×

ভিডিও

রেমালের প্রভাবে যেসব জেলায় ১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৮:৩৯ পিএম

আবহাওয়া জানিয়েছে- অফিস আজ সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রেমাল বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়া রেমালের প্রভাবে দেশের ১৬ জেলায় ৮ থেকে ১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- ইতিমধ্যে পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে নতুন করে ৯ নম্বর বিপৎসংকেত দেখাতে হবে। 

উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী এবং তাদের কাছের দ্বীপ ও চরগুলো ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে।

সরকারি তথ্য অনুসারে ১৯৬০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মোট ৩৫টি বড় ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলা করেছে বাংলাদেশ। আর ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক পাঁচটি ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে অন্যতম সিডর। সিডরের আগে যে ভয়ানক ঘূর্ণিঝড়গুলো আঘাত করেছিল, সেগুলোর কোনো নাম ছিল না। 

সিডরের আঘাতে সরকারি হিসাবে বাগেরহাট জেলায় নিহত হন ৯০৮ জন ও আহত হন ১১ হাজার ৪২৮ জন। আর আম্পানের তাণ্ডবে আট জেলায়   ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ ১৩৮৭ কোটি টাকা। এই ফলে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসে ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। 

চলুন জেনে নেই ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় প্রস্তুতি সম্পর্কে। দুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ১৮২টি মেডিকেল দল কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি উপকূল থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য তৎপরতা চলছে করা হয়েছে।

উপকূলীয় উপজেলাগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে রেমাল মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ছয়টি উপজেলায় ৩৮ টন চালের পাশাপাশি নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রেমাল মোকাবিলার প্রস্তুতি সভাও হয়েছে জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান জানিয়েছেন- এই পরিস্থিতিতে দুর্যোগ মোকাবিলা এবং দুর্গত মানুষের পাশে থাকতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আর জানান, ঘূর্ণিঝড়ের সময় পাহাড়ধসের শঙ্কা রয়েছে। পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলে উদ্ধার তৎপরতার জন্য সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রামে সন্দ্বীপে ১৬২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়। এছাড়া বাঁশখালীতে ১১৭টি, রাঙ্গুনিয়ায় ২১৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়। ১৫ উপজেলায় সকাল ১০টা পর্যন্ত প্রায় কয়েক হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ছাইফুল্লাহ মজুমদার।

এছাড়া মেডিকেল দলও সিভিল সার্জন প্রস্তুত রেখেছেন। বিভিন্ন জায়গায় কাজ শুরু করেছে মেডিকেল টিম। এছাড়া গবাদি পশুদেরও আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত ওরস্যালাইন, শুকনা খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় রেমাল চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর দিকে এগিয়ে ঘনীভূত হতে পারে।

টাইমলাইন: ঘূর্ণিঝড় রেমাল

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App