকসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রচলিত আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় এবং আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষ সচেতনতা না থাকায় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। সহিংসতার শিকার হয়ে প্রতি বছর অসংখ্য নারীর মৃত্যুও হচ্ছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ২০১৯ সময়কালে ৩ হাজার ৪৪৩টি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ধর্ষণ ১ হাজার ৪১টি, গণধর্ষণ ১৭৮টি, যৌন নিপীড়ন ১৪০টি, হত্যা ৪১৭টি, ধর্ষণের চেষ্টা ১৯৫টি। তাছাড়া অন্য আরো ৩১ ধরনের নির্যাতনের তথ্য উল্লেখ রয়েছে। তথ্যে দেখা যায় ধর্ষণ, গণধর্ষণ, হত্যা, ধর্ষণের চেষ্টার সংখ্যা বেশি। তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে অভিবাসী নারী শ্রমিকরা যৌন হয়রানির শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসছেন। দেশে-বিদেশে নারী নির্যাতনের এই চিত্র বিশেষ উদ্বেগের সৃষ্টি করে। বর্তমানে বাংলাদেশে নারীর অর্জন, অগ্রগতি ও সম্ভাবনার যে চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে, সহিংসতার চিত্র তা ম্লান করে দিচ্ছে। নারী সহিংসতা রোধে আছে আইন, বিভিন্ন ধরনের আন্তর্জাতিক সনদ ও চুক্তি। কিন্তু এগুলোর কোনো বাস্তবায়ন নেই। এসব আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষও সচেতন নন। আবার অনেক নারীই এসব আইন সম্পর্কে জানেনও না। সর্বোপরি আইন প্রয়োগকারী ও আইন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে নারী ও দরিদ্র মানুষের প্রবেশাধিকার নেই বললেই চলে। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধের জন্য আইন ছাড়াও আমাদের প্রয়োজন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনই নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ করতে পারবে। যার মাধ্যমে নারী পাবে সহিংসতার প্রতিকার। গড়ে উঠবে সহিংসতামুক্ত একটি সুন্দর সমাজ। তাই নারীদের প্রতি আমাদের এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে পরিবার ও সমাজ তথা আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ নারী পারিবারিক নির্যাতনের শিকার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন (ভিএডবিøউ) জরিপ অনুযায়ী, দেশের বিবাহিত নারীদের ৮৭ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে নির্যাতনের শিকার। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ বলেছেন, তারা স্বামীর মাধ্যমে শারীরিক নির্যাতন ভোগ করেছেন, ৩৬ শতাংশ যৌন নির্যাতন, ৮২ শতাংশ মানসিক এবং ৫৩ শতাংশ নারী স্বামীর মাধ্যমে অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জরিপে ৮৮ শতাংশ বলেছেন, তারা স্বামীর সংসারে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন, ৮৬ শতাংশ হন মানসিক নির্যাতনের শিকার আর যৌন নির্যাতনের শিকার হন ৫৫ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে কর্মক্ষেত্র। ১৬ শতাংশ নারী কর্মক্ষেত্রে শারীরিক নির্যাতন, ২৬ শতাংশ মানসিক নির্যাতন আর ২৯ শতাংশ যৌন নির্যাতনের শিকার হন। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বে নারী নির্যাতনের ইতিহাস অতি পুরনো। আরব দেশে আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগে কন্যা শিশুদের জ্যান্ত কবর দেয়া হতো। প্রাচীন ভারতে হিন্দু বিধবাদের স্বামীর সঙ্গে জ্বলন্ত চিতায় পুড়িয়ে মারা হতো। বর্তমান সময়ে নতুন বোতলে পুরনো মদের মতোই পাল্টেছে নির্যাতনের ধরন, বদলে গেছে এর সংজ্ঞা ও ক্ষেত্র। ঘরে বাইরে সর্বত্র নারীর জীবনের নিরাপত্তা আজ শূন্যের কোটায়। ধর্ষণ, যৌতুক, খুন, যৌন নির্যাতন, এসিড নিক্ষেপ, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন ধরনের পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে যত্রতত্র। নারী নেত্রীদের মতে, এখন প্রয়োজন সবার বিবেকবোধ জাগ্রত করার, প্রয়োজন এ সহিংসতার বিরূদ্ধে রুখে দাঁড়াবার। কারণ, নারী ও কন্যা শিশুদের ওপর এই পারিবারিক সহিংসতা এখন পর্যন্ত অপেক্ষাকৃত উপেক্ষিত ও অনুচ্চারিত রয়ে গেছে। এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শিল্পী রানী দে বলেন, বাংলাদেশের নারীরা শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি মানসিক নির্যাতনেরও শিকার হন। কিন্তু এসব নির্যাতনের কথা খুব একটা সামনে আসে না। এসব নির্যাতনের জন্য কোনো মামলাও হয় না। শুধু নিম্নবিত্ত বা বিত্তহীন বা অশিক্ষিত পরিবারগুলোতেই নারীরা মানসিক নির্যাতনের শিকার হন না, এ ক্ষেত্রে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষিত নারীরাও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। সমাজবিজ্ঞানী ড. এ এস এম আতীকুর রহমান বলেন, গোটা সমাজ ব্যবস্থায় যে ইতিবাচক পরিবর্তন হওয়া উচিত ছিল তা হয়নি। এখনো সব দুর্ঘটনার জন্য নারীকে দায়ী করা হয়। নারীর জন্য সুরক্ষিত পারিবারিক পরিবেশ আমরা আজও তৈরি করতে পারিনি। ফলে নির্যাতন না কমে বাড়ছে। মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবী সালমা আলী বলেন, পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন-২০১০ আইনটি একটি প্রতিরোধমূলক ও নমনীয় আইন। এটি পারিবারিক নির্যাতনকে অপরাধ হিসেবেও স্বীকৃতি দিয়েছে। এ আইনের আওতায় দেশে ইতোমধ্যে ১১৫টির বেশি মামলা করা হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

 বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে ধানের শীষের বাদশা বিজয়ী

বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে ধানের শীষের বাদশা বিজয়ী

‘‎‎হজ ব্যবস্থাপনার সাথে সরকারের ভাবমূর্তির প্রশ্ন জড়িত’

‘‎‎হজ ব্যবস্থাপনার সাথে সরকারের ভাবমূর্তির প্রশ্ন জড়িত’

১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিনের ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিনের ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

দেশে একদিনে হামে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু

দেশে একদিনে হামে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App