×

খেলা

কামিন্সের হ্যাটট্রিকের দিনে রিয়াদের অন্যরকম রেকর্ড

Icon

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কামিন্সের হ্যাটট্রিকের দিনে রিয়াদের অন্যরকম রেকর্ড

কাগজ ডেস্ক : প্রতিপক্ষ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার খুব একটা সুখস্মৃতি নেই টাইগারদের। আর্ন্তজাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০ বারের দেখায় ৬ বার টাইগারদের বিরুদ্ধে জয় তুলে নিয়েছিল অজিরা। আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাঁচবারের সাক্ষাতে একক আধিপত্য বিস্তার করে জয় পেয়েছে ক্যাঙ্গারুবাহিনী। তার ব্যতিক্রম হয়নি এবারো। গতকাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটের ম্যাচে বৃষ্টি আইনে টাইগারদের ২৮ রানে হারিয়েছে স্টার্ক-কামিন্সরা। জয়ের এ ম্যাচে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২০০৭ সালে ব্রেট লির করা হ্যাটট্রিকের পরে দ্বিতীয় অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে হ্যাটট্রিক করলেন প্যাট কামিন্স। যা আবার টি-টোয়েন্টির এবারের আসরে প্রথম হ্যাটট্রিক। এবারের টি-টোয়েন্টিতে এর আগেও বেশ কয়েকবার সুযোগ আসলেও সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারেনি কোনো দল। তবে বরাবরের মতো দুর্বল বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনকে পেয়ে কোনো ভুল করেননি অজিরা। তাতে করে টাইগারদের বিপক্ষে আর্ন্তজাতিক টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয়বারের মতো হ্যাটট্রিকের দেখা পেল অজিরা।

এদিকে কামিন্সের আলো ছড়ানোর দিনে অনেকটা লজ্জার রেকর্ডের সাক্ষী হয়েছেন বাংলাদেশে দলের মি. ডিপেন্ডার হিসেবে খ্যাত মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ক্রিকেটের তিন সংস্করণ মিলিয়ে মাহমুদউল্লাহ সবচেয়ে বেশিবার হ্যাটট্রিকের অংশ হয়েছেন।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটিতে প্রথম স্পেলে উইকেটশূন্য ছিলেন কামিন্স। এরপর দ্বিতীয় স্পেলে তিনি আক্রমণে আসেন ১৮-২০ ওভারের মধ্যে। তবে অজি পেসার অবশ্য এক ওভারেই হ্যাটট্রিক পাননি। ১৮তম ওভারের শেষ দুই বলে নিয়েছিলেন দুই উইকেট। এরপর ইনিংসের শেষ ওভারে এসে প্রথম বলেই ফেরালেন তাওহীদ হৃদয়কে। স্কুপ করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে ধরা পড়েছেন তাওহীদ হৃদয়। এর আগের ওভারে শর্ট লেংথের ডেলিভারিতে পুল শটের চেষ্টায় ব্যাট চালিয়ে ব্যর্থ হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ব্যাটের নিচের দিকে লেগে সোজা তার স্টাম্প ভেঙে দেয় বলটি। এরপর ক্রিজে নেমেই আউট শেখ মেহেদীও। এই বিশ্বকাপে প্রথমবার একাদশে সুযোগ পেয়ে প্রথম বলেই কামিন্সকে আপার কাট করতে যান। কিন্তু ডিপ থার্ডে তিনি ধরা পড়েন অ্যাডাম জাম্পার হাতে। তাতে দ্বিতীয় অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করলেন প্যাট কামিন্স। আগের হ্যাটট্রিক ছিল ব্রেট লির। কাকতালীয়ভাবে সেই কীর্তিও ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষেই। সব মিলিয়ে গতকাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম হ্যাটট্রিক পেয়ে গেল কামিন্স। ২০০৭ সালের পর ২০২১ সালের আসরে এসে ৩টি হ্যাটট্রিকের রেকর্ড হয়। প্রথম হ্যাটট্রিক করেন আয়ারল্যান্ডের কার্টিস ক্যাম্পার, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। দ্বিতীয়টি শ্রীলঙ্কার স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। আর এই আসরের শেষ হ্যাটট্রিক করেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার কাগিসো রাবাদা, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এছাড়া গেল ২০২২ সালের আসরে দুটি হ্যাটট্রিক হয়। প্রথমটি আরব আমিরাতের লেগ স্পিনার বোলার কার্তিক মিয়াপ্পানের, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। আর দ্বিতীয়টি আয়ারল্যান্ডের বাঁহাতি পেসার জস লিটলের, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক করা নিয়ে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কামিন্স বলেন, ‘আসলে আমি জানতাম না হ্যাটট্রিক হয়েছে। আগের ওভারে আমি বিষয়টা স্ক্রিনে দেখেছিলাম। পরের ওভারে বল করতে গিয়ে বিষয়টা বেমালুম ভুলে গেলাম। আমার মনে হয় স্টয়নিস দৌড়ে এসে উদযাপন করল। বাকিরা তাতে শামিল হলো, ওহ হ্যাঁ ভালো লাগল’।

কামিন্স হ্যাটট্রিকের বিষয়টি জানতেন না বলে তেমন উদযাপনও ছিল না উইকেট পাওয়ার পর। ওই সময় তার হ্যাটট্রিকটি বেঞ্চে বসে দেখেছেন অ্যাশটন আগার ও এলিস। তাদের কাছ থেকে অভিনন্দন বার্তা পাওয়ার কথা জানান অভিজ্ঞ এই পেসার। কামিন্স বলেন, ‘বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে কয়েকটি হ্যাটট্রিক করেছি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আগে কখনো হয়নি। বেঞ্চে থাকা আগার ও এলিসের হ্যাটট্রিক আছে, ফলে এবার তাদের ক্লাবে যোগ দিলাম। এটি করতে পারা দারুণ ব্যাপার। চমৎকার একটি ক্লাবের অংশ হলাম। তারা আমাকে স্বাগত জানিয়েছে’। এদিকে কামিন্সের হ্যাটিট্রিকের দিনে লজ্জার রেকর্ড় গড়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। অ্যান্টিগার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে গতকাল টানা তিন বলে উইকেট নেয়ার পথে প্রথমেই মাহমুদউল্লাহকে আউট করেন কামিন্স। অফ স্ট্যাম্পের বাইরের খাটো লেংথের ডেলিভারিতে পুল করতে চেয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ।

কিন্তু বল তার ব্যাটে লেগে স্টাম্প ভেঙে দেয়। এরপর মেহেদী হাসানকে ফেরান কামিন্স। নিজের পরবর্তী ওভারের প্রথম বলে তিনি হৃদয়কে আউট করে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এ নিয়ে ষষ্ঠবার বোলারের হ্যাটট্রিকের অংশ হলেন মাহমুদউল্লাহ। বিশ্বের আর কোনো ব্যাটার এতবার হ্যাটট্রিকের অংশ হওয়ার নজির নেই। এমনকি তিন সংস্করণ মিলিয়ে তিনবারের বেশি হ্যাটট্রিকের অংশ হননি কোনো ব্যাটার। এ নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে তিনবার, ওয়ানডেতে দুবার ও টেস্টে একবার এমন দুর্ভাগ্যের শিকার হলেন মাহমুদউল্লাহ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App