×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

খেলা

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আটকে গেল ফ্রান্স

Icon

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আটকে গেল ফ্রান্স

কাগজ ডেস্ক : ইউরোর গ্রুপ পর্বের অন্যতম হাইভোল্টেজ ম্যাচে গতকাল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ড্র করেছে ফ্রান্স। লাইপজিগের রেড বুল অ্যারেনায় আসরের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্সের মুখোমুখি হয়েছিল শক্তিশালী নেদারল্যান্ডস। গোল মিসের ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স-নেদারল্যান্ডস ম্যাচটা ০-০ গোলে ড্র হয়েছে। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে বদলি বেঞ্চে রেখেই গতকাল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ইউরোর চ্যাম্পিয়নশিপে ম্যাচ শুরু করেছিল ফেভারিট ফ্রান্স। এই ম্যাচে জিততে পারলে উভয় দলেরই শেষ ষোলো নিশ্চিত হয়ে যেত। কিন্তু কোনো দলই একে অপরকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। কোনো দলই গোল করতে পারেনি। এবারের ইউরোতে প্রথমবারের মতো কোন ম্যাচ গোলশূন্য শেষ হয়েছে। এদিকে বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ইতিহাস লিখেছে অস্ট্রিয়া। প্রথমবারের মতো তারা পোল্যান্ডকে হারিয়েছে। আগের ছয়বারের দেখায় অস্ট্রিয়া কখনো জিততে পারেনি। এবার ৩-১ ব্যবধানে পোল্যান্ডকে উড়িয়ে ইউরো কাপ জমিয়ে দিল অস্ট্রিয়া। গ্রুপ ‘ডি’ এর লড়াইয়ে দুদলই প্রথম ম্যাচে হারের তিক্ত স্বাদ পেয়েছিল। পোল্যান্ড নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরেছিল। অন্যদিকে ফ্রান্স হারিয়েছিল অস্ট্রিয়াকে। অস্ট্রিয়া দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ালেও জোড়া হারের মুখ দেখল পোল্যান্ড। এই জয়ে ২ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টিকে রইল অস্ট্রিয়া। ‘ডি’ গ্রুপে নেদারল্যান্ডস আর ফ্রান্স একটি করে ম্যাচ খেলে ৩ পয়েন্ট জোগাড় করেছে। প্রথম দল হিসেবে ইউরো থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে পোল্যান্ডের। এদিকে ইউরোতে জমে উঠেছে গ্রুপ ‘ই’ এর লড়াই। নিজেদের প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামকে হারিয়ে চমক দেখানো স্লোভাকিয়া গতকাল হেরে গেছে ইউক্রেনের কাছে। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইউক্রেন হেরেছিল রোমানিয়ার কাছে। সেই হারের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়িয়ে লড়াইয়ে ফিরেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি। স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে শুরুতে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়া ইউক্রেন শেষ পর্যন্ত জিতছে ২-১ গোলে। ডুসেলডর্ফে এ ম্যাচে ফেভারিট হিসেবেই খেলতে নেমেছিল স্লোভাকিয়া। ম্যাচ জিতলেই শেষ ষোলো নিশ্চিত হতো তাদের। অন্যদিকে ইউক্রেনের জন্য এ ম্যাচ ছিল টিকে থাকার। এই ম্যাচে হারলে ইউরোতে টিকে থাকার সম্ভাবনা প্রায়ই শেষ হয়ে যেত তাদের। এমন লড়াইয়ে শুরু থেকে চাপেও ছিল ইউক্রেন। স্লোভাকিয়ার আক্রমণের মুখে একরকম কোণঠাসা হয়েছিল তারা। প্রথমে এক গোল হজম করে পিছিয়ে পড়লেও দ্বিতীয়ার্ধে এসে ঘুরে দাঁড়ায় ইউক্রেনীয় ফুটবলাররা। মাইকোলা শাপারেঙ্কো এবং রোমান ইয়ারেমচুকের গোলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে তারা।

