×

খেলা

অবশেষে চোকার্স তকমা ঘোচাল প্রোটিয়ারা

Icon

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

অবশেষে চোকার্স তকমা ঘোচাল প্রোটিয়ারা

কাগজ ডেস্ক : ক্রিকেটে একটা কথা প্রচলিত আছে, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার দৌড় সেমিফাইনাল পর্যন্ত’। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিলিয়ে মোট সাতবার সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়ে ‘চোকার্স’ খ্যাতি পেয়েছিল প্রোটিয়ারা। তবে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আফগানিস্তানকে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিলিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার টিকেট পেল তারা। তাতে দারুণ এ জয়ের মধ্য দিয়ে চোকার্স তকমা গোছাতে পারল প্রোটিয়ারা। সাতবার সেমিফাইনালে হারা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আফগানিস্তান দারুণ এক লড়াই উপহার দিবে এমনটাই প্রত্যাশা করেছিলেন ক্রিকেট ভক্তরা। কিন্তু ৫৭ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকা এক কথায় উড়িয়েই দিয়েছে আফগানিস্তানকে। তবে দল হারলেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করে আপন আলোয় উজ্জ্বল আফগান বোলার ফজলহক ফারুকি। টুর্নামেন্টে আফগানের হয়ে মোট ১৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি।

ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে গতকাল টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে আফগানিস্তান, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং লাইনআপ প্রথমবারের মতো সেমিতে উঠা আফগানিস্তানকে দেখিয়ে দিল ক্রিকেটের বিপরীত এক দিক। যে দিকের সঙ্গে সম্পূর্ণ অপরিচিত ছিল রশিদ খানরা। প্রোটিয়া বোলার মার্কো জানসেন, তাবরাইজ শামসি আর কাগিসো রাবাদার বোলিং আগুনে পুড়ল আফগানদের ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ৫৬ রানে অলআউট হলো আফগানিস্তান। আর তাতেই গড়ল লজ্জার রেকর্ড়। অতীতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কোনো দলের এত কম রানে আউট হওয়ার নজির নেই। ৫৭ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ৫ রানের মাথায় কুইন্টন ডি কক আউট হলেও তাতে বিপদ বাড়েনি প্রোটিয়াদের। হেসে খেলেই ৮.৫ ওভারে নির্ধারিত লক্ষ্যে গিয়েছে তারা। ৯ উইকেটের এক জয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে গেল প্রোটিয়ারা।

দারুণ এ জয়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকাকে ফাইনালে উঠিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন প্রোটিয়া অধিনায়ক এইডেন মার্করাম। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘ভালো লাগছে। এটি একটি দলীয় প্রচেষ্টার ফল। শিরোপা জেতার জন্য আরো একটি ধাপ পার হতে পেরে আমরা আনন্দিত। টস হেরে যাওয়ায় নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। টস জিতলে আমরাও আগে ব্যাটিং করতাম’। বোলারদের প্রশংসা করে প্রোটিয়া অধিনায়ক আরো বলেন, ‘বোলাররা সঠিক জায়গায় বল ফেলতে পেরেছে এবং এই কন্ডিশন পুরোপুর কাজে লাগাতে পেরেছে। যা আমাদের কাজ সহজ করে দিয়েছিল। ব্যাটারদের জন্য এটা (কন্ডিশন) কঠিন কিন্তু পুরোটাই ছিল জুটি গড়ার ব্যাপার। ভাগ্য ভালো যে আমরা দারুণ একটি জুটি গড়েছি’। মার্করামদের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আফগানিস্তানের হারের পেছনে বড় একটা কারণ ছিল কন্ডিশন। এক্সে (সাবেক টুইটার) ম্যাচ কন্ডিশন নিয়ে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন বলেন, ‘সোমবার রাতে সেমিফাইনালে উঠেছে আফগানিস্তান। মঙ্গলবার চার ঘণ্টা ফ্লাইট দেরির পর ত্রিনিদাদে পৌঁছে অনুশীলনের সময় পায়নি। নতুন ভেন্যুর সঙ্গে মানিয়েও নিতে পারেনি’। রশিদ খানদের হারে ভারতকে দোষছেন ভন। পুরো বিশ্বকাপ ভারতের অনুকূলে সূচি সাজানো হয়েছে দাবি করে ভন আরো লেখেন, ‘নিশ্চিতভাবে ম্যাচটি (আফগানিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকা) গায়ানায় (প্রথম সেমিফাইনাল) হতে পারত কিন্তু পুরো ইভেন্টই যখন ভারতকে লক্ষ্য করে সাজানো, তখন অন্যদের সঙ্গে খুবই অন্যায় হয়ে গেছে’।

এদিকে প্রেটিয়াদের বিপক্ষে এমন হারে ম্যাচ শেষে আফগান কোচ জোনাথন ট্রট বলেন, ‘এটা এমন পিচ ছিল না যেটাতে সেমিফাইনালের মতো ম্যাচ আপনি চাইবেন। এটাই সোজাসাপ্টা ব্যাপার। একটা ফেয়ার প্রতিযোগিতা থাকা উচিত বল-ব্যাটের। আমি বলছি না একদম ফ্ল্যাট হবে যেখানে স্পিন হবে না, সিম মুভমেন্ট হবে না। বলছি ব্যাটারদের ভীতির কারণ হয় এমন হওয়াও উচিত না। ফুট মুভমেন্ট যাতে তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে করতে পারে এমন হওয়া উচিত। দক্ষতা কাজে লাগানোর পরিস্থিতি থাকা উচিত’। সেই সঙ্গে জানালেন দলের কোন জায়গায় দুর্বলতা আছে। ট্রট জানালেন, ‘সম্ভবত আমরা গুরবাজ আর ইব্রাহিমের রানের ওপর একটু বেশিই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলাম। আর কেউই রান করতে পারেনি। আমাদের আরো কিছু ব্যাটার দরকার যারা রান করবে এবং ওপেনারদের মতোই ধারাবাহিক হবে। যেটা ম্যাচেও আমাদের সুযোগ বাড়িয়ে দেবে। তাই সামনের দিনে এটাই আমাদের প্রজেক্ট। দক্ষিণ আফ্রিকা খুব ভালো বল করেছে। পিচের আচরণ কাজে লাগিয়েছে। আমাদের মিডলঅর্ডার পুরো টুর্নামেন্টেই ভালো করেনি। গুরবাজ আর ইব্রাহিম ছাড়া কেউ রান করছিল না’।

অন্যদিকে ম্যাচ হেরে আফগান অধিনায়ক রশিদ খান বলেছেন, ‘দল হিসেবে আমাদের জন্য কঠিন এক রাত গেছে। আমরা এর চেয়ে ভালো করতে পারতাম। কিন্তু কন্ডিশন আমাদের সেটা করতে দেয়নি, তবে এটাই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট, আপনাকে যে কোনো পরিস্থিতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে’। ম্যাচ হারের জন্য ব্যাটিং দায়ী উল্লেখ করে রশিদ আরো বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা ব্যাটিংটা ভালো করিনি। ব্যাটিং নিয়ে কিছু কাজ করতে হবে, বিশেষ করে মিডলঅর্ডার কীভাবে খেলাটাকে গভীরে নিয়ে যেতে পারে তা নিয়ে। তবে আমরা দারুণ কিছু অর্জন করেছি, কঠোর পরিশ্রম করে আমরা আবার ফিরব’।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App