×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

খেলা

গিলেস্পির মনোযোগ পাকিস্তানকে ঘিরে

পাক বধের প্রস্তুতিতে নামছে টাইগাররা

Icon

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পাক বধের প্রস্তুতিতে নামছে টাইগাররা

কাগজ প্রতিবেদক : বিশ্বকাপের লম্বা বিরতির পর আগামী আগস্টে পাকিস্তানে খেলতে যাবে বাংলাদেশ দল। বিশ্বকাপের সুপার এইটে আফগানিস্তানের কাছে হেরে এখন অনেকটা অবসর সময় কাটাচ্ছেন টাইগাররা। যদিও এরই মাঝে আবার অনেকে খেলছেন বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে। এরই মধ্যে সাকিব আল হাসান খেলছেন মেজর লিগ ক্রিকেটে আর মোস্তাফিজ, শরীফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদরা খেলছেন লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে। চলতি মাসে জাতীয় দলের কোনো খেলা নেই। টিম বাংলাদেশের পরবর্তী অ্যাসাইনমেন্ট হলো আগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে পাকিস্তান যাবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ২১ আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডিতে শুরু বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের প্রথম টেস্ট। পরের টেস্ট ৩০ আগস্ট শুরু করাচিতে।

পাকিস্তানের সঙ্গে টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে আগামী ২০ জুলাই থেকে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু হবে সফরের প্রাথমিক প্রস্তুতি। ২০ জুলাই থেকে জাতীয় দলের পূর্ণাঙ্গ আবাসিক অনুশীলন ক্যাম্প শুরু চট্টগ্রামে। যেখানে হেড কোচ হাথুরুসিংহে, প্রধান সহকারী কোচ নিক পোথাস, ব্যাটিং কোচ ডেভিড হ্যাম্প, পেস বোলিং কোচ আন্দ্রে অ্যাডামসসহ সবাই শুরু থেকেই টেস্ট দলের প্রস্তুতি কর্মকাণ্ডে অংশ নেবেন। সব ভিনদেশি কোচ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আপাতত ছুটিতে। ছুটি শেষে তারা চলতি মাসে ১৮-১৯ তারিখ নাগাদ ঢাকা ফিরে আসবেন।

বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স সূত্র নিশ্চিত করেছে, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি দলের বাইরে যারা গত এক বছর টেস্ট দলে ছিলেন, তাদের প্রায় সবাই থাকবেন ওই ক্যাম্পে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াডের বাইরে যারা টিম বাংলাদেশের টেস্ট স্কোয়াডের সদস্য, তারা সবাই বাংলাদেশ টাইগার্সের হয়ে চট্টগ্রামেই অনুশীলন করছেন। তবে মাঝে কয়েকদিনের বিরতি। ১৫ জুলাই থেকে চট্টগ্রামেই বাংলা টাইগার্সের টেস্ট পারফরমাররা লাল বলে প্র্যাকটিস করবেন। জানা গেছে, মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, খালেদ আহমেদ, তাইজুল ইসলামরা টাইগার্সের হয়ে লাল বলে প্র্যাকটিস করছেন।

তারা সবাই ২০ জুলাই থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দলের প্রস্তুতি ক্যাম্পে যোগ দেবেন। এদিকে সদ্য পাকিস্তান টেস্ট দলের দায়িত্ব নিয়েছেন সাবেক অস্ট্রেলীয় পেসার জেসন গিলেস্পি। দায়িত্ব নিতে রবিবারই পাকিস্তানে পৌঁছেছেন গিলেস্পি। তার মতে পাকিস্তান ভীষণ প্রতিভাবান একটি দল। কিন্তু তাদের ধারাবাহিকতা দরকার। তাছাড়া বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্রে পাঁচে অবস্থান করছে বাবর আজমরা। তিনি সেটারও উন্নতি চাইছেন।

আগামী মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজটি হবে কোনো আন্তর্জাতিক দলের কোচ হিসেবে গিলেস্পির প্রথম সিরিজ। অন্যদিকে তার খেলোয়াড়ি জীবনের সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচটিও ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে। কোচ হিসেবেও প্রথম টেস্টে প্রতিপক্ষ সেই বাংলাদেশই। ২০০৬ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন গিলেস্পি। টেস্ট ক্রিকেটে নাইটওয়াচম্যানের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড এখনো সেটিই। পাকিস্তান টেস্ট দলের দায়িত্ব নেয়ার পর গতকাল গিলেস্পির প্রথম সংবাদ সম্মেলনেও এসেছে সে প্রসঙ্গ। বাংলাদেশ দলের প্রসঙ্গটা উঠতেই হেসে গিলেস্পির উত্তর, ‘দেখুন সেই ইনিংসটা হয়ে গেছে আরকি আমি খুবই ভাগ্যবান আমার ক্যারিয়ার নিয়ে। ১০ বছর টেস্ট ক্রিকেট খেলেছি। আমার জন্য বিরাট অর্জন’। সঙ্গে যোগ করেন, ‘এখন আবার বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা। আমার মনোযোগ থাকবে পাকিস্তান যেন ভালো খেলে সেদিকে। আমি অবশ্যই আমার শেষ টেস্ট ম্যাচ নিয়ে পড়ে থাকব না (হাসি)। তবে দারুণ স্মৃতি, এতে কোনো সন্দেহ নেই’। এখন সব মনোযোগ বাংলাদেশের সফরের দিকে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার সব মনোযোগ এখন পাকিস্তান দলের ওপর। আমি কীভাবে পাকিস্তানের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারি, সে চেষ্টা করব। বাংলাদেশ খুব ভালো দল। প্রতিপক্ষ নিয়ে যেভাবে বিশ্লেষণ করা দরকার, আমরা তা করব। চেষ্টা করব তাদের বিপক্ষে যেন প্রভাব বিস্তার করতে পারি। দায়িত্ব নেয়ার পর আমার প্রথম টেস্ট ম্যাচ হবে এটি। আমি সে জন্য মুখিয়ে আছি’।

আগামী ১৭ আগস্ট বাংলাদেশ দলের পাকিস্তান সফরে যাওয়ার কথা। ২১ আগস্ট রাওয়ালপিন্ডিতে শুরু হবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম টেস্ট, করাচিতে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ৩০ আগস্ট।

উল্লেখ্য বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এখন পর্যন্ত ১৩টি টেস্টে মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টিতেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে পাঁচটি পাকিস্তানের মাটিতে ও আটটি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডিতে সর্বশেষ টেস্টে ইনিংস ও ৪৪ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হলে ওই সফরে দ্বিতীয় টেস্টটি বাতিল করা হয়েছিল। ২০০১ সালের আগস্টে মুলতানে এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে বাংলাদেশকে ইনিংস ও ২৬৪ রানে হারিয়ে দেয় পাকিস্তান।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App