×

জাতীয়

সোনামণিদের নজর কাড়ছে ‘টিস্যু গ্রাউন’ আর ‘গারারা’

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ মে ২০১৯, ১২:৩১ পিএম

সোনামণিদের নজর কাড়ছে ‘টিস্যু গ্রাউন’ আর ‘গারারা’
৬ বছরের ছোট্ট ফুটফুটে উনাইসা মায়ের সঙ্গে এসেছে ঈদের জামা কিনতে। গতকাল রবিবার রাজধানীর কর্ণফুলী গার্ডেন সিটিতে ঘুরে ঘুরে জামা দেখছিল সে। হঠাৎ করেই তার চোখ আটকে গেল দোকানের সামনে পুতুলের (ম্যানিকিন) গায়ে পরিয়ে রাখা গাঢ় খয়েরি রঙের জামায়। এরপরই বায়না ধরল ওই জামাটি তার চাই-ই চাই। জরি, পুঁতিতে জড়ানো পাতলা চিকচিকে জমকালো টিস্যু কাপড়ের ওপরে দুপাশে ঝুলানো গোল ফোলানো জামাটিতে রয়েছে একটি বাড়তি কটি। ওড়নার সঙ্গে মিল করে জরির কাজ করা সালোয়ার। পোশাকটির নাম ‘টিস্যু গ্রাউন’। মেয়ের বায়না মেটাতে পুরো ৪ হাজার টাকা দিয়ে জামাটি কিনলেন মা ফিরোজা বেগম। দোকানিরা জানিয়েছেন, এবারের ঈদে সোনামণিদের পছন্দের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে ‘টিসু গ্রাউন’। দাম ১ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত। টিস্যু গ্রাউন ছাড়াও ‘গারারা’ নামের ইন্ডিয়ার ঢংয়ের ড্রেস। কাতান কাপড়ের ওপরের তৈরি করা জামাটার ওপরের পার্ট কামিজ যা ঝুলে ছোট। সেলোয়ার ঢোলা যার হাঁটুর দিকে ঘোরানো জরি চুমকির কাজ করা। ওড়নায়ও ভারী কাজ। এ পোশাকটি এবারের ঈদে ছোট্ট সোনামনিদের পছন্দের পোশাক। দোকানিরা জানিয়েছেন, ৮ মাস থেকে ১২ বছর বয়সের বাচ্চাদের এই পোশাকটি পাওয়া যাচ্ছে ৮০০ থেকে ৭ হাজার টাকায়। এবার ছেলে সোমামনিদের জন্য মাকের্টে এসেছে ‘ডিজে সেট’। পোশাকটির প্যান্টের পকেট ও শার্টের পকেটে লাইট ও মিউজিক বসানো। সাইজের ওপর নির্ভর করে এর দাম ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা। এ ছাড়াও মোদি সেট, বাবাসেট পাঞ্জাবি-পায়জামা-কটি, শার্ট-প্যান্ট, কুরতা, ফতুয়া ও গেঞ্জি সেট। এসব পোশাকে ডিজাইন ও কাট ছাঁটের পাশাপাশি নামেও রয়েছে ভিন্নতা। ঈদে সোনামণিদের পোশাকে পিছিয়ে নেই দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোও। নবজাতক থেকে শুরু করে ১৬ বছর পর্যন্ত বয়সী বাচ্চাদের পোশাক বিক্রিও হচ্ছে দেদারসে। রাজধানীর নিউমার্কেট, বসুন্ধরা সিটি শপিংমল, যমুনা ফিউচার পার্কসহ বিভিন্ন বিপণি বিতান ঘুরে দেখা গেছে, মেয়ে শিশুদের জন্য গ্রাউন, গারারা, রাজ-থি, বাহুবলি-২ বেবি স্টাইল টপস, পার্টি ফ্রক, গ্রাউন থ্রিপিস, লং-ফ্রক, লং-কামিজ, ঘাগড়াচোলি, টিউনিক ক্যাপি, ডিভাইডার, লেগিংসের পাশাপাশি ওয়েস্টার্ন পোশাকও কিনছেন অভিভাবকরা। রাজধানীর ফরচুন মার্কেটের ৪৯/এ, তৃতীয় তলার চৈতী স্টাইলের কর্ণধার পরিমল দেবনাথ বলেন, এবারের ঈদে সোনামণিদের জন্য এসেছে ভিন্ন রং আর ডিজাইনের সব পোশাক। মেয়ে বাচ্চাদের জন্য এসেছে টিস্যু কাপড়ের ওপরে বিভিন্ন ডিজাইনের সব পোশাক। এ ছাড়া বাজিরাও মাস্তানি, দোপাট, শাড়ি ফ্রক, ওয়েস্টার্ন ডিভাইডার, শাড়ি ফ্লোর টাচ, লং-ফ্রক, লেহেঙ্গাসহ ভিন্ন নামের পোশাক। এসব ড্রেসের দাম পড়বে ২৫০০ টাকা থেকে ৭০০০ টাকা। পোশাকের গুণগত মান ও ডিজাইন অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক ভালো। এখানকার মাহিয়া ফ্যাশন ওয়ারের আবুল্লাহ আল-মুবিন বলেন, আগের বছরগুলোর তুলনায় কালেকশন ভালো বলে ক্রেতারা বেশি আসে। বেচাকেনাও ভালো। রাজধানীর টুইন-টাওয়ার শপিং কমেপ্লেক্সে ছেলেমেয়েকে নিয়ে ঈদের পোশাক কিনতে এসেছেন তুলি-শাহিন দম্পতি। তারা জানান, মেয়ের জন্য গারারা আর ছেলের জন্য ম্যাজিক সেট কিনেছি। