×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

খেলা

শীর্ষ থেকে এক ধাক্কায় পঞ্চম স্থানে সাকিব

Icon

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শীর্ষ থেকে এক ধাক্কায় পঞ্চম স্থানে সাকিব

কাগজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র পর্ব শেষ করে এখন ক্যারিবীয় দ্বীপে টাইগাররা। আজ নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নিয়ে পুলিশকে দিয়ে মাঠের বাইরেও জড়িয়েছেন নানা রকম সমালোচনা আর নেতিবাচক শিরোনামে। এবার বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো আরো এক দুঃসংবাদ পেয়েছেন সাবেক এই টাইগার দলপতি। আইসিসি টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডারদের র?্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান খুইয়েছেন ব্যাটে-বলে নিষ্প্রভ সাকিব। গতকাল র?্যাঙ্কিংয়ের হালনাগাদ প্রকাশ করে আইসিসি। যেখানে অবনমন হয়েছে সাকিবের। এতে শীর্ষস্থান থেকে এক ধাক্কায় পঞ্চম স্থানে নেমে গেছেন বাংলাদেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার।

চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপসহ বেশ কিছুদিন ধরেই ফর্মহীনতায় ভুগছেন সাকিব। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে নামলে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ অবস্থায় দেখা যাচ্ছে না এই অলরাউন্ডারকে।

২০ ম্যাচে সাকিবের ব্যাটে নাই একটা ফিফটিও। শেষ ২০ ম্যাচে গড় কেবল ১৮। বল হাতেও খুব একটা যে স্বাচ্ছন্দ্যে আছেন, এমনটাও বলা চলে না। উইকেট পাননি। নিজের ওভারও পুরো করতে পারেননি। ২০২০ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে সাকিব খেলেছেন ২৮ টি-টোয়েন্টি ইনিংস। তাতে মাত্র ২৫.১৮ গড়ে নিয়েছেন ৫৫৪ রান। স্ট্রাইক রেট মাত্র ১২৩.৬৫। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের ভূমিকায় থাকা সাকিবের কাছ থেকে যা অপ্রত্যাশিতই বটে। গত চার বছরে সাকিব ফিফটি পেয়েছেন মোটে ৩টি। একই সময়ে বল হাতেও ভুগতে হয়েছে সাকিবকে। ২৮ ইনিংসে বল করে পেয়েছেন ২৯ উইকেট। বোলার হিসেবে বারবার ব্রেকথ্রæ এনে দেয়া সাকিবের নামের পাশে যা কিছুটা বেমানান। অফ ফর্মের সেই ধারা আছে চলমান বিশ্বকাপ দলেও। চলতি বিশ্বকাপে দুই ম্যাচ খেলে সাকিব রান করেছেন ১১, পাননি কোনো উইকেট। যা সাকিবের নামের সঙ্গে মোটেও মানানসই না।

স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে ভক্তদের মনে সাকিবের একাদশে থাকা নিয়েও। সবশেষ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্যাট হাতে ব্যর্থ তিনি। ৪ রানের পরাজয়ে ভেঙেছে ভক্তদের মন। টানা ১৭ বছর দলের প্রয়োজনে পারফর্ম করে আসা সাকিবকে এখন বড্ড অচেনা মনে হয়।

এই সাকিবই কি সেরা অলরাউন্ডার? অনেকে তো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাকিবের অবসর চেয়ে বসেছেন! তবে দর্শকরা কি ভুলেই গেলের অতীতের কথা, অবশ্য কজনই বা মনে রাখেন অতীত। ১৭ বছর বাংলাদেশ দলকে টানা সাকিবকে কি ২-৫ ম্যাচ টানতে পারবে না- প্রশ্ন থেকেই যায়! তবে নিজের ফর্ম নিয়ে সাকিবের ভাবনা কী?

এবার বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচে বাজে পারফরম্যান্সের পর সাকিবের রেটিং পয়েন্ট এখন ২০৮। ৪ ধাপ পিছিয়ে তিনি নেমে গেছেন পাঁচে। ২৩১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ২ ধাপ উন্নতি হয়েছে শীর্ষে উঠে আসা নবির। ৩ ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠেছেন অস্ট্রেলিয়ার মার্কাস স্টয়নিস। তার রেটিং পয়েন্ট ২২৫। এক ধাপ পিছিয়ে তিনে নেমে গেছেন শ্রীলঙ্কার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। আর আগের মতোই চারে আছেন জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা।

র?্যাংকিংয়ে সাকিবের দুঃসংবাদ পাওয়ার দিনে সুখবর পেয়েছেন আরেক ‘সাকিব’, অর্থাৎ তানজিম হাসান। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩ উইকেট নেয়া এই ডানহাতি পেসার ১০৮ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ৯৮তম স্থানে উঠে এসেছেন। আর ১০ ধাপ উন্নতি হয়েছে মোস্তাফিজুর রহমানের। এই বাঁহাতি পেসার উঠে এসেছেন ১৩তম স্থানে। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তার অবস্থানই সবচেয়ে ভালো।

বোলারদের র?্যাংকিংয়ে এগিয়েছেন আরেক পেসার তাসকিন আহমেদও। ৮ ধাপ উন্নতি হয়েছে তার। তিনি আছেন ১৯তম স্থানে। এছাড়া লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ২৪ ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ৩০তম স্থানে। তবে এখানেও পিছিয়েছেন সাকিব। ৬ ধাপ পিছিয়ে তিনি নেমে গেছেন ৩৬তম স্থানে।

অন্যদিকে ছন্দে থাকা ব্যাটার তাওহীদ হৃদয় ব্যাটারদের র?্যাংকিংয়ে এগিয়েছেন ৩২ ধাপ। দুই ম্যাচে যথাক্রমে ৪০ ও ৩৭ রানের ইনিংস খেলা হৃদয় আছেন ২৭তম স্থানে।

দুই ধাপ পিছিয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। তার বর্তমান অবস্থান ৪১তম স্থানে। আর ৬ ধাপ পিছিয়ে ৫০তম স্থানে নেমে গেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে ৪ ধাপ এগিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তিনি আছেন ৭২তম স্থানে। এছাড়া ৫ ধাপ পিছিয়ে ৮৪তম স্থানে নেমে গেছেন সাকিব আল হাসান।

৩৭ পেরুনো সাকিবের সময় ফুরিয়ে গেছে বলে দাবি করলেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার বীরেন্দ্র শেবাগ।

সাকিবের অবসরের সময় হয়ে গেছে কিনা, এমন প্রশ্নে শেবাগ বলেছেন, ‘গত বিশ্বকাপেই আমার এমন মনে হয়েছে, ওকে আর টি-টোয়েন্টিতে খেলানো উচিত নয়। অনেক আগেই ওর অবসর নেয়ার সময় হয়েছে। তুমি এত সিনিয়র ক্রিকেটার, নিজে অধিনায়ক ছিলে, তোমার পরিসংখ্যানের অবস্থা এমন, সাকিবের নিজেরই তো লজ্জা পাওয়া উচিত। নিজেরই বলা উচিত, আমি এই সংস্করণ থেকে অবসর নিচ্ছি’।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App