ভাবা হয়েছিল ফ্রান্স-নেদারল্যান্ডস ম্যাচটা উত্তেজনাপূর্ণ একটি ম্যাচ হবে। তবে তা হয়ে দাঁড়িয়েছিল নিরামিষ একটি ম্যাচ। গতকাল নাকে চোটের কারণে খেলেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার অভাব গোটা ম্যাচেই অনুভব করেছে ফ্রান্স। বেশ কিছু ভালো গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল তারা, কিন্তু সঠিক স্ট্রাইকারের অভাবে দুপয়েন্ট রেখে আসতে হলো মাঠেই। গত দুদিন ফেস গার্ড পরে এমবাপ্পেকে অনুশীলনে দেখা গিয়েছিল। গতকালের ম্যাচেও রিজার্ভ বেঞ্চে ফেস গার্ড পরে তাকে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে। তাকে যে প্রথম একাদশে রাখা হবে না তা অনেকেই ভাবতে পারেননি। এমবাপ্পেকে ছাড়া দলকে ৪-৪-১-১ ছকে নামিয়েছিলেন দিদিয়ের দেশ্যম। একদম সামনে ছিলেন মার্কাস থুরাম। একটু পেছনে আঁতোয়া গ্রিজম্যান। প্রথম মিনিটেই নেদারল্যান্ডস একটি সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল।

বল পেয়ে মেমফিস দেপাই পাস দিয়েছিলেন জেরেমি ফ্রিমপংকে। তার শট বাঁচিয়ে দেন ফ্রান্সের গোলকিপার মাইক মাইগনান। ১৪ মিনিটের মাথায় খুবই সহজ সুযোগ নষ্ট করে ফ্রান্স। এরপরে দুদলের খেলার মধ্যেই শ্লথতা লক্ষ করা যায়। ঘর বাঁচিয়ে আক্রমণে ওঠার দিকে নজর দেয় দুদল। যে কারণে খেলা আটকে থাকে মাঝমাঠেই। ফ্রান্সের ফুটবলাররা প্রচুর মিস পাস করতে থাকেন। নেদারল্যান্ডসের কাছে বলের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও তারা আক্রমণে উঠতে পারছিল না। ফিনিশিংয়ের অভাব বারবার প্রকট হয়ে উঠছিল নেদারল্যান্ডসের খেলায়। উইং ধরে আক্রমণের লক্ষ্য নিলেও তা সফল হচ্ছিল না। এমবাপ্পের মতো স্ট্রাইকার না থাকায় ফ্রান্সেরও গোল করার লোকের অভাব স্পষ্ট টের পাওয়া যাচ্ছিল। গ্রিজম্যান খেলা তৈরি করলেও থুরামকে দিয়ে গোল করাতে পারছিলেন না। সহজ একটি ফ্রি-কিকের সুযোগ নষ্ট করেন। কর্নার থেকেও বলার মতো কোনো আক্রমণ ফ্রান্স তৈরি করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স আবার ভালো সুযোগ পেয়েছিল ৬৫ মিনিটের মাথায়, তবে কাজে লাগাতে পারেনি। চার মিনিট পরে এগিয়ে গিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। ফ্রান্সের বক্সের মধ্যে বল নিয়ে কাড়াকাড়ি চলছিল। সেখান থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে শট মেরেছিলেন জাভি সিমন্স। বল জালে জড়ালেও লাইন্সম্যান অফসাইডের নির্দেশ দেন। পরে ভার-এর পরীক্ষাতেও সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। বলা হয়, সিমন্সের শটের সময় ডেনজিল ডামফ্রাইস অফসাইডে ছিলেন এবং গোলকিপারকে ঝাঁপানোর জায়গা দেননি। ওই সিদ্ধান্তে নেদারল্যান্ডসের খেলোয়াড়দের একেবারেই খুশি হতে দেখা যায়নি। পরের দিকে কোনো দলই বলার মতো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। যদিও দুদলের আক্রমণই বজায় থেকেছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App