×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

খেলা

ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এগিয়ে যারা

Icon

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এগিয়ে যারা

কাগজ ডেস্ক : আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে চলেছে দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা কোপা আমেরিকা, একই দিনে সমাপ্তি ঘটবে ইউরোপের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপেরও। আন্তর্জাতিক ফুটবলে মৌসুমের সেরা দুটি টুর্নামেন্টের শেষ বেলায় এসে ব্যালন ডি’অরের অঙ্কটা পাল্টে যাচ্ছে। এতদিন ধরে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে ফুটবলবোদ্ধারা ব্রাজিলিয়ান তরুণ উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে এগিয়ে রাখলেও শেষ মুহূর্তে এসে কোপা আমেরিকার আসর থেকে ব্রাজিলের বিদায়ে সেই আশা অনেকটা নিভুনিভু। পাঁচবারের বিশ্বকাপ জয়ীদের বিদায়ে শেষ সময়ে এসে বদলে গেছে ব্যালন ডি’অরের সমীকরণ। চলতি বছর ব্যালন ডি’অর ঘোষণা করা হবে আগামী অক্টোবরের ২৮ তারিখ। তবে এই দৌড়ে যারা থাকবেন, তাদের প্রমাণ করার সুযোগ হয়তো শেষ হয়ে যাবে এ মাসেই। তবে আগামী আগস্টের আগে ক্লাব ফুটবলে ব্যস্ততা নেই। তাতেই কোপা আমেরিকা আর ইউরোই হবে খেলোযাড়দের নিজেদের প্রমাণ করার শেষ সুযোগ।

বিশ্বকাপের পর ফুটবলের সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় আসর ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং কোপা আমেরিকা। ব্যালন ডি’অর জয়ের ক্ষেত্রে তাই এ দুটি টুর্নামেন্টেরই প্রভাব ব্যাপক। আর ভোটারদের (মনোনীত সংবাদকর্মী) সিদ্ধান্ত গ্রহণে শেষের স্মৃতিই যে বড় অনুঘটক হয়ে উঠতে পারে, সে তো সহজেই অনুমেয়। তবে ভিনিসিয়ুস কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে পারেননি কার্ডজনিত কারণে। ইউরো এবং কোপায় এখনো সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল বাকি আছে। কার হাতে এ দুটি টুর্নামেন্টের ট্রফি উঠবে তা বলাও বেশ মুশকিল। তবে ভিনি শিরোপা জয়ের রেইস থেকে ছিটকে গেছে আগেই। যদিও জুনের প্রথম সপ্তাহেই ডি’অর এবং ভিনিকে নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেন রিভালদো। এরপর এই তালিকায় যোগ দেন রোনালদো নাজারিও। সপ্তাহ দুয়েক আগে বলেছেন নেইমারও। আর জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে বলেছেন কাকা। বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছেন তারা। তবে এবার সেটা বিপর্যয় হয়ে গেল। যেসব সাংবাদিকরা ব্যালন ডি’অরের জন্য প্রার্থী মনোনীত করবেন তাদের খেয়াল রাখতে হয় তিনটি বিষয়ে। বিবেচ্য সময়ে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স, দলের সাফল্য এবং আচরণ ও ফেয়ার প্লে। প্রথম দুটিতে এ মৌসুমে ভিনিসিয়ুসই এগিয়ে।

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ২০২৩-২৪ এ দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে খেলেছেন ৩৯ ম্যাচ। নিজে করেছেন ২৪ গোল, সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরো ১১টি। তবে স্রেফ সংখ্যা দিয়ে ভিনিসিয়ুসের কৃতিত্ব বোঝা যাবে না। এই ২৪ গোলের তিনটি এসেছে স্প্যানিশ সুপার কাপে বার্সেলোনার বিপক্ষে, একটি এসেছে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে। মাঝে চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে দুই লেগেই ছিলেন তর্কাতীতভাবে সেরা খেলোয়াড়। গোলমুখে একজন নিখাদ স্ট্রাইকার না থাকার পরও যে রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং লা লিগা জিতেছে, তাতে বড় অবদান ২৩ বছর বয়সি এই উইঙ্গারেরই। তবে আচরণ ও ফেয়ার প্লের মানদণ্ডে বেশ পিছিয়ে ভিনি। মৌসুমজুড়ে নিজে যেমন বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন, আবার আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়ার কারণে সমালোচিতও হয়েছেন। আর শেষবেলায় তার দল ব্রাজিল যে কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালই টপকাতে পারেনি, তাতে ভিনির ব্যর্থতাও অন্যতম কারণ। গ্রুপ পর্বে দুই হলুদ কার্ড দেখায় উরুগুয়ের বিপক্ষে শেষ আটের ম্যাচে মাঠেই নামতে পারেননি ভিনিসিয়ুস। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে করা দুই গোলের স্মৃতি সঙ্গী করে টুর্নামেন্ট শেষ করতে হয়েছে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থেকে। ক্লাব পর্যায়ের সাফল্যে বেশ এগিয়ে গেলেও জাতীয় দলের সঙ্গে মহাদেশীয় টুর্নামেন্টের ব্যর্থতা কিছুটা হলেও পিছিয়ে দিচ্ছে ভিনিকে। অপরদিকে ভিনির বড় প্রতিদ্ব›দ্বী জুড বেলিংহাম। ২১ বছর বয়সি ইংলিশ মিডফিল্ডার রিয়ালে যোগ দিয়ে প্রথম মৌসুমেই রীতিমতো হইচই ফেলেছেন। দলগত সাফল্যের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে মৌসুম শেষ করেছেন ৪২ ম্যাচে ২৩ গোল করে ও ১৩ গোল করিয়ে। ব্যালন ডি’অর ভোটে বেলিংহামের পক্ষে কাজ করবে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপও।

ইংল্যান্ডের জার্সিতে শতভাগ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছেন, সেটি তার দলের সমর্থকেরাই হয়তো বলবেন না। কিন্তু ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়া দুটি দুর্দান্ত গোল এরই মধ্যে করে ফেলেছেন বেলিংহাম। গ্রুপ পর্বে সার্বিয়ার বিপক্ষে ইংলিশদের একমাত্র গোলটি তার। আর শেষ ষোলোয় সেøাভাকিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে যাওয়া ইংল্যান্ড যখন টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের মাত্র মিনিট দেড়েক দূরে, তখন বেলিংহামের বাইসাইকেল কিকই উদ্ধার করে ইংল্যান্ডকে।

যে পথ ধরে শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে এখন শেষ চারে খেলার অপেক্ষায় ইংল্যান্ড। মাইকেল ওয়েন তো বলেই দিয়েছেন, বেলিংহামের ব্যালন ডি’অর প্রাপ্য। এদিকে বেলিংহাম বা ভিনিসিয়ুস কে পেছনে ফেলে ইউরোর মাধ্যমে সবচেয়ে বড় দাবিদার হয়ে উঠতে পারেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। রিয়ালে নাম লেখানোর আগে পিএসজিতে শেষ মৌসুমে লিগ জিতেছেন এমবাপ্পে, খেলেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালেও। প্যারিসের ক্লাবটিতে ৪৮ ম্যাচে করেছেন ৪৪ গোল। সর্বশেষ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা এমবাপ্পে এবার ইউরোর সেমিফাইনাল-ফাইনালেও যদি এমন ইতিহাস গড়া কিছু করে ফেলেন, তবে ব্যালন ডি’অর ছুটবে তার দিকেও। এর বাইরে হ্যারি কেইন, ফিল ফোডেন, টনি ক্রুস আর লিওনেল মেসি তো আছেনই।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App