×

ভিডিও

আমাদের দিয়ে রান্না করিয়ে দস্যুরাই সব খেয়ে ফেলত

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৪, ০৮:৫৩ পিএম

৩৩ দিন জিম্মি থাকার পর গেল ১৩ এপ্রিল সোমালিয়ান জলদস্যুদের জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হয় বাংলাদেশি ২৩ নাবিক। এরপর এমভি আবদুল্লাহ নামক জাহাজটি প্রথমে আমিরাতের আল-হামরিয়া বন্দরে পৌঁছায়। সেখানে থেকে ১৪ মে বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে পৌঁছায় জাহাজটি।

জিম্মি হওয়ার পর উৎকণ্ঠায় থাকা সারাদেশের মানুষ যেন হাফ ছেড়ে বাচে। জাহাজটি বন্দরে পৌঁছালে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশের।

জেটিতে পৌঁছে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাহাজের নাবিকরা। তুলে ধরেন ৩৩ দিন জিম্মি থাকার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। কথা হয় জাহাজের নাবিক অয়েলার আইনুল হক অভির সঙ্গে। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, জলদস্যুরা জাহাজে দুম্বা নিয়ে এসেছিল। তারা আমাদের দিয়েই দুম্বা জবাই করিয়েছিল। তারপর আমাদের বলতো রান্না করতে। আমরা সেগুলো রান্না করতাম, কিন্তু তারা সবটুকু খেয়ে ফেলত। তাছাড়া যেসব খাবার আমাদের জন্য রেখে দিতাম সেগুলোও খেয়ে ফেলতো। জাহাজে সাধারণত কয়েক মাসের খাবার মজুত থাকে। জলদস্যুরা আমাদের ওই খাবারও খেয়ে ফেলেছে।

অভি আরও বলেন, আমরা ফ্লোরে ঘুমাতাম। মশা-মাছি থাকার কারণে রাতে ঠিকমতো ঘুম হতো না। আমাদের প্রতিটি সময় কাটতো দুশ্চিন্তায়। তবে জলদস্যুরা আমাদের কোনো ক্ষতি করেনি। খারাপ আচরণও করেনি।

ওএস পদের নাজমুল হক জানান, ‘জলদস্যুরা সব সময় আমাদেরকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখতো। আমরা ৩৩ দিন জিম্মি ছিলাম। এই ৩৩ দিনকে ৩৩ বছরের মতো মনে হয়েছে। অস্ত্রের মুখে ঈদের নামাজ পড়েছিলাম। তখন পরিবারের কথা খুব মনে পড়েছিল।

ক্যাপ্টেন আতিক ইউএ খান জানান, আন্তর্জাতিক নৌবাহিনী জিম্মি হওয়া জাহাজটিকে যখন চাপের মুখে রাখে তখন দস্যুরা অভিযান বন্ধ করতে আমাদের চাপ দিত ও ভয় দেখাত। বলতো বাড়াবাড়ি করলে জাহাজ তীরে তুলে দেবে।

এমভি আবদুল্লাহর ক্যাপ্টেন আব্দুর রশিদ বলেন, ‘প্রথম দিন যখন আমাদের অ্যাটাক করে, তখন সেকেন্ড অফিসার ব্রিজে ছিলেন। আমি নিচে নেমে অ্যালার্ট দিচ্ছিলাম। সবকিছু অতি দ্রুত ঘটছে। দস্যুরা স্পিডবোটে এসে জাহাজে ওঠে ব্রিজে চলে আসে। আমি আর সেকেন্ড অফিসার আমাদের হিডেন রুমে যেতে পারিনি। সেকেন্ড অফিসার আটক হওয়ার পর আমি গিয়ে দেখি একে-৪৭ তাক করে আছে তার দিকে। আমি যেতেই আমার দিকেও একে-৪৭ তাক করে। এ দৃশ্য দেখে কেউ কেউ কান্নাকাটি করেছিল। আমিও জীবনে প্রথম এমন পরিস্থিতিতে পড়েছিলাম। 

ক্যাপ্টেন রশিদ আরও বলেন, তখন আমি হাত তুলে সারেন্ডার করে বলেছিলাম, আমরা বাংলাদেশি মুসলিম, আমরা রোজা আছি। এসব কথা বলায় তারা আর কিছু করেনি।

গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগর থেকে কেএসআরএম গ্রুপের এই জাহাজটি ছিনতাই করেছিল সোমালিয়ার দস্যুরা। মুক্তিপণ দিয়ে ৩৩ দিনের মাথায় ১৩ এপ্রিল দিবাগত রাতে জাহাজটি মুক্ত হয়। 

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App