এখনই প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে হবে
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:৩১ পিএম
রাজধানীসহ সারাদেশে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। বাড়ছে নানা রোগব্যাধি। গরমের তুলনায় শীত আরামদায়ক হলেও প্রতি বছর এ সময়ে বেশকিছু বাড়তি রোগব্যাধি দেখা যায়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই সময়টা বেশ জটিলতা তৈরি করে। বিশেষ করে শীতের প্রকোপে ডায়রিয়া রোগ বাড়ছে। গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, শুধু রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আইসিডিডিআরবিতে ভর্তি হচ্ছে। এমন পরিসংখ্যান ভয়ঙ্কর। দেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে রোটা ভাইরাস। ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবের জন্য প্রধানত দায়ী এই ভাইরাস। প্রতি বছরই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন সংখ্যায় শিশুর মৃত্যু ঘটে। এখন থেকে সাবধানতা অবলম্বন জরুরি মনে করছি। চিকিৎসকরা বলছেন, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর শীতের তীব্রতা বেশি। স্বাভাবিক শীতকালীন রোগব্যাধির পাশাপাশি তীব্র শীতে হাইপোথার্মিয়া হতে পারে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি বেশি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এমনিতেই মানুষের শরীরের তাপ উৎপাদন ক্ষমতা কমতে থাকে। এ ছাড়া হাঁপানি, ডায়রিয়া, সর্দি-কাশিসহ অন্যান্য রোগ তো আছেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আইসিডিডিআরবিতে স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৩৫০ রোগী ভর্তি হলেও এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন ৫৫০ থেকে ৬০০ জন ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে। তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশই শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সাত দিনে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৩৬ হাজার ৫৩৮ জন। এই সময়ে ১২ হাজার ৯৩০ জন ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের কারণে ৫ হাজার ৫১৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অপরদিকে বেড়ে গেছে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই প্যারাসিটামলসহ বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিকের বিক্রি, যা উদ্বেগজনক। এভাবে ওষুধ বিক্রি বন্ধ করতে হবে। না জেনে ওষুধ সেবনে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে সচেতনতা ও সেবার মান বাড়ানো দরকার। জনসাধারণকে ঠাণ্ডাজনিত রোগ সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। হাসপাতালে যেসব বৃদ্ধ ও শিশু ভর্তি হচ্ছে তারা বেশিরভাগই দরিদ্র। তাদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ ও সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে কর্তৃপক্ষকে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের চিকিৎসায় গুরুত্ব দিতে হবে এ সময়। শীতজনিত রোগ থেকে বাঁচতে হলে অবশ্যই শীত এড়িয়ে চলতে হবে। শরীর গরম রাখতে গরম পোশাক পরতে হবে, গরম পানি খেতে হবে। এমনকি গোসলের ক্ষেত্রে গরম পানি ব্যবহার করতে হবে। যেহেতু এসব রোগে বয়স্ক ও শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে তাই তাদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। তারপরও যদি কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ে, শ্বাসকষ্টে ঘুমাতে না পারে, ঠোঁট-মুখ নীল হয়ে যায়, বুক স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ওঠানামা করে তাহলে অবশ্যই হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
