×

সম্পাদকীয়

বাজার এবার নিয়ন্ত্রণে আসুক

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:২০ এএম

কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না পেঁয়াজের দাম। বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেও লাভ হচ্ছে না। সঙ্গে বেড়েছে আলুর দামও। গতকাল ভোরের কাগজের একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, দেশের ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজ ও আলুর বাজার ফের অস্থির। বাজারে দেশি নতুন পেঁয়াজ উঠলেও কমেনি দাম। খুচরা বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়, আর প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকায়। পেঁয়াজের পাশাপাশি বেড়েছে আলুর দামও। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা দরে। ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকার কোনো পণ্যের দাম বাড়ালে ব্যবসায়ীরা মিনিটের মধ্যে কার্যকর করে। আর দাম কমালে দিনের পর দিনও কার্যকর হয় না। সরকার নির্ধারিত দাম কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কবল থেকে কোনোভাবেই মুক্তি পাচ্ছেন না সাধারণ ভোক্তারা। দুদিন আগে দ্রব্যমূল্য সব মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা, কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় সবাইকে যুক্ত করাসহ ১১টি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। বর্তমান সময়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ যেন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানা গেছে, দেশে বছরে ৩৪ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। এর মধ্যে নানা কারণে নষ্ট হয়ে যায় ৬-৭ লাখ টন। অর্থাৎ পেঁয়াজের অভ্যন্তরীণ নিট উৎপাদন দাঁড়ায় ২৬-২৭ লাখ টন। অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২৭-২৮ লাখ টন। এই অবস্থায় দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজের চালান বাজারে আসতে শুরু করেছে। প্রায় ২ বছর ধরে বাজারের উচ্চমূল্য সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ভোক্তারা। গত বছরের আগস্টে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৯ শতাংশে পৌঁছানোর পর গত ৬ মাসে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। এর মধ্যেই দফায় দফায় বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে সুযোগ নিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। বাজার মনিটরিং না থাকার কারণে এমন অবস্থার জন্য দায়ী করছে মানুষ। বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি নতুন নয়। সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। চলমান পরিস্থিতিতে স্বল্প আয়ের মানুষের নিত্যদিনের চাহিদায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে। সবমিলে নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম মেটাতে ভোক্তার হাঁসফাঁস অবস্থা। তারা বলছেন, সব কিছুর দাম বাড়ায় সংসার খরচ বেড়ে গেছে। যে কারণে আয়ের সিংহভাগ চলে যাচ্ছে নিত্যপণ্যের পেছনে। চাহিদার সঙ্গে দাম যাতে না বাড়ে, সেজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো দৃশ্যত কিছু বিশেষ ব্যবস্থাও নিয়ে থাকে। তবে আমাদের অভিজ্ঞতায় আছে, এসব ব্যবস্থা বাজার নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক তেমন প্রভাব ফেলতে পারে না। এটা স্পষ্ট, করোনা-দুর্যোগে অনেকের আয়-রোজগার কমে গেছে, অনেকেই হয়েছেন কর্মহীন। এখনো বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে যাতে বাজারকে অস্থিতিশীল করতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখার কথা জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীর সঙ্গে বৈঠক করছেন কর্মকর্তারা। অবশ্য এসব তৎপরতায় তেমন কোনো সাফল্য আমরা দেখি না। আসলে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া এখন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। বাস্তব সত্য হচ্ছে, বাজারের ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পরিপূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। সরকার বাজার মনিটরিংসহ যেসব পরিকল্পনা নিয়েছে এগুলো যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

যুদ্ধ বন্ধে 'চূড়ান্ত ও স্থায়ী' শর্তের আহ্বান: আরাঘচি

যুদ্ধ বন্ধে 'চূড়ান্ত ও স্থায়ী' শর্তের আহ্বান: আরাঘচি

ইরানের আঞ্চলিক প্রতিশোধের ধাক্কা সামলাচ্ছে আমিরাত

ইরানের আঞ্চলিক প্রতিশোধের ধাক্কা সামলাচ্ছে আমিরাত

হরমুজ দিয়ে ত্রাণ পরিবহনে অনুমতি দেবে ইরান

হরমুজ দিয়ে ত্রাণ পরিবহনে অনুমতি দেবে ইরান

‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস’সহ দুই প্রকল্পে ৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ

‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস’সহ দুই প্রকল্পে ৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App