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় দামটা একটু বেশি। এখানকার রাকা ফ্যাশন হাউস-২-এর বিক্রয়কর্মী নয়ন জানান, এ বছর মেয়ে শিশুরা ফ্রক ও ফ্লোরটাচ এবং ছেলে শিশুরা শার্ট-প্যান্ট ও পাঞ্জাবি বেশি কিনছে। একেবারে ছোট মেয়েদের জন্য বেশি নিচ্ছে পার্টি ফ্রকগুলো। আবার একটু বড় মেয়েরা নিচ্ছে গ্রাউন ও ফ্লোর টাচ। এদিকে দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো এবার ছেলে শিশুদের ফতুয়া ও টি-শার্টের পাশাপাশি পাঞ্জাবির নকশায় এনেছে নতুনত্ব। পাঞ্জাবিতে কাপড় হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যান্ডি কটন, সিল্ক, মসলিন ও খাদি। উৎসবের আমেজ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন রকম হাতের কাজ দিয়ে। ৭টি বিলুপ্ত প্রায় পাখির থিমে তারা রাঙিয়েছে ছেলেদের শার্ট ও টি-শার্ট। ফতুয়ায় প্রাধান্য পেয়েছে অ্যান্ডি ও সুতি কাপড়। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে ছেলে শিশুদের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে পাঞ্জাবি ৮০০-৩০০০, মোদি সেট ২০০০-৩৫০০, টি-শার্ট ১৫০০-৩০০০, ফতুয়া ৭০০-১০০০ টাকার মধ্যে। গরমের কারণে মেয়ে শিশুদের পোশাকে এবার হাল্কা ও সুতি কাপড়ের প্রাধান্য থাকলেও জমকালো পোশাকগুলোতে ঠিকই ব্যবহৃত হয়েছে কাতান, টিস্যু, মসলিন ও সার্টিন কাপড়। ডিজাইনেও রয়েছে ভিন্নতা। আর বাচ্চাদের পছন্দের কথা মাথায় রেখে বরাবরের মতো এবারো প্রাধান্য পেয়েছে গাঢ় উজ্জ্বল রং। সাইজ আর রঙের ভিন্নতা অনুসারে এসব পোশাকের দামেও রয়েছে বেশ হেরফের। এর মধ্যে ফ্লোর টাচ ৩০০০-৭০০০, লং ফ্রক ২০০০-৫০০০, পার্টি ফ্রকগুলো পাওয়া যাচ্ছে ২৫০০-৪০০০ টাকার মধ্যে। তবে এবার গরমের কথা মাথায় রেখে অনেক বাবা-মা বাচ্চাদের কিনে দিচ্ছেন সুতির আরামদায়ক পোশাক। দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটিতে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন সুরাইয়া রহমান। তিনি জানান, তার ৬ বছরের মেয়ে অধরা বড়দের মতন করে সাজতেই বেশি ভালোবাসে। তাই তার আবদার খালামণির মতো সালোয়ার কামিজ কিনে দিতে হবে। অনেক ঘোরাঘুরির পরও পছন্দের কামিজ না পাওয়ায় মেয়েকে তিনি কিনে দিয়েছেন ফ্লোর টাচ শাড়ি। অন্যদিকে ছেলের জন্য কিনেছেন পাঞ্জাবি আর প্যান্ট-শার্ট।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

চালককে গুলি করে প্রবাসীর গাড়িতে ডাকাতি

চালককে গুলি করে প্রবাসীর গাড়িতে ডাকাতি

শ্যামপুরে স্টিল মিলের বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৮ শ্রমিক

শ্যামপুরে স্টিল মিলের বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৮ শ্রমিক

পাচারকালে ৭ জনকে উদ্ধার করল কোস্ট গার্ড

পাচারকালে ৭ জনকে উদ্ধার করল কোস্ট গার্ড

আ. লীগ শাসনামলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

আ. লীগ শাসনামলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App