×

ভিডিও

তারেক রহমান কী পারবেন চ্যালেঞ্জ উতরাতে

Icon

আবুল হাসান

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম

দীর্ঘ ১৮ বছরের এক দীর্ঘ সংগ্রাম আর নির্বাসনের পথ পাড়ি দিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নেতাকর্মীদের চোখে আজ নতুন আশার আলো। কিন্তু এই বিজয়ের আনন্দ ছাপিয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে এক বিশাল দায়িত্ব। 

বাংলাদেশের ১৫তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যখন তারেক রহমানের নাম উচ্চারিত হচ্ছে, তখন তার সামনে কেবল সিংহাসন নয়, বরং দাঁড়িয়ে আছে এক ভঙ্গুর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর বাংলাদেশ। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দেওয়া এখন তার জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রথম চ্যালেঞ্জ—একটি দক্ষ ও স্বচ্ছ মন্ত্রিসভা গঠন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মডেল অনুসরণ করে মেধাবী ও সফল পেশাদারদের সরকারে অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। জনগণের প্রত্যাশা—এমন এক কেবিনেট, যেখানে একজন সদস্যও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হবেন না। কিন্তু শুধু মন্ত্রী নিয়োগই শেষ কথা নয় ২য় চ্যালেঞ্জ আমলাতন্ত্র।

গত দেড় দশকের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, পুলিশ আর বিচার বিভাগের যে কাঠামোগত অবক্ষয় হয়েছে, তা সংস্কার করে জনগণের সেবা নিশ্চিত করাই হবে নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রধান অগ্নিপরীক্ষা। আমলাতন্ত্র যেন দমনের হাতিয়ার না হয়ে জনগণের সেবকের ভূমিকায় ফেরে, তা নিশ্চিত করতে হবে শুরুতেই।

নির্বাচনের আগে দেয়া হাজারো প্রতিশ্রুতি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সবকিছু একদিনে ‘আলাদ্দীনের চেরাগের’মতো পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে সাধারণ মানুষ চায় আন্তরিকতার প্রতিফলন। সরকারি দপ্তরে গিয়ে মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, ব্যাংক-বীমার লোপাট হওয়া অর্থ যেন উদ্ধার হয় এবং নতুন কোনো লুটেরা যেন তৈরি না হতে পারে—সেটি নিশ্চিত করতে হবে কঠোর হাতে। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোই হবে অর্থনৈতিক মুক্তি। যা তারেক রহমানের ৩য় চ্যালেঞ্জ।

চতুর্থ বড় চ্যালেঞ্জ—দলের ভেতরে ‘নেগেটিভ ব্র্যান্ডিং’ বন্ধ করা। চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে যে জিরো টলারেন্স নীতি তিনি ঘোষণা করেছেন, তার কঠোর প্রয়োগ দেখতে চায় জাতি। সেই সাথে নতুন প্রজন্মের সাথে ডায়ালগ বা সংলাপ অব্যাহত রাখা জরুরি। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে সুস্থ ও দেশপ্রেমিক ছাত্র রাজনীতির চর্চা নিশ্চিত করে তরুণদের ভিশনারি নেতৃত্বের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। যোগ্য ব্যক্তিকে সঠিক স্থানে নিয়োগ দেয়াই হবে দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের চাবিকাঠি।

রবার্ট ব্রাউনিং-এর সেই ‘প্যাট্রিয়ট’ কবিতার কথা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। যে জনতা গোলাপের পাপড়ি দিয়ে নেতাকে বরণ করে, স্বপ্ন পূরণ না হলে তারাই আবার মুখ ফিরিয়ে নিতে দ্বিধা করে না। তাই প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত হতে হবে সততা ও কর্মনিষ্ঠার। অনিশ্চিত নির্বাসন থেকে জনগণের যে বিপুল আস্থা তাকে আজ এই অবস্থানে বসিয়েছে, তার প্রতিদান দিতে হবে সেবার মাধ্যমে।

বাংলাদেশের ১৫তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান কি পারবেন জনগণের এই আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে? ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কি শুধু স্লোগান হয়ে থাকবে, নাকি তা হবে আগামীর বাংলাদেশের মূলমন্ত্র? সময় এখন তারই অপেক্ষায়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

লোহাগাড়ায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

লোহাগাড়ায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে জার্মানির রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে জার্মানির রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

মিয়ানমারে পাচারকালে সিমেন্টবোঝাই বোট জব্দ, গ্রেপ্তার ১১

মিয়ানমারে পাচারকালে সিমেন্টবোঝাই বোট জব্দ, গ্রেপ্তার ১১

‘বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার’

‘বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার’

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App