×

খেলা

হামবার্গে এমবাপ্পে-রোনালদো দ্বৈরথ

ইউরোতে আজ ফাইনালের আগেই যেন ফাইনাল

Icon

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ইউরোতে আজ ফাইনালের আগেই যেন ফাইনাল

কাগজ ডেস্ক : ইউরোপ ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বের পর রাউন্ড অব সিক্সটিন পর্বও শেষ হয়েছে। ৩২ দল থেকে মুকুটের লড়াইয়ে এখন আছে শুধু আট দল। শীর্ষ এই আট দল নিয়ে আজ মাঠে গড়াচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনাল। আজ স্টুটগার্ট অ্যারেনায় মুখোমুখি হবে ২০০৮ সালের দুই ফাইনালিস্ট স্পেন ও জার্মানি। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায়। ১৬ বছর আগে ভিয়েনায় ফাইনালে ফার্নান্দো তোরেসের একমাত্র গোলে জার্মানিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন। ওই ম্যাচের পর এই প্রথমবার ইউরোপিয়ান মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে দুদল। তিনটি করে শিরোপা জিতে যৌথভাবে ইউরোপের সেরা দলও তারা। শেষ ষোলোয় ডেনমার্ককে ২-০ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিক জার্মানি।

অন্যদিকে, আসরে একমাত্র দল হিসেবে প্রথম চার ম্যাচেই জিতেছে স্পেন, শেষ ষোলোয় জর্জিয়াকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা। শেষ আটের আরেক ম্যাচে লড়বে পর্তুগাল ও ফ্রান্স। হামবার্গে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়। দুবারের ইউরোজয়ী ফ্রান্স শেষ ষোলোয় ১-০ গোলে হারায় বেলজিয়ামকে, সেøাভেনিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে জিতে ২০১৬ সালের চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল। তিন বছর আগে এই দুই দল ইউরোতে গ্রুপ পর্বে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল। পেনাল্টি থেকে রোনালদো জোড়া গোল করলেও ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে অমীমাংসিত ছিল। নকআউট পর্বে যখনই এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছে তখনই বিজয়ী দল শিরোপা জিতেছে।

দিন যত গড়াচ্ছে, স্পেন হয়ে ওঠছে আরো দুর্বার। ছুটছে অজেয় জার্মানিও। এবারের আসরের আয়োজক তারা, ঘরের মাঠে খেলার সুবিধাও পাবে। ইউরোর চারটি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ আর কৌতূহল নিঃসন্দেহে এই ম্যাচকে ঘিরেই। বলা যায় ফাইনালের আগে ফাইনাল এটি। এই ধরনের ম্যাচে ফেবারিট বলে কিছু থাকে না সাধারণত।

তবে স্পেন এবারের আসরে যেভাবে খেলছে, তাদের এগিয়ে রাখলেও খুব বেশি আপত্তি থাকার কথা নয় কারো। যদিও গত কয়েকটি বড় আসরের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে সামনে এগোনোর ইঙ্গিত দিচ্ছে এবারের জার্মানি দল, গ্যালারি ভরা দর্শক সমর্থন তাদের জোগাবে বাড়তি প্রেরণা, তবু সম্ভাবনায় একটু হলেও এগিয়ে স্পেন। লুইস ডি লা ফুয়েন্তের তারুণ্যনির্ভর সাহসী দল আত্মবিশ্বাসী মনোভাব নিয়েই জার্মানির বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছে। ১৯৮৮ সালের পর জার্মানির বিপক্ষে শেষ ছয়টি প্রতিদ্ব›িদ্বতামূলক ম্যাচের একটিতেও পরাজিত হয়নি স্পেন। ছয়টি ম্যাচের তিনটিতে জয় ও তিনটি ড্র হয়েছে। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচকে সামনে রেখে লুইস ডি লা ফুয়েন্তে বলেছেন, ‘আমরা জানি, এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি আমরা। তারা খুব গোছানো একটি দল এবং গ্যালারি ভরা দর্শকের সমর্থনও পাবে। কাজটা কঠিন হবে আমাদের। তবে মানসিকতাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমরা দারুণ এককাট্টা ও একসঙ্গ শক্তিশালী, পরস্পরের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা অগাধ এবং এই চ্যালেঞ্জটাই আমরা চাই, সেরা দলের বিপক্ষে খেলতে এবং সেরাদের হারাতে’।

এদিকে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে দিনের আরেক ম্যাচে পর্তুগালের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। এই দুই দলই আছে মুকুট ফিরে পাওয়ার মিশনে। ফ্রান্স সবশেষ ২০০০ সালে এবং পর্তুগাল ২০১৬ সালে জিতেছিল ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এ পর্যন্ত দুদল ২৮ বার মুখোমুখি হয়েছে। ফ্রান্সের ১৯ জয়ের বিপক্ষে পর্তুগালের জয় ৬টিতে। বাকি ৩ ম্যাচ হয়েছে ড্র। ইউরোতে ৪ বারের দেখায় ফ্রান্স দুটিতে ও পর্তুগাল একটিতে জয়ের মুখ দেখেছে। একটি ম্যাচ ছিল ড্র। আসরটিতে দুই জায়ান্ট ১৯৮৪ সালে প্রথম একে অপরের বিপক্ষে লড়েছে। সেমির সেই মহারণে মিশেল প্লাতিনির গোল্ডেন গোলে ফ্রান্স ২-১ ব্যবধানে জয়ের স্বাদ পায়। ১৯২৬ সালে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে প্রথম লড়াইয়ে ফ্রান্স ৪-২ গোলে জিতেছিল। এ পর্যন্ত তারা একবারই বিশ্বকাপে প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নেমেছে।

মিউনিখের সেই সেমিফাইনালে পেনাল্টি কিকে নিশানা ভেদ করেছিলেন জিদান, একমাত্র গোলের জয়ে ফাইনালে গিয়েছিল ফ্রান্স। তবে এবারের ইউরো আসরে ‘ওপেন প্লে’ থেকে এখনো গোল পায়নি ফ্রান্স। আর পর্তুগালও শেষ দুই ম্যাচে গোলহীন। শেষ ম্যাচ জিতেছে টাইব্রেকারে। নিজ নিজ দলের মতোই বিবর্ণ এমবাপ্পে ও রোনালদো। আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা এমবাপ্পে এবার ফ্রান্সের অধিনায়ক, কিন্তু দলকে টানতে পারছেন না সেভাবে। এ পর্যন্ত একবারই তিনি জালের দেখা পেয়েছেন, তাও গ্রুপ পর্বে পোল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ ড্র ম্যাচে পেনাল্টি থেকে। টাইব্রেকারে সেøাভেনিয়ার বিপক্ষে জালের দেখা পেয়েছিলেন রোনালদো। এর বাইরে লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি আন্তর্জাতিক ফুটবলের রেকর্ড গোলদাতা। এদিকে সেøাভেনিয়ার বিপক্ষে সেই পেনাল্টি শুটআউটের সময় রোনালদোর শারীরিক অবস্থা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে ‘হুপ’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত এই ফিটনেস ট্র্যাকার প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, টাইব্রেকারে শট নেয়ার আগমুহূর্তে রোনালদোর হৃৎস্পন্দন সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। তবে তিনি খুব বেশি বিচলিত হয়ে পড়েননি। প্রতি মিনিটে তার স্পন্দন (বিপিএম) ১০০ এর আশপাশে ছিল।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App