×

খেলা

মেসির রেকর্ড গড়ার ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয়

Icon

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মেসির রেকর্ড গড়ার ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয়

কাগজ ডেস্ক : পর্দা উঠেছে কোপা আমেরিকার ৪৮তম আসরের। উদ্বোধনী ম্যাচেই গতকাল কানাডার মুখোমুখি হয়েছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কোপার পর কাতার বিশ্বকাপ জেতা আর্জেন্টিনা টানা তৃতীয় শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে টুর্নামেন্টে এসেছে। মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে গতকাল তাই একটি আসনও ফাঁকা ছিল না। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। কোপা আমেরিকায় উদ্বোধনী ম্যাচে আলবেসিলেস্তেরা কানাডাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে। দারুণ দাপট দেখানো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা প্রথমার্ধ শেষ করে গোলশূন্য ড্রতে। সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে সেই আক্ষেপের মাত্রা আরো বাড়িয়েছেন মহাতারকা লিওনেল মেসি। তবে বিরতির পরই আর্জেন্টিনাকে লিড এনে দিয়ে আনন্দে ভাসান হুলিয়ান আলভারেস। শেষ মুহূর্তের গোলে সেই উদযাপন দ্বিগুণ করেছেন লাওতারো মার্তিনেস। আর্জেন্টিনার দুটি গোলেই রয়েছে মেসির অবদান। ৮৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি এসেছে তার সরাসরি পাস থেকে। মেসির থ্রæ পাস থেকে বল ধরে গোল করেন মার্তিনেস। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দুটি পরিষ্কার গোলের সুযোগ নষ্ট করেছেন মেসি। আতালান্টার মার্সিডিস বেঞ্জ স্টেডিয়ামে গতকাল লিওনেল মেসি পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই ইতিহাস গড়ে ফেলেছেন। কোপা আমেরিকার ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩৫ ম্যাচ খেলার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। একই সঙ্গে তিনি প্রথম কোনো আলবিসেলেস্তে ফুটবলার যিনি সাতটি কোপা আসর খেলছেন। এমন মাইলফলক ছোঁয়া ম্যাচটি মেসি জয় দিয়ে স্মরণীয় করে রাখলেন।

১৯৮৭ কোপা আমেরিকার প্রথম ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনা-পেরু। সেবারের আসরে প্রথম গোলটি ছিল ম্যারাডোনার। তারপর কোপার সব আসরে আর্জেন্টিনা প্রথম ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়নি। তবে ২০১১ কোপায় সেই সুযোগ পেলেও টুর্নামেন্টের প্রথম গোলটি করেছিল বলিভিয়া। ম্যারাডোনার সেই গোলের ৩৭ বছর পর এবারের আসরে কোপা আমেরিকায় প্রথম গোলের দেখা পেল আর্জেন্টিনা। আতালান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে গতকাল ৭০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে ম্যাচটি ছিল উত্তেজনায় ঠাসা। ম্যাচের শুরু থেকে আক্রমণে ব্যস্ত হয়ে উঠে আর্জেন্টিনা। পাঁচ মিনিটের মাথায় লিয়ান্দ্রো পারেদেসের গোলমুখে নেয়া শট ছিল বেশি উঁচু। তবে নবম মিনিটে সবচেয়ে সহজ সুযোগটি পান আনহেল ডি মারিয়া। অভিজ্ঞ এই ফুটবলার অনেকটা একাই পেয়ে গিয়েছিলেন গোলরক্ষককে। কিন্তু তার নেয়া শট থামিয়ে দেন কানাডার গোলরক্ষক। এরপর ১৫তম মিনিটে মেসির নেয়া শটও আটকে দেন কানাডার এক ডিফেন্ডার। ধীরে ধীরে আক্রমণের ধার বাড়ায় কানাডাও। ২৩ মিনিটের মাথায় টানা দুবার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি তারা। পাঁচ মিনিট পর সুযোগ পেয়ে বাইরে মারেন তাজন ভুজ্জান। কানাডার জন্য পরে আরো সহজ সুযোগ এসেছিল। সেইল লরিনের পাওয়া ক্রস থেকে স্টেফেন ইসটাকেউয়ের হেড দুর্দান্তভাবে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন মার্তিনেস। এরপর শেষ দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় আর্জেন্টিনাও। কিন্তু ফাঁকা পেয়েও বল জালে জড়াতে পারেননি হুলিয়ান আলভারেস। তার দুর্বল শট আটকে দেন কানাডার গোলরক্ষক। বিরতি থেকে ফেরার চার মিনিটের মাথায়ই গোল পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা। গোলরক্ষকের ঠিক সামনে থেকে পা ছুঁইয়ে পাশে থাকা হুলিয়ান আলভারেসের কাছে দেন ম্যাক অ্যালিস্টার। ছয় গজ বক্সের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা আলভারেস জোরালো শটে গোল করতে ভুলেননি। এরপর একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে আর্জেন্টিনা। এর মধ্যে সহজ দুটি সুযোগ পান লিওনেল মেসি। ৬৫ মিনিটে এমিলিয়ানো মার্তিনেসের করা লম্বা শট খুঁজে পায় মেসিকে। এক ডিফেন্ডার সঙ্গে থাকলেও বল নিয়ন্ত্রণেই ছিল মেসির। কিন্তু গোলরক্ষককে কাটিয়ে নেয়া তার শট ঠেকিয়ে দেন কানাডার ডিফেন্ডার। কিছুক্ষণ পর কানাডার জনাথন ডেভিডের শট চলে যায় বাইরে দিয়ে। ৭৯ মিনিটে আরো একবার সহজ সুযোগ পান মেসি। লাওতারো মার্তিনেসের কাছ থেকে পাওয়া বল গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে তুলে দেন তিনি। কিন্তু অল্পের জন্য বল চলে যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে। দ্বিতীয় গোলটি শেষ অবধি অবশ্য পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ৮৮ মিনিটে সেটি এসেছে আলভারেসের বদলি হিসেবে নামা মার্তিনেসের পা থেকে। লিওনেল মেসির বাড়ানো থ্রæ বল পেয়ে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান তিনি। দুই গোলের স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। যদিও তাদের সঙ্গী হয়েছে গোল মিসের হতাশা।

ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছেন, ‘আমাদের শুরুটা হয়েছিল সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচের মতো। তবে এবারের সঙ্গে পার্থক্য হচ্ছে, তখন আমরা ভালো মাঠে খেলেছিলাম। সব কিছু বাদ দিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই যে, শেষ পর্যন্ত আমরা জিততে পেরেছি। না হলে এটা এক ধরনের অজুহাত হতো’। এছাড়া মাঠের ঘাস নিয়েও কথা বলেছেন তিনি, ‘আমরা সাত মাস আগে থেকে জানতাম এই মাঠে আমাদের খেলা হবে। কিন্তু মাত্র দুই দিন আগে মাঠের ঘাস পরিবর্তন করা হয়। মাঠটা দেখতে অনেক সুন্দর। সিন্থেটিক ঘাসগুলোও অসাধারণ। কিন্তু আজকে যে ঘাস ব্যবহার হয়েছে সেগুলো খেলোয়াড়দের জন্য আদর্শ নয়’।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App