×

ভিডিও

আত্মহত্যার জন্য কানাডা থেকে ছুরি এনেছিলাম, সেটা দিয়েই আরিফকে মেরেছি

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৪, ০৬:৫৯ পিএম

আমি খুনি, এটাই সত্য; সারা দুনিয়াও জানে। খুন করে কানাডায় চলে এসেছি। তাই অনেকে ভাবতে পারে, বেঁচে গেছি। আসলেই কি আমি বেঁচে আছি?’- এভাবেই আলোচিত আরিফুল হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে নেন হত্যাকারী পারভীন আক্তার। গেল ৫ জুন বুধবার কানাডা থেকে এক বাংলাদেশি গণমাধ্যমকে এসব কথা জানান জাপানপ্রবাসী আরিফুল ইসলাম খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত পারভীন। জানান- ২০১৯ সাল থেকে ট্র্যাপে পড়েছি। বহুবার সেখান থেকে মুক্তির পথ খুঁজছিলাম। আত্মহত্যাও করতে গিয়েছি কয়েকবার। এরপর কানাডা থেকে বাংলাদেশে এসে গেল ১৮ মে রাজধানীর বসুন্ধরার একটি ফ্ল্যাটে আরিফুল ইসলামকে হত্যার পরের দিনই কানাডায় ফিরে এসেছি।

পারভীনের ভাষ্য মতে, খুন করতে নয়, বরং আত্মহত্যা করার উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু তিনি জানতেন না যে আরিফুলও এমন সময় জাপান থেকে দেশে ফিরবে। দেশে ফেরার পর আরিফ ফোন করে জানতে পারে যে পারভীনও দেশে ফিরে এসেছে। পারভীন জানান- এই সুযোগে নিজেকে শেষ করার জন্য যে ছুরি কানাডা থেকে তিনি নিয়ে এসেছিলেন, সেটা দিয়েই আরিফুলকে হত্যা করেন তিনি।

কিন্তু খুন করার কারণ কি ছিল? এমন প্রশ্নের উত্তরে পারভীন বলেন, তার সংসার তছনছ করে দিয়েছিল আরিফুল। দিনের পর দিন তাকে ধর্ষণ ও মানসিক নির্যাতন করেছে সে। গোপন ভিডিও করে সেই ভিডিও তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানোর হুমকি দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আরিফুল। পারভীনকে এটিএম বুথের মতো ব্যবহার করেছে সে। ব্ল্যাকমেইল করে যখন ইচ্ছা ধর্ষণ করতো। অসহনীয় শারীরিক এবং মানসিক যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে এক পর্যায়ে নিজে আত্মহত্যার করতে গিয়ে উল্টো আরিফকেই হত্যা করেন তিনি। 

আরিফুল ও পারভীন দু’জনেরই গ্রামের বাড়ি নরসিংদীতে। জাপানি এক তরুণীকে বিয়ে করে বছরখানেক ধরে জাপানেই বাস করছিলেন আরিফুল। আর স্বামীর সঙ্গে সুখের সংসার করতে গেল ২ এপ্রিল কানাডায় চলে যান পারভীন। তিনি জানান, ‘পাঁচ বছর আমাকে সে অত্যাচার করেছে, গত ১৭ মে বসুন্ধরার ভাড়া ফ্ল্যাটে ওঠার পরই সে জোর করে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। এর আগে জাপান থেকে আনা মদ খেয়েছিল আরিফুল। আরও কিছু জিনিস এনেছিল, যা আমার চিন্তারও বাইরে ছিল। এরপর যখন আরিফুল ঘুমিয়ে পড়ে তখন মনে হচ্ছিল, আমার সামনে যাকে দেখছি, তা কোনো মানুষের চেহারা নয়। মুহূর্তের মধ্যে কী ঘটে গেছে, তা এখন কল্পনাও করতে পারছি না। এখন কানাডায় একটি সেফ হোমে আছি। দায় মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত আমি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App