লিভারপুলের শিরোপার বছর
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:৪৪ পিএম
২০১৯ সালে বিশ্ব ফুটবলে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল। কারণ এবছরই ২০০৫ সালের পর দীর্ঘ ১৪ বছর পর ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছে তারা। এবারের শিরোপা জয়ের মাধ্যমে নিজেদের ষষ্ঠ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপাটি নিজেদের ঘরে নেয় তারা। যা ইংলিশ ফুটবলে ইতিহাসে যেকোনো ক্লাবের চেয়ে সবচেয়ে বেশি। আবার এই ২০১৯ এ নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপাও জেতে তারা।
তাছাড়া ২০১৯ সালে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে মাত্র ১ পয়েন্টের ব্যবধানে রানার্সআপ হতে হয় তাদের। এক পয়েন্টে এগিয়ে থেকে লিভারপুলকে পেছনে ফেলে শিরোপা জিতে নেয় ম্যানসিটি। তবে গত মৌসুমে শিরোপা না জেতার আক্ষেপকে যেন শক্তিতে রূপান্তর করে তারা। নতুন মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয়ের দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছে লিভারপুল। তাদের সঙ্গে শিরোপা জয়ের দিক দিয়ে এখন পর্যন্ত কেউ টেক্কা দিতে পারেনি।
এই লিভারপুলের ডিফেন্ডার ভার্জিল ভন ডাইক এবছর জিতেছেন উয়েফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের খেতাব। উয়েফার ইতিহাসে তার আগে কোনো ডিফেন্ডার এই পুরস্কার জিততে পারেনি। শুধু তাই নয় প্রিমিয়ার লিগের প্রথম খেলোয়াড় ও নেদারল্যান্ডের খেলোয়াড় হিসেবে উয়েফার সবচেয়ে সম্মানজনক এই পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। লিভারপুলকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা এনে দেয়ার পুরস্কার স্বরূপ এই পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি।
অন্যদিকে এবার আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতায় আলোচনায় ছিল কোপা আমেরিকা। ব্রাজিলের মাটিতে এবার অনুষ্ঠিত হয়েছিল কোপার ৪৬তম আসর। যেখানে অষ্টমবারের মতো শিরোপা জেতে ব্রাজিল। তবে এবারের কোপায় ব্রাজিলের শিরোপা জয়ের চেয়েও বেশি আলোচনায় ছিল আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা। কোপার আয়োজক কনমেবলের বিরুদ্ধে ব্রাজিলের হয়ে পক্ষপাতিত্ব করার অভিযোগ করেছিলেন মেসি। ফলে তাকে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল সংস্থাটি। মেসি তার নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করলেও কনমেবল তার শাস্তি কমায়নি। তাকে পূর্ণ ৩ মাসের শাস্তি ভোগ করতে হয়।
অন্যদিকে ইউরোপিয়ান আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রতিযোগিতা নেশন্স কাপের শিরোপা জিতেছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা প্রথমবারের মতো আয়োজন করেছিল নেশন্স কাপ প্রতিযোগিতা। আর এটির ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছিল পর্তুগাল।
তাছাড়া এবছরই আয়োজিত হয়েছে ইউরো ২০২০ সালের বাছাই। যেখানে সবচেয়ে বেশি চমক দেখিয়েছে ইতালি। রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়া ২০১৮ বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি তারা। সেই জেদ থেকেই যেন দুর্দান্ত হয়ে উঠেছিল ৪ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তারা ইউরো বাছাইয়ে সবগুলো ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছিল। এছাড়া ২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্লপ থাকা স্পেনও ইউরো বাছাইয়ে দুর্দান্ত ছিল। তারাও অপরাজিত থেকে ইউরোর মূল পর্বের টিকেট কাটে।
