×

জাতীয়

অভিযুক্ত তিন বিচারপতির তদন্ত নিয়ে কৌতূহল

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:৪৭ এএম

অভিযুক্ত তিন বিচারপতির তদন্ত নিয়ে কৌতূহল

পেশাগত অসদাচরণ ও অনিয়মের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ থেকে অব্যাহতি দেয়া তিন বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। চার মাস চলতে থাকা এই তদন্ত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। কী প্রক্রিয়ায় তদন্ত হচ্ছে, কতদিন চলবে তা জানেন না কেউ। তবে অভিযোগ প্রমাণ হলে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, তিন বিচারপতির বিরুদ্ধে যে তদন্ত চলছে তা রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি ও মন্ত্রণালয়ের বিষয়। তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না। আর এই বিষয়ে আমার জানারও কথা নয়। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এই ধরনের অভিযোগের তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। সাবেক বিচারপতি এম আমীর উল ইসলাম বলেন, বিচারপতিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রকাশ্যে হওয়া উচিত। কারণ তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল, সেটা সবাই জানতে পারবে।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এম আমিন উদ্দিন বলেন, এটা একদম তদন্তাধীন গোপনীয় বিষয়। এটা কাউকে জানানো হয় না অথবা জানারও বিষয় নয়। তবে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, কোন আইনে এবং কী প্রক্রিয়ায় তদন্ত করা হচ্ছে, তা সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। গত ২২ আগস্ট অসদাচরণের অভিযোগ ওঠায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের তিন বিচারপতিকে বিচারকাজ থেকে

অব্যাহতি দেয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অনুসন্ধান চলছে জানিয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন জানায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন তাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। তিন বিচারপতি হলেন সালমা মাসুদ চৌধুরী, কাজী রেজা উল হক এবং এ কে এম জহুরুল হক। এর আগে গত ১৬ মে নিম্ন আদালতের মামলায় আদেশ বাতিলের অভিযোগ উঠে হাইকোর্টের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহুরুল হকের বেঞ্চের বিরুদ্ধে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের শুনানিতে রায় বাতিলের এ অভিযোগ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। গণমাধ্যমে তখন বিষয়টি প্রকাশ হলে হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. গোলাম রব্বানী বিচারাধীন বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। পরে গণমাধ্যমের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. মো. জাকির হোসেন।

এর আগে গত ১৬ মে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিম্ন আদালতের মামলায় হস্তক্ষেপ করে আদেশ পাল্টে দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল হাইকোর্টের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহুরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চের বিরুদ্ধে। ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণসংক্রান্ত এক রিট মামলায় অবৈধ হস্তক্ষেপ করে আদেশ জারির মাধ্যমে হাইকোর্টের ওই বেঞ্চ রায় পাল্টে দেন বলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে অভিযোগ তুলেছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট অর্থ ঋণ আদালতের (নিম্ন আদালত) মামলাটির সব আদেশ বাতিল ঘোষণা করেছিলেন। তবে এ অভিযোগে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহুরুল হককে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে কিনা সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। একইভাবে বিচারপতি কাজী রেজাউল হকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়েও মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

মূল ভবনের ১০ নম্বর এজলাসে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ দ্বৈত বেঞ্চে বসতেন। বিচারপতি কাজী রেজাউল হক মূল ভবনের ৬ নম্বর এজলাসে এবং বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক এনেক্স ভবনের ৩০ নম্বর এজলাসে বসতেন। বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ২০০২ সালের ২৯ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি নিযুক্ত হন। দুই বছর পর স্থায়ী বিচারপতির শপথ নেন তিনি। বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক ২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল অতিরিক্ত বিচারপতি নিযুক্ত হন এবং ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল স্থায়ী বিচারপতি হন তারা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

 বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে ধানের শীষের বাদশা বিজয়ী

বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে ধানের শীষের বাদশা বিজয়ী

‘‎‎হজ ব্যবস্থাপনার সাথে সরকারের ভাবমূর্তির প্রশ্ন জড়িত’

‘‎‎হজ ব্যবস্থাপনার সাথে সরকারের ভাবমূর্তির প্রশ্ন জড়িত’

১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিনের ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিনের ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

দেশে একদিনে হামে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু

দেশে একদিনে হামে